বেনাপোল কাস্টমসে সোনা চুরি মামলায় আটক সাবেক গোডাউন ইনচার্জ বিশ্বনাথের জবানবন্দি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর বেনাপোল কাস্টমস হাউসের ভোল্ট থেকে প্রায় সাড়ে ১৯ কেজি সোনা চুরির মামলায় আটক সাবেক গোডাউন ইনচার্জ সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা গত বুধবার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি সোনা চুরির সাথে ইতোপূর্বে আটক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শাহিবুর আলমসহ ৩ জন জড়িত থাকতে পারেন বলে তার সন্দেহের কথা প্রকাশ করেছেন। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মামুনুর রহমান তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়া হয়।
খুলনার বাটিয়াঘাটার জয়পুর গ্রামের রনজিৎ কুমার কুন্ডুর ছেলে আটক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বনাথ কুন্ডু জবানবন্দিতে জানিয়েছেন, বেনাপোল কাস্টমস হাউজের পুরাতন ভবনের দ্বিতীয়তলার গোডাউনের দায়িত্বে ছিলেন বেশ কয়েক বছর আগে। এই গোডাউনের বিভিন্ন ভোল্টে সোনা ও বিদেশি মুদ্রা সংরক্ষিত ছিল। এরপর দায়িত্ব থেকে অব্যহতি পাওয়ার পর যথাযথ নিয়মে পরবর্তী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে যথাযথভাবে সবকিছু বুঝে দেন। পরে তিনি ঢাকায় বদলি হয়ে যায়। আর শাহিবুর আলম দায়িত্ব পালনকালে ভোল্টের সোনা চুরি হয়। সোনা চুরি যাওয়ার পর তিনি শাহিবুর আলমের সাথে কথাও বলেছেন। তবে তার সন্দেহ এই সোনা চুরির সাথে শাহিবুরসহ সংশ্লিষ্ট আরও দুজন জড়িত থাকতে পারেন।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের নভেম্বরে বেনাপোল কাস্টমস হাউজের পুরাতন ভবনের দ্বিতীয়তলার গোডাউনের ভোল্টের তালা খুলে চোরেরা ১৯ কেজি ৩১৮ দশমিক ৩ গ্রাম সোনা চুরি করে নিয়ে যায়। যার মূল্য ১০ কোটি ৪৩ লাখ ১৭ হাজার ৩৬২ টাকা। ওই ঘটনার সময় সেখানকার সিসি ক্যামেরা বন্ধ ছিলো। বিষয়টি জানাজানি হলে কাস্টমস হাউজের রাজস্ব কর্মকর্তা এমদাদুল হক বেনাপোল পোর্ট থানায় একটি মামলা করেন। এ ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ গোডাউনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিবুলকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। পরে পুলিশ তাকে এ মামলায় আটক করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক হাসান ইমান আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে তাকে রিমান্ডে নেন। পরে রিমান্ড শেষে শাহিবুরকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন। এরপর তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী ঢাকা থেকে সাবেক গোডাউন ইনচার্জ সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বনাথ কুন্ডুকে আটক করে সিআইডি পুলিশ। গত বুধবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

ভাগ