পদ্মা সেতু চালু হলে মোংলা বন্দর থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয়ের আশা

আলী আকবর টুটুল, বাগেরহাট ॥ মোংলা বন্দরের সমতা বৃদ্ধিতে এগিয়ে চলছে নানা উন্নয়ন কর্মকান্ড। ইতোমধ্যে উলেখযোগ্য কয়েকটি প্রকল্পের কাজ দৃশ্যমান হয়েছে । বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন পদ্মা সেতু চালু হলে রাজধানীর সাথে মোংলা বন্দরের যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আসবে। বন্দর কর্তৃপ বলছেন পদ্মা সেতু নির্মাণের সাথে সাথে বন্দরের একাধিক প্রকল্পের কাজ শেষ হলে, চট্টগ্রাম বন্দরের মত মোংলা বন্দরও ব্যবসায়ীদের কছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বন্দর কর্তৃপ সূত্র জানায়, পৃথিবীর প্রায় সব প্রধান বন্দরের সঙ্গেই মোংলা বন্দরের বাণিজ্য সম্পর্ক রয়েছে। প্রধানত এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকার জাহাজগুলো এই বন্দরে নোঙর করে থাকে। এ বন্দরটি দেশের আমদানি-রফতানির প্রসারে উলেখযোগ্য ভূমিকা রেখে আসছে। পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে সম্প্রতি মোংলা বন্দরকে ঘিরে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উম্মোচিত হয়েছে।
শিপিং এজেন্ট ব্যবসায়ী নুরুল অ্যান্ড সন্স এর স্বত্বাধিকারী এইচ এম দুলাল হোসেন বলেন, ‘মোংলা বন্দর থেকে পণ্য পরিবহনের েেত্র ঢাকা পৌঁছাতে অনেক সময় লেগে যায়। আবার কখনও কখনও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে দুই তিন দিন সময় লেগে যায়। ফলে অনেক পচনশীল দ্রব্য নস্ট হয়ে যায়। এতে অনেক সময় ব্যবসায়ীদের লোকসানের মুখে পড়তে হয়। এখন এই পদ্মা সেতুর কারনে আমরা দ্রুত পণ্য পরিবহন করতে পারবো। যারা ব্যবসায়ী আছি তাদের জন্য পদ্মা সেতু গুরুত্ব বহন করবে।’ বাগেরহাট চেম্বার অব কমার্স এর সভাপতি লিয়াকত হোসেন বলেন, ‘পদ্মা সেতু চালুর মধ্য দিয়ে দণিাঞ্চলের ব্যবসায়ে আমুল পরিবর্তন আসবে। যা দণিাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিলো। অল্প সময়ে কম খরচে ঢাকায় পণ্য পরিবহন করার মাধ্যমে দণিাঞ্চলের মানুষেরা ব্যবসায়ে লাভবান হবে বলে তিনি মনে করেন। মোংলা বন্দর কর্তৃপরে চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান বলেন, ‘বাংলাদেশের দ্বিতীয় সমুদ্র বন্দর হলেও এখানে ৫০/৬০টি জাহাজ নোঙর করতে দেখা যায়। সমুদ্রগামী জাহাজ চলাচলের উপযোগী এ বন্দরের প্রবেশ মুখ ও পশুর নদীর গভীরতা হারিয়ে ফেলায় পরবর্তী সময়ে, বিশেষ করে ১৯৮০ সাল থেকে বন্দরটি প্রায়ই বন্ধ হয়ে যাওয়ার পথে ছিল। বর্তমান সরকারের আমলে নানা দিক দিয়েই বন্দরের ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। বন্দর পুনরায় সচল হয়েছে। সম্প্রতি পদ্মা সেতু নির্মাণের সাথে এ বন্দরে বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কন্টেইনার ইয়ার্ড , সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট পান্ট, বন্দর ব্যবহারকারীদের জরুরি বার্তা সেবা ( ভ্যাসেল ট্রাফিক মেনেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম), অত্যাধুনিক উদ্ধারকারী জাহাজ, ড্রেজিং ব্যবস্থাসহ নানা প্রকল্প। এছাড়া এ বন্দরে রয়েছে ১১টি জেটি, পণ্য বোঝাই ও খালাসের জন্য ৭টি শেড এবং ৮টি ওয়্যারহাউজ। নদীর গভীরে রয়েছে অসংখ্য ভাসমান নোঙর। আমরা আশা করি পদ্মা সেতু চালু হলে মোংলা বন্দর থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় হবে।’

ভাগ