চৌগাছায় পিকুল হত্যা মামলায় কারাবন্দি দুই ছেলেকে নির্দোষ দাবি পঙ্গু বাবার

0

স্টাফ রিপোর্টার, চৌগাছা (যশোর) ॥ ছোট্ট একটি চায়ের দোকান সারা দিন যা বিক্রি হয় লাভের টাকা তুলে দিতেন পঙ্গু বাবার হাতে। এ ভাবেই চলছিল শাহাবুদ্দিনের সংসার। কিন্তু তার দুই ছেলেই এখন প্রতিপরে ষড়যন্ত্রমূলক হত্যা মামলায় কারাবন্দী। দুই হাত হারা বাবা অনেক কষ্টে ব্যবসাকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। বাবার দাবি, তার দুই ছেলে নির্দোষ। সুষ্ঠু তদন্ত হলে গত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য বেরিয়ে আসবে।
সূত্র জানায়, গত ৮ নভেম্বর উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ কয়ারপাড়া গ্রামের দিনমজুর পিকুল হোসেন খুন হন। এ ঘটনায় পুলিশ দুই সহোদরসহ তিন জনকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। দুই সহোদর শরিফুল ইসলাম ও আরিফ হোসেন। তাদের বাবা পঙ্গু শাহাবুদ্দিন। শরিফুল ইসলাম চৌগাছা-যশোর সড়কের ডিভাইন হাসপাতালের পাশে ভাড়া দোকানে চা বিক্রি করেন, আর আরিফ হোসেন স্থানীয় মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্র। আটক অপরজন সাদ্দাম হোসেন ফার্নিচার ব্যবসায়ী। আয়ের একমাত্র উৎস চায়ের দোকান চালাতো ছেলে শরিফুল ইসলাম। সে প্রায় দেড়মাস কারাবন্দী থাকায় চরম কষ্টে দিন পার করছেন পঙ্গু বাবা শাহাবুদ্দিন। সোমবার সরেজমিন দেখা যায়, দুই হাত হারা শাহাবুদ্দিন অনেক কষ্টে টুকিটাকি মালামাল বিক্রি করছেন। চা আর পান বিক্রিতে তার ছোট ভাই সহযোগিতা করছেন। এ সময় কথা হয় শাহাবুদ্দিনের সাথে। তিনি বলেন, ‘আমার দুই ছেলে দশ চড়েও কথা বলে না। বড় ছেলে শরিফুল কাকডাকা ভোরে দোকান খোলে আর অনেক রাতে বাড়ি ফেরে। সারা দিন যা বিক্রি হয় তাই দিয়ে চলে সংসার। আর ছোট ছেলে ৯ম শ্রেণিতে পড়ে। স্কুল বন্ধ তাই বড় ভাইয়ের দোকানে বসে, আবার অনেক সময় মাঠে আমার কাজে সহযোগিতা করে। তারা দুই ভাই এখন হত্যা মামলায় কারাগারে।’ শাহাবুদ্দিনের দাবি তার ছেলেরা কখনও খুন করতে পারে না। অভাব অনটনের সাথে লড়াই করে তিনি সন্তানদের বড় করছেন। প্রতিপক্ষ তাকে ঘায়েল করতে হত্যার মত একটি জঘন্য ঘটনা তার পরিবারের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। এ কারণে মূল হত্যাকারী রয়ে গেছে আড়ালে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলাটি অধিকতর তদন্তসহ মূল রহস্য উদ্ঘাটনে তিনি আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।