শিক্ষার্থীর হতাশা ও শিক্ষায় করোনাকালীন সংকট মোকাবেলায় প্রয়োজন সুষ্ঠু পরিকল্পনা

0

বৈশ্বিক প্রোপটে দেশের শিার গুণগত মানের সূচক ক্রমান্বয়ে তলানির দিকে। অবস্থা এমন যে, উচ্চশিার বৈশ্বিক সূচকে দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় হাজারের তালিকাতেও নেই। করোনা মহামারীকালে আমাদের শিাব্যবস্থা আরো নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। বলা চলে, ‘লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে’। শিাবষেৃর কোনো সূচিই আর ঠিক নেই। বিশেষ করে, উচ্চ শিাপ্রতিষ্ঠানের হতশ্রী অবস্থা উৎকটভাবে ধরা পড়ছে। এতে উচ্চ মাধ্যমিক- পরবর্তী শিার্থীরা বিপাকে রয়েছেন। বিশেষ করে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবেন, তাদের মানসিক চাপ দিন দিন বাড়ছে। ভর্তি বিষয়ে জটিলতা কাটিয়ে উঠতে যে তৎপরতা থাকা প্রয়োজন, তাতে ঘাটতি রয়েছে বলে মনে হয়। বিশেষ করে গুচ্ছ পদ্ধতিতে যে ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীা হবে, সেগুলোতে সব ছাত্রের ভর্তির বিষয়ে স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত এখনো নেয়া হয়নি। নয়া দিগন্তে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য উল্লেøখ করা হয়েছে।
চলতি শিাবর্ষে দেশের ১৯টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীা নেয়া হবে। এই পদ্ধতিতে মোট তিনটি পরীা হবে। এর মধ্যে একটি পরীা হবে বিজ্ঞানের শিার্থীদের জন্য, আরেকটি মানবিকের জন্য এবং অপরটি ব্যবসায় শিা ছাত্রছাত্রীদের জন্য। বিভাগ পরিবর্তনে আলাদা বিভাগ থাকবে না। তিনটির মধ্যেই বিভাগ পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে। গুচ্ছ পদ্ধতিতে এ বছর ভর্তি পরীায় দ্বিতীয় মেয়াদের প্রার্থীরা হয়তো ভর্তি পরীায় অংশ নিতে পারবেন, কিন্তু বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ভর্তি পরীা নেবে না বলে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। ফলে ভর্তি ইচ্ছুকদের বড় একটি অংশ যারা আবার ভর্তি পরীা দিয়ে অপোকৃত ভালো প্রতিষ্ঠানে শিা গ্রহণের অপোয় ছিলেন; তারা হয়তো সেই সুযোগ আর পাবেন না।
এমন সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছেন গত বছর উচ্চ মাধ্যমিকে ভালো ফল করলেও কাক্সিত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে না পারা শিার্থীরা। তাদের আশা ছিল, পরবর্তী বছর ফের ভর্তি পরীায় অংশ নিয়ে স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবেন। কিন্তু চলতি শিাবর্ষে গুচ্ছ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠেয় ১৯ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সেই আশা ফিকে হয়ে আসছে। এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় মেয়াদের ভর্তি ইচ্ছুক শিার্থীদের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত না নেয়ায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, আগামী ১৯ ডিসেম্বর ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলররা বসে গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা। ফলে গত বছর যারা ভর্তি হননি কিংবা হতে পারেননি; তাদের শিাজীবন অনিশ্চয়তায় নিপতিত হয়েছে। তারা দ্বিতীয়বারের মতো ভর্তি পরীায় অংশ নিতে পারলেও এই ১৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকগুলোতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন। অবশ্য, এগুলোর কয়েকটিতে তিন বছর আগে থেকেই পুরনো ছাত্রছাত্রী ভর্তির সুযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আবার কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ভালো ছাত্র পাওয়ার প্রত্যাশায় কিংবা সব ছাত্র যাতে ভর্তির সুযোগ পান, সে জন্য দ্বিতীয় মেয়াদের শিার্থীদের সুযোগ দিচ্ছে।
করোনাকালে এমনিতেই দেশের শিাপ্রতিষ্ঠানগুলো যে সঙ্কটকাল অতিক্রম করছে, তাতে সব শিার্থীর শিাজীবনে একধরনের অবসাদ নেমে এসেছে। আর সমগ্র জীবনের কর্মকাণ্ড অনেকাংশে যার ওপর নির্ভর করে, সেই উচ্চশিায় যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে আসতে ‘নতুন বাস্তবতা’ মোকাবেলায় কী করণীয়; সংশ্লিষ্টদের দ্রুত এটা নির্ধারণ করতে হবে। তবেই শিাব্যবস্থায় স্বাভাবিকতা ফিরতে পারে।