চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ আর নেই

লোকসমাজ ডেস্ক॥ ফরিদপুর (সদর-৩) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। জ্যেষ্ঠ এ নেতার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ গতকাল বুধবার দুপুর সোয়া ১টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে গুলশানের আজাদ মসজিদে মরহুমের প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে হয় দ্বিতীয় জানাজা। মরহুমের লাশ শুক্রবার ফরিদপুরে পারিবারিক কবরস্থানে তার বাবার কবরের পাশে দাফন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ ফরিদপুর জেলার বাঙালি জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। কামাল ইউসুফের পিতামহ ছিলেন জমিদার চৌধুরী মঈজউদ্দীন। তার পিতা ইউসুফ আলী চৌধুরী (মোহন মিয়া) ব্রিটিশ শাসনামলে একজন বিশিষ্ট মুসলিম লীগ নেতা ছিলেন। তার চাচা চৌধুরী আবদুল্লাহ জহিরউদ্দীন (লাল মিয়া) আইয়ুব খানের সরকারে মন্ত্রিসভায় ছিলেন এবং অন্য চাচা এনায়েত হোসেন চৌধুরী পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সদস্য ছিলেন। ১৯৭৯ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠিত হলে চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ যোগ দেন। ১৯৭৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি সংসদে নির্বাচিত হন। ১৯৮১ সালে তিনি বিচারপতি আব্দুস সাত্তার সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।
১৯৯১ সালে তিনি আবার নির্বাচিত হন এবং প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হন। ১৯৯৬ সাধারণ নির্বাচনে তিনি জয়ী হলেও তার দল বিএনপি আওয়ামী লীগের কাছে হেরে মতা হারায়। তিনি ২০০১ সালের নির্বাচনেও জিতেছিলেন, তারপরে তিনি খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী হয়েছিলেন। ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি তার আসন হারান। তিনি সর্বশেষ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এক শোকবার্তায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ বাংলাদেশের একজন দক্ষ, অভিজ্ঞ ও দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ ছিলেন। নিজ এলাকায় একজন জনপ্রিয় নেতা হিসেবে অত্যন্ত সুপরিচিত ছিলেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর নীতি ও আদর্শে গভীরভাবে আস্থাশীল এবং বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী দর্শনে বিশ্বাসী মরহুম চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ কেবলামাত্র বৃহত্তর ফরিদপুর নয়, বরং দেশের জনগণ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের নিকট ছিলেন অত্যন্ত সমাদৃত। বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলে বিএনপিকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে তিনি নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করে গেছেন। জনসেবার মহান লক্ষ্য সামনে নিয়ে রাজনীতি করতেন বলেই পাঁচবারের এমপি এবং ৮১, ৯১ ও ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের মন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকাসহ সারাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে ব্যাপক অবদান রাখেন। তাঁর মতো আদর্শনিষ্ঠ রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে তিনি গভীরভাবে ব্যথিত হয়েছেন বলেও জানান। তিনি মরহুম কামাল ইবনে ইউসুফের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকার্ত পরিবারবর্গ, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। অপর এক শোকবার্তায় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বরেণ্য এই রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও শহীদ জিয়ার নীতি ও আদর্শই ছিল মরহুম চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের রাজনৈতিক জীবনের পথচলা। বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ মরহুম ইউসুফ আলী চৌধুরী মোহন মিয়ার জেষ্ঠ্য সন্তান ছিলেন তিনি। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে তিনি আদর্শনিষ্ঠ জীবন-যাপন করেছেন এবং এজন্য জনগণ তাঁকে চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর ছিল অবিচল আস্থা। তিনি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হয়ে দ্বিতীয়, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে বিএনপি সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দেশ-জাতি-জনগণের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। তিনি মরহুম চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যবর্গ, আত্মীয়স্বজন এবং শুভাকাঙ্খীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

ভাগ