হোয়াইটওয়াশ এড়াল অস্ট্রেলিয়া
স্পোর্টস ডেস্ক॥ তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটা জিতে ভারতের বিপে টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়িয়েছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। মঙ্গলবার সিডনিতে ভারতকে ১৮৭ রানের ল্য দিয়ে ১২ রানে জয় তুলে নেয় অজিরা। প্রথমে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৮৬ রান তুলেছিল দলটি। ভারত ল্য তাড়া করতে নেমে ৭ উইকেটে ১৭৪ রানে থামে। এর আগে প্রথম দুই ম্যাচে পরাজিত হয় অস্ট্রেলিয়া। অবশ্য সফরের শুরুতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ জিতে নিয়েছে স্বাগতিকরা। প্রথম দুই ম্যাচে জিতেছিল অজিরা। পরে শেষ ওয়ানডে জিতে হোয়াইটওয়াশ এড়ায় ভারত। টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি স্বাগতিকদের। রানের খাতা খেলার আগেই আউট হন ওপেনার অ্যারন ফিঞ্চ। তবে অপর প্রান্তে আরেক ওপেনার ম্যাথু ওয়েড ছিলেন অবিচল। ৫৩ বল মোকাবিলায় সাত বাউন্ডারি ও দুই ওভার বাউন্ডারিতে ওয়েডের ৮০ এবং মিডল অর্ডারে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের ঝড়ে বড় সংগ্রহ করে অস্ট্রেলিয়া। ৩৬ বল মোকাবিলায় তিনটি করে বাউন্ডারি ও ওভার বাউন্ডারি হাঁকান ম্যাক্সওয়েল। এ ছাড়া দলের পে তৃতীয় সর্বোচ্চ ২৩ বলে ২৪ রান করেন স্টিভেন স্মিথ। ভারতের ওয়াশিংটন সুন্দর ৩৪ রানে শিকার করেন ২ উইকেট।
জবাবে শুরুটা ভাল হয়নি ভারতেরও। রানের খাতা খেলার আগেই দলীয় শূন্য রানেই আউট হন ওপেনার লোকেশ রাহুল। আরেক ওপেনার শিখর ধাওয়ান করেন ২৮ রান। তবে তিন নম্বরে ব্যাট হাতে নেমে অধিনায়ক বিরাট কোহলি খেলেছেন ৮৫ রানের ঝোড়ো ইনিংস। ৬১ বল মোকাবিলায় চার বাউন্ডারি ও তিন ওভার বাউন্ডারিতে নিজের ইনিংস সাজান কোহলি। এ ছাড়া দলের পে তৃতীয় সর্বোচ্চ ২০ রান করেন সিরিজ সেরা নির্বাচিত হওয়া হার্দিক পান্ডিয়া। ৪ ওভারে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন অস্ট্রেলিয়ার মিচেল সুইপসন। সীমিত ওভারের সিরিজ শেষে চার টেস্টের সিরিজ শুরু করবে দুই দল। প্রথম টেস্ট শুরু ১৭ ডিসেম্বর।
এক ম্যাচে দুই সেঞ্চুরি, শান্তকে হতাশায় ডুবিয়ে ইমনের হাসি
স্পোর্টস ডেস্ক॥ বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টিতে চলছিল বোলারদের দাপট। কুড়ি ওভারের ফরম্যাটে ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থ হওয়ায় প্রতিযোগিতাটি সেভাবে আকর্ষণ করতে পারছিল না দর্শকদের। সব আয়োজন জমা ছিল সম্ভবত ফরচুন বরিশাল-মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী ম্যাচে। এক ম্যাচেই যে দেখা মিললো দুই সেঞ্চুরির! প্রতিযোগিতাটির প্রথম সেঞ্চুরি পেলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তাতেও অবশ্য শেষ রা হয়নি রাজশাহীর। পারভেজ হোসেন ইমনের বিধ্বংসী ইনিংসে ম্লান শান্তর ইনিংস। যুব বিশ্বকাপজয়ী ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরিতে বরিশাল পেয়েছে ৮ উইকেটের বিশাল জয়।
অবিশ্বাস্য, অসাধারণ এক জয়। শান্তর ৫৫ বলে খেলা ১০৯ রানের ঝড়ো ইনিংসে রাজশাহী ৭ উইকেট হারিয়ে স্কোরে ২২০ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায়। কঠিন এই ল্য ইমনের ৪২ বলে হার না মানা ১০০ রানের টর্নেডো ইনিংসে ১১ বল হাতে রেখে ২ উইকেট হারিয়ে টপকে যায় বরিশাল। ৮ উইকেটের অসাধারণ জয়ের পরও ৪ পয়েন্ট নিয়ে এখনও তালিকার তলানিতে তামিমরা। মঙ্গলবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আগে ব্যাটিং করে ২২০ রানের সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছিল রাজশাহী। জবাবে শুরুটা দারুণ করে বরিশালের দুই ওপেনার। দলীয় ৪৪ রানে ফিরে যান সাইফ হাসান। যাওয়ার আগে ১৫ বলে ২৭ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। দ্বিতীয় উইকেটে ইমনকে সঙ্গে নিয়ে অধিনায়ক তামিম ঝড় তোলেন। ৩৭ বলে ৫৩ রান করে তামিমের ঝড় থামলেও থামেননি ইমন। দুর্ভাগ্যজনক রান আউটের শিকার হওয়ার আগে তামিম ৫ চার ও ১ ছক্কায় নিজের ইনিংসটি সাজান। অন্যদিকে আফিফকে সঙ্গী করে ইমনের ঝড় চলতেই থাকে। ইনিংসের ১১ বল আগে ইমনের হাত থেকেই জয়সূচক রান আসে বরিশালের। ততণে ইমন ৪২ বলে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের দ্রুততম সেঞ্চুরির জায়গাটি দখলে নেন। ৯ চার ও ৭ ছক্কায় অপরাজিত ১০০ রানে ইমন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি সাজিয়েছেন। অন্যপ্রান্তে ১৬ বলে ২৬ রানে অপরাজিত থাকেন আফিফ হোসেন। রাজশাহীর বোলারদের মধ্যে ৪০ রান খরচায় ১ উইকেট নিয়েছেন সাইফউদ্দিন। এর আগে টস হেরে ব্যাটিং করা রাজশাহী দুর্দান্ত শুরু করেছিল। দুই ওপেনার আনিসুল ইসমান ইমন ও শান্তর দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে বরিশালের বিপে ২২০ রানের স্কোর গড়ে রাজশাহী। দুই ওপেনারের দারুণ শুরুতে ১২ ওভারেই ১৩১ রান জমা করে স্কোরবোর্ডে। ৩৯ বলে ৬৯ রান করার পথে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হাফসেঞ্চুরির দেখা পান আনিসুল। ৭ চার ও ৩ ছক্কায় আনিসুল নিজের ইনিংসটি সাজিয়েছেন। তার বিদায়ের পর তিন নম্বরে নামা রনি তালুকদার শুরু থেকেই ছিলেন আক্রমণাত্মক। ১২ বলে ২ ছক্কায় ১৮ রান করে আউট হন তিনি। রনির বিদায়ের পর দ্রুত ফিরে যান মোহাম্মদ আশরাফুলের জায়গায় ব্যাটিং করা মেহেদী হাসান। আগের ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। মিডল অর্ডারের ব্যর্থতার দিনে সব আলো নিজের দিকে টেনে নেন নাজমুল। টুর্নামেন্টের প্রথম সেঞ্চুরি এসেছে বাঁহাতি এই ওপেনারের ব্যাট থেকে। ৫২ বলে ৪ চার ও ১০ ছক্কায় নাজমুল টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পেয়েছেন। শেষ পর্যন্ত ৫৫ বলে ১১ ছক্কা ও ৪ বাউন্ডারিতে থামেন ১০৯ রানে। কামরুল ইসলামের বলে কভারে তামিমের তালুবন্দী হন তিনি। বরিশালের কামরুল ইসমলাম ৯ রান খরচায় নিয়েছেন ৪ উইকেট। কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে চতুর্থ বাংলাদেশি হিসেবে ৪ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন এই পেসার। এছাড়া ৪৩ রান খরচায় সুমন খান নেন ২ উইকেট।
কাতারে হারের সমালোচনা নিতে পারছেন না ডে
স্পোর্টস ডেস্ক॥ বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন কাতারের কাছে ৫-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। অথচ এশিয়ান চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে হারের আগে হার নয় বলে লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া খেলোয়াড়দের অসহায় আত্মসমর্পনই করতে হয়েছে ম্যাচে। লাল-সবুজ দলটির ইংলিশ কোচ জেমি ডে অবশ্য হারটাকে আগে থেকেই স্বাভাবিকভাবে নিয়েছেন। ম্যাচ হারের পর ‘সমালোচনা’ তাই নিতে পারছেন না।
কাতার থেকে দল আগেই দেশে ফিরেছে। আসেননি ডে। তিনিসহ অন্য বিদেশি কোচিং স্টাফরা যার যার দেশে ফিরে গেছেন। লন্ডনে আপাতত ডে বিশ্রামে আছেন। করোনার পর ডাক্তার তাকে ৩- ৪ সপ্তাহ বিশ্রামে থাকতে বলেছেন। ডে আগেই বলেছেন তিনি ছাত্রদের পারফরম্যান্সে খুশি, ‘নেপালের বিপে দুটি ম্যাচ হয়েছে। এরপর কাতারের বিপে খেলেছে দল। আমি মনে করি যে পরিস্থিতিতে তিনটি ম্যাচ খেলেছে ছেলেরা, ভালো করেছে। তাদের পারফরম্যান্সে আমি খুশি। কাতারের ম্যাচে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের ৮ জন খেলোয়াড় খেলেছে। কেউ এটা দেখছে না। বাংলাদেশে শুধু আমরা নেতিবাচক বিষয়গুলোই আমরা নিই।’ কাতারের কাছে বড় ব্যবধানে হারবে দল, তা আগেই বুঝতে পারছিলেন ডে। যদিও তার অধিনায়ক বলছিলেন অন্তত একটি পয়েন্ট চান, ‘কাতার এশিয়ান চ্যাম্পিন। তাদের কাছে বড় ব্যবধানে হারতে হবে তা আগেই বুঝতে পারছিলাম। আমাদের প্রস্তুতি মাত্র পাঁচ সপ্তাহের। করোনায় খেলা বন্ধ ছিল। আর ওরা (কাতার) তো লিগ খেলেছে। শক্তিশালী প্রতিপরে বিপে ম্যাচ খেলেছে। তাই ম্যাচের আগেই বলেছিলাম ওদের ম্যাচটি জেতা উচিত। আর জামাল যদি পয়েন্টের কথা না বলতো তাহলে দেখা যেত ওই সময় ওকে সবাই নেতিবাচক বলতো।’ আগামীতে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বর ম্যাচের আগে অন্তত দুটি করে প্রীতি ম্যাচ খেলতে চাইছেন তিনি, ‘আগামীতে বাছাইপর্বের ম্যাচগুলোতে ভালো করতে হলে অন্তত দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে চাই। এমন দলগুলোর বিপে খেলতে চাই যেখানে আমাদের ভালো করার সুযোগ আছে। র্যাঙ্কিং বাড়ার সুযোগ থাকবে। ছেলেরা আরও অভিজ্ঞ হবে। এছাড়া দলও খেলার মধ্যে থাকবে। ঘরোয়া ফুটবল চলবে। সবাই আশা করি ফিট থাকবে।’
৮ মাস ২২ দিন পর ২২ গজে মাশরাফি
স্পোর্টস ডেস্ক॥ করোনাকালের লম্বা বিরতির পর সবাই কম-বেশি ক্রিকেট খেললেও মাশরাফি ছিলেন না কোথাও। অতঃপর অপোর প্রহর শেষ হলো। ৮ মাস ২২ দিন পর ২২ গজে বাংলাদেশের সফলতম অধিনায়ক। আজ (মঙ্গলবার) বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে জেমকন খুলনার জার্সিতে গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের বিপে ম্যাচ দিয়ে বিরতি ভাঙলেন এই পেসার। মাশরাফি সর্বশেষ মাঠে নেমেছিলেন গত মার্চে। ১৬ মার্চ শেখ জামাল ধানমন্ডি কাবের হয়ে বিকেএসপিতে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে একমাত্র ম্যাচটি খেলেছিলেন তিনি। এতদিন যেটি ছিল মাশরাফির প্রতিযোগিতামূলক শেষ ম্যাচ। কুড়ি ওভারের ম্যাচ হিসেব করলে মাশরাফির শেষ ম্যাচ বঙ্গবন্ধু বিপিএলে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ঢাকা প্লাটুনের হয়ে বিপিএল খেলেছিলেন। ওই টুর্নামেন্টে ১৩ ম্যাচে নিয়েছেন ৮ উইকেট। মাশরাফির বিরতি এতটা লম্বা হতো না। গত অক্টোবরে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্টস কাপে খেলার সম্ভাবনা ছিল তার। কিন্তু ১৮ অক্টোবর মিরপুরের সিটি কাব মাঠে রানিংয়ের সময় হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়ায় সেই সম্ভাবনার ইতি ঘটে। পরে আবার চোট কাটিয়ে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে ফেরার সম্ভাবনা দেখা দিলেও ইনজুরির কারণে শুরুতে প্লেয়ার্স ড্রাফটে ছিল না তার নাম। ইনজুরিমুক্ত হওয়ার পর মাশরাফিকে নিয়ে আগ্রহ দেখায় ৪ দল- ফরচুন বরিশাল, বেক্সিমকো ঢাকা, জেমকন খুলনা ও মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী। একাধিক দল আগ্রহ প্রকাশ করায় লটারির মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে মাশরাফির দল প্রাপ্তি। লটারি ভাগ্যে জিতে মাশরাফিকে পেয়েছে জেমকন খুলনা। এমনিতেই মাহমুদউল্লাহ-সাকিবকে নিয়ে দারুণ দল গড়েছে খুলনা। লটারিতে মাশরাফিকে পেয়ে যেন সব আলো তাদের দিকেই পড়েছে।
জীবনের ইনিংসে ফুটবলার ক্রিকেটারে জুটি
স্পোর্টস ডেস্ক॥ ক্রিকেটার জিনাত আসিয়া অর্থিকে সঙ্গী করে জীবনের ইনিংস শুরু করলেন জাতীয় ফুটবল দলের ফরোয়ার্ড মাহবুবুর রহমান সুফিল। সোমবার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন ক্রীড়াজগতের দুই ভুবনের দুই বাসিন্দা। সুফিল সদ্যই কাতার থেকে ফিরেছেন বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের যৌথ বাছাই পর্ব খেলে। নেপালের বিপে দুই ম্যাচের সিরিজে যিনি সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পান। বয়সভিত্তিক ফুটবল থেকেই আলো ছড়িয়ে সুফিল এখন জাতীয় দলে প্রতিষ্ঠিত হয়ে উঠেছেন। ঘরোয়া ফুটবলে বর্তমানে খেলছেন বসুন্ধরা কিংসে। অন্যদিকে বিকেএসপিতে থেকে উঠে আসা অর্থিও উঠতি তারকা। মোহামেডান নারী ক্রিকেট দলের হয়ে খেলেছেন। গত বছর ইমার্জিং এশিয়া কাপে স্ট্যান্ড বাই ছিলেন। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ছেলে সুফিল। অন্যদিকে অর্থির বাড়ি বগুড়া শহরের জলেশ্বরীতলার। এদিন মেয়ের বাড়ি বগুড়া শহরের শেরপুর সড়কের একটি চায়নিজ রেস্টুরেন্টে দুজনের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। যেখানে উপস্থিত ছিলেন দুই পরে অভিভাবক ও পরিবারের সদস্যরা। আড়াই বছর আগে সুফিল ও অর্থির পরিচয়। সেখান থেকে বন্ধুত্ব ও প্রেম। এবার দুজনের সেই সম্পর্ক গড়াল পরিণয়ে।




