করোনাভাইরাস : চৌগাছায় মাস্ক ব্যবহারে অনীহা!

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর) ॥ মহামারি করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ধাপ বা ঢেউ চলছে। সারা বিশে^র ন্যায় বাংলাদেশেও এই ঢেউ মোকাবেলায় সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু সীমান্তবর্তী উপজেলা চৌগাছার মানুষ মাস্ক পরতে যেন ভুলেই গেছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করা হলেও সচেতন হচ্ছে না মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ঘরের বাইরে আসলে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করতে মত প্রকাশ করেছেন সচেতনমহল।
চলতি বছরের প্রথম দিকে বাংলাদেশে কোভিড-১৯ রোগী সনাক্ত হয়। এরপর ১৭ মার্চ দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ২৭ মার্চ থেকে অফিস-আদালতের কাজকর্মও কমিয়ে দেয়া হয়। দেশের প্রতিটি এলাকায় থেমে থেমে চলতে থাকে লকডাউন। চরম এক ভয়াবহ অবস্থা পার করে সারা বিশে^র মত এদেশের মানুষ। করোনার প্রাদুর্ভাব কিছুটা কমলে ধীরে ধীরে সবকিছু আবার স্বাভাবিক হতে থাকে। এরই মধ্যে পুনরায় শুরু হয় করোনার দ্বিতীয় ধাপ। সরকার প্রধান থেকে সর্বোচ্চ সর্তকতা নির্দেশনা আসে দেশের প্রতিটি এলাকায়। এতে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়। দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ সরকারের এই নির্দেশনা কিছুটা মানলেও চৌগাছার মানুষ চরম অবহেলা করছে বলে জানা গেছে। গ্রাম থেকে শহর কোথাও নেই তেমন কোন সতর্কতা। শীত শুরুর সাথে সাথে দেশে প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা, দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। অথচ এ জনপদের মানুষ মাস্ক পরা যেন এক প্রকার ভুলে গেছে। সোমবার চৌগাছা উপজেলা সদরের প্রতিটি সড়ক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, উপজেলা চত্তর, এমনকি পাড়া মহল্লার অলিগলি ঘুরে দেখা গেছে, সাধারণ মানুষ বেশ যেন অসচেতন। তারা মাস্ক ছাড়াই বাজারে এসেছে। বাজারে আগত সাধারণ মানুষ, পথচারী ও ব্যবসায়ীদের কাছে মাস্ক পরা হয়নি কেন এমন প্রশ্ন করলে তারা নানা অজুহাত দেখিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। সচেতনমহল মনে করছেন সব বয়সের মানুষের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করতে সংশ্লিষ্টদের আরও কঠোর হতে হবে। ’নো মাস্ক নো সার্ভিস’ এটি অবশ্যই অফিস অথবা হাট বাজার সর্বত্রই বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় কোভিড-১৯ দ্বিতীয় ঢেউয়ে ভয়ানক পরিস্থিতি সকলকে ভোগ করতে হতে পারে। এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নারায়ন চন্দ্র পাল বলেন, ‘করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় সরকার সোচ্চার। আমরা মাঠ পর্যায় থেকে মানুষকে সচেতন করতে কাজ করে যাচ্ছি। সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে জরিমানাও করা হচ্ছে। তবে মাস্কের ব্যাপারে আমরা জিরো টালারেন্স ঘোষনা করেছি। মাস্ক ব্যতিত কোন সেবা প্রদান করা হচ্ছে না।’

ভাগ