স্টাফ রিপোর্টার॥ যশোরে দুর্বৃত্তদের হাতে প্রতিপক্ষসহ লোকজন ছুরিকাঘাতে আহত হওয়ার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সর্বত্র চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় প্রতিদিন কোথাও না কোথাও লোকজন দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে অথবা ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হচ্ছেন এমন খবরও মিলছে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুর্বৃত্তরা ছুরি নিয়ে হামলা করছে। শুধু ছুরিকাহত নয়, যশোরে হত্যাকান্ডও বৃদ্ধি পেয়েছে। নৃশংসভাবে লোকজনকে হত্যা করা হচ্ছে। যত্রতত্র মিলছে লাশ। দুর্বৃত্তদের ছুরি নিয়ে হামলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার কথা অবশ্য স্বীকার করেছে পুলিশ। তাদের ভাষ্য, এসব ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদের আটকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কাউকে ছাড় দেয়া হচ্ছে না।
সাধারণ লোকজনের অভিযোগ, যশোরের বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় ক্ষমতাসীন দলের আশ্রয় প্রশ্রয়ের কারণে সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য চরমে পৌঁছেছে। তুচ্ছ ঘটনায় সন্ত্রাসীরা লোকজনকে ছুরিকাঘাত করতে পিছপা হচ্ছে না। প্রতিনিয়ত লোকজন এভাবে সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হলেও পুলিশ অপরাধীদের দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। যে কারণে সন্ত্রাসীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এ কারণে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। উল্লেখ্য, সম্প্রতি যশোরে তুচ্ছ ঘটনায় সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। গত ৩ ডিসেম্বর দিনদুপুরে যশোর শহরের পূর্ব বারান্দীপাড়া বউবাজারে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন ইউসুফ নামে এক যুবক। মেয়েলি ঘটনা ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। ইউসুফ একই এলাকার আব্দুল হামিদ গাজীর ছেলে। এর দুদিন আগে ১ ডিসেম্বর রাতে বেজপাড়া সাদেক দারোগার মোড়ে ব্যাডমিন্টন খেলা নিয়ে বিরোধের জের ধরে জিয়া খান ও রাব্বি নামে দুই যুবক একে অন্যকে ছুরিকাঘাত করেন। জিয়া খান বেজপাড়া সাদেক দারোগার মোড় এলাকার আব্দুল ওহাব খানের ছেলে এবং রাব্বি একই এলাকার বাবুল শেখের ছেলে। গত ২৮ নভেম্বর রাতে যশোর টাউন হল মাঠে সন্ত্রাসীর উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে আহত হন জাকির হোসেন নামে একজন চা দোকানি। তিনি পুরাতন কসবা কাজীপাড়ার বাসিন্দা। গত ২৬ নভেম্বর রাত সাতটার দিকে সদর উপজেলার কিসমত নওয়াপাড়ায় ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে আহত হন আব্দুল হামিদ নামে একজন রিকশাচালক। তিনি চুড়ামনকাটি হঠাৎপাড়ার বাসিন্দা। গত ২২ নভেম্বর বিকেলে যশোর রেলস্টেশন এলাকায় সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে আল-আমিন নামে এক যুবক গুরুতর আহত হন। টাকা ছিনতাইয়ের পর সন্ত্রাসীরা তাকে ছুরিকাঘাত করে। আল-আমিন সদর উপজেলার ভগবতীতলা গ্রামের মশিয়ার রহমানের ছেলে। তাকে রক্ষা করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের ধারালো অস্ত্রের কোপে আহত হন শহরের শংকরপুরের মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে আলমগীর হোসেন ওরফে আলী। গত ৮ নভেম্বর বিকেলে যশোর পৌরপার্কে বান্ধবীকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে আহত হন তাজিম নামে এক যুবক। তিনি শহরতলীর আরবপুরের আলাউদ্দিন আলার ছেলে। ছুুরিকাঘাতে জখমের পাশাপাশি সম্প্রতি যশোরে কয়েকজন নৃশংস হত্যার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে গত ১৩ নভেম্বর রাতে যশোর উপশহর বাবলাতলা এলাকায় ছোটভাইয়ের ছুরিকাঘাতে নিহত হন বড়ভাই মিরাজ। পারিবারিক তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে এই হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটে। গত ৩ নভেম্বর দিনদুপুরে যশোর শহরের পুরাতন কসবা ঘোষপাড়া ঢাকা রোডে সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন আব্দুল কুদ্দুস খান নামে এক ব্যক্তি। পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে ডেকে এনে সন্ত্রাসীরা তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। এ সময় পিতাকে রক্ষা করতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন তার ছেলে ইসরাইল খান বিপ্লব। গত ২৩ অক্টোবর রাতে শহরের কারাবালা এলাকায় সাবেক স্ত্রী সুমি খাতুনের পরকীয়া সম্পর্ক নিয়ে সৃষ্ট দ্বন্দ্বে নিজ ভগ্নিপতির পরিকল্পনায় খুন হন বকচরের ইসরাফিল হোসেন মন্নাত। তার মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। গত ২৬ অক্টোবর রাতে সুদের টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে সদর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের ঘোনা গ্রামের বুড়ি ভৈরব নদের পাড়ে কাঠব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফাকে জবাই করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর তার লাশ বুড়ি ভৈরব নদে ফেলে দেয়া হয়। নিহত কাঠব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের বাগডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। কোতয়ালি থানা পুলিশের ইনসপেক্টর (তদন্ত) শেখ তাসমীম আলম দুর্বৃত্তদের ছুরি নিয়ে হামলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার প্রসঙ্গে বলেন, ছুরি মারার ঘটনা কিছুটা বেড়ে গেছে সত্য। কিন্তু কাউকে ছাড় দেয়া হচ্ছে না। অপরাধীদের আটকে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।





