খুলনা সংবাদদাতা॥ কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনার পর খুলনা মহানগরী ও জেলায় স্থাপিত ভাস্কর্য, ম্যুরাল ও স্মারক স্থাপনাসমূহে নিরবছিন্ন তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সোমবার (০৭ ডিসেম্বর) ভোর থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ২৪ ঘন্টা নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা চলতে থাকবে বলে জানিয়েছেন উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা।
এদিকে দেশের যেসব জেলা-উপজেলায় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপন করা হয়েছে, সে ম্যুরালগুলোর পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার (৭ ডিসেম্বর) বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি শাহেদ নুর উদ্দিনের ভার্চ্যুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। কেএমপি’র বিশেষ শাখার (সিটিএসবি) পুলিশ সুপার রাশিদা বেগম বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রেসক্লাব, বাংলাদেশ বেতারের খুলনা কেন্দ্র, খুলনা জেলা পরিষদসহ মহানগরীর ১৭টি স্থানে জাতিরপিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষ্কর্য, ম্যুরাল ও স্মারক স্থাপনায় দিনের ২৪ ঘন্টা নিরবচ্ছিন্ন তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এসব এলাকায় পুলিশ ওগোয়েন্দা পুলিশ একত্রে নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছেন।
খুলনা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) এস এম শফিউল্লাহ বলেন, খুলনার নয় উপজেলায় ৯টি মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, কয়রা, দাকোপ ও রূপসায় তিনটি ভাস্কর্য নিলে ১২টি স্থানে জাতির জনকের ভাস্কর্য, মুর্যাল ও প্রতিকৃতি রয়েছে। এসব স্থানে পুলিশ ওগোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে করে একটি দল গঠন করা হয়েছে। এ দল পর্যায়ক্রমে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করবে। এছাড়া জেলা পুলিশ ওই দলের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছে। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য, মুর্যাল ও প্রতিকৃতি রক্ষায় স্থানের গুরুত্ব বুঝে এসব স্থাপনার নিরাপত্তায় তিন থেকে পাঁচজন পোশাকধারী পুলিশ সদস্য কাজ করছেন। খুলনাতে ভাস্কর্য বা মুর্যালে হামলা হতে পারে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তারপরও বিষয়টিকে হালকাভাবে দেখছে না পুলিশ। খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, জাতির পিতার ভাস্কর্য, মুর্যাল ও প্রতিকৃতি স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তার জন্য পুলিশ মোতায়েন করেছি। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও গোয়েন্দা পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। কোন ধরণের নাশকতার শঙ্কা আছে কি না তা জানতেও একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে।





