লোকসমাজ ডেস্ক॥ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যসহ দেশের সব ভাস্কর্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে করা রিট আবেদনের ওপর শুনানি হবে আজ মঙ্গলবার (৮ ডিসেম্বর)। হাইকোর্টের বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে মঙ্গলবার দুপুর দেড়টায় ভার্চুয়ালি এ রিটের ওপর শুনানি হবে। সোমবার (৭ ডিসেম্বর) আইনজীবী নাহিদ সুলতানা যুথী সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘অ্যাটর্নি জেনারেলের উপস্থিতিতে ভার্চুয়ালি এ রিটের শুনানি হবে।’ এর আগে রোববার (৬ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট উত্তম লাহিড়ী এ রিটটি করেন। হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যসহ দেশের সব ভাস্কর্য রক্ষায় রিট আবেদন করা হয়। রিটে দেশের সব জায়গায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
রিটে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনে নৈরাজ্য/বিশৃঙ্খলা/অনাচার প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম/পদক্ষেপ নিতে বিবাদীদের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এ মর্মে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (ডিজি) ও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমামকে (খতিব) রিটে বিবাদী করা হয়েছে। রিটে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের নৈরাজ্য ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি রোধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ভাস্কর্য নিয়ে জনমনে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এছাড়া রিটে রুল জারির আর্জিও জানানো হয়েছে। রিটের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে রয়েছেন নাহিদ সুলতানা যুথী। রোববার তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুসহ রাষ্ট্রের যত ভাস্কর্য আছে এটা রক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। রাষ্ট্র যেন সেটা রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নেয় তার নির্দেশনা চেয়েছি। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার প্রতীক। আমাদের স্ট্যাচু অব লিবার্টি। বঙ্গবন্ধু কোনো মনুমেন্টে সীমাবদ্ধ নয়। এটা আমাদের অস্তিত্ব। বাংলাদেশের অস্তিত্ব।’ তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর জন্য আজ আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলছি। বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্য আছে। বাংলাদেশের ঐতিহ্যের যে মনুমেন্টগুলো আছে এগুলো কোনোভাবে কোনো ধর্মীয় প্রতীকের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। এ বিষয়ে নির্দেশনা চেয়েছি।’
এ আইনজীবী আরও বলেন, ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজি ও বায়তুল মোকাররমের খতিব ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিস্তারিত বলবেন। সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবেন যে, এটা কোনোভাবেই ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে না। এজন্য ওনাদের বিবাদী করেছি। আমরা নিজেরা সবাই ধর্ম পালন করি। আমরা ধর্মের ঊর্ধ্বে না। আমরা বঙ্গবন্ধুকে স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে দেখি। সেটার জন্য ডাইরেকশন চেয়ে, বঙ্গবন্ধুর মনুমেন্টের ওপর যেন কোনো আঘাত না আসে সেটা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এটা যেন রাষ্ট্র পালন করে।’ গত (৪ ডিসেম্বর) শুক্রবার কুষ্টিয়া শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভেঙে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন। সারাদেশে প্রতিবাদ কর্মসূচির মাধ্যমে এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন তারা। এর আগে গত ১৩ নভেম্বর ঢাকার গেন্ডারিয়ার ধূপখোলা মাঠে ‘তৌহিদী জনতা ঐক্যপরিষদের’ ব্যানারে এক সমাবেশ থেকে মুজিববর্ষ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতা করা হয়। একই দিনে রাজধানীর বিএমএ অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে শানে রিসালাত কনফারেন্সে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা মামুনুল হকও প্রকাশ্যে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতা করেন। পরে হাটহাজারীতে এক মাহফিলে অংশ নিয়ে বক্তব্য দেয়ার কথা ছিল মামুনুলের। কিন্তু স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ প্রতিহত করার ঘোষণা দিলে তাকে ছাড়াই মাহফিল হয়। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে এ ধরনের বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো। ভাস্কর্য নিয়ে বিরোধিতাকারীদের কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ। এই গোষ্ঠীর পেছনে বিদেশি মদদ রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরোধিতা করায় শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সমালোচনা করেন।





