আমাদের কাজ তাদের ভবিষ্যৎ দেখিয়ে দেয়া

লোকসমাজ ডেস্ক॥ আমি আমার উপদেষ্টা, মেধাবী ও সাহসী নীতিনির্ধারণী প্রধান টিম সিলারডকে প্রশ্ন তুলে দিলাম। যে পদ্ধতিগুলো কাজ করেছে সেগুলোকে পুনরায় সক্রিয় করতে কি কি করা যেতে পারে? অন্যভাবে বলতে গেলে যদি জননিরাপত্তা নিশ্চিতের সেরা পথই হয় প্রথমেই অপরাধ দমন তবে একই মানুষের বারবার অপরাধ সংঘটনের যে প্রবণতা তবে এর জন্য আমরা কি করতে পারি? এমনকি কোনো উপায় নেই তাদেরকে চিরজীবনের জন্য সুপথে ফিরিয়ে আনা যেতে পারে। টিম এবং আমি দুজনে মিলে এই প্রোগ্রামের একটি নাম দিলাম। মূলধারায় ফিরে আসা। এই পরিকল্পনার মূল প্রেরণা ছিল স্বাধীনতার শক্তিতে আমার আস্থা। সকল ধর্ম ও মানুষেরও মূল কথা এই মুক্তি বা স্বাধীনতা। এই ধারণাটির বলে আমরা সকলেই যে ভুল করি তা কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অপরাধে পরিণত হয়। হ্যাঁ, অবশ্যই সব অপরাধের একটি পরিণতি এবং দায় রয়েছে।
কিন্তু তাদের সাজা ভোগের পরে এটাই কি সভ্য সমাজের বৈশিষ্ট্য নয় অপরাধীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার ব্যবস্থা করে দিতে হবে। প্রথমদিকে ব্যাপক বাঁধার মুখোমুখি হয়েছিলাম আমরা। প্রথমদিকে বিচার ব্যবস্থা কঠিন সাজার পথে হাঁটছিল এবং পুলিশকে সামরিকীকরণ করার পক্ষে ছিল। অনেকের বিশ্বাস ছিল আমাদের বিচার পদ্ধতি যথেষ্ট শাস্তিমূলক ছিল না। এক যুগের মধ্যে সেই ধারণার পরিবর্তন এসেছে এবং বিচার পদ্ধতিতে ভারসাম্য আসছে। মূলধারায় ফিরে আসার নানাবিধ পরিকল্পনা সরকার গ্রহণ করেছে। এটি একটি জাতীয় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথমদিকে কাজ করতে গিয়ে আমি প্রচণ্ড বাধার শিকার হয়েছিলাম। আমি যাদের সঙ্গে কাজ করতাম তারাও আমাকে বাধা দিয়েছিল। তারা প্রসিকিউটরের চাকরিকে দেখতো মানুষকে কারাগারে পাঠানোর চাকরি হিসেবে। তারা কখনো ভাবতো না কীভাবে একজনকে বের করে নিয়ে আসা যায়। যেন তাদের বের হয়ে আসা অন্য কারও সমস্যা। এমনকি এ নিয়ে কথা বলায় তারা আমার শক্তি ও সময়কে অপচয়ের অভিযোগ এনেছিল আমার বিরুদ্ধে। তারা আমাকে বুঝিয়ে বলতো তোমার উচিত অপরাধীদের কারাগারে আটকে রাখা। বাইরে আসার সুযোগ করে দেয়া তোমার কাজ নয়। কিন্তু আমি ধৈর্য্য ধরে ছিলাম। কারণ আমি আমার অফিসে যে বিষয়গুলোকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলাম এটি ছিল এর মধ্যে অন্যতম। কারণ, দিনশেষে আমার ওপরই এর ভবিষ্যৎ নির্ভর করেছিল। আমি আমার সমালোচকদের কথা শুনতাম। কিন্তু আমি আমার পথ থেকে সরে আসিনি। আমি পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছিলাম। আমি প্রমাণ করতে চেয়েছিলাম চাইলেই এটি করা সম্ভব।
এরপরে টিম এবং আমি কাজে লেগে গেলাম। আমরা টার্গেট করলাম চলমান প্রতিদ্বন্দ্বীদের আমাদের মতাদর্শের পক্ষে আনতে। এই প্রকল্পকে আমরা আমাদের বুট ক্যাম্পের সঙ্গে তুলনা করতাম। এই প্রকল্পের অধীনে ছিল চাকরির প্রশিক্ষণ, জিইডি কোর্স, সমাজসেবা, সন্তান লালন পালন এবং স্বাবলম্বী হওয়ার কর্মসূচি। পাশাপাশি আমরা মাদকাসক্তদের শনাক্ত করতাম এবং তাদের চিকিৎসা দিতাম। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির অফিস এই কর্মসূচির যদি নেতৃত্ব দিতো তবে বেশকিছু ভালো শিল্প মালিকরা সহযোগিতা করতো। তারা মূলত সমাজসেবক এবং চাকরির প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ করতো। এর মধ্যে যেসব প্রশিক্ষণ নেয়া হয়েছিল সান ফ্রান্সিসকো শিল্প বণিক সমিতির সদস্যরা তাতে সহযোগিতা করে। এতে অংশগ্রহণকারীরা চাকরির জন্য প্রশিক্ষণ পেতো। এর মধ্যে ছিল স্থানীয় শ্রমিক সংগঠনগুলো- তারাও চাকরির সুযোগ করে দিতে সহযোগিতা করতো। প্রথমত মনে হচ্ছিল যে, আমরা তাদের করুণা করছি, তবে এই কার্যক্রমের কাঠামো ছিল সুস্পষ্ট। এটি একটি সমাজকল্যাণমূলক কাজ নয়। এটি ছিল অপরাধ দমনমূলক একটি কর্মসূচি। এখানে অংশগ্রহণকারীরা বেশির ভাগই ছিল তূলনামূলক কম অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। এটিই ছিল তাদের জীবনের প্রথম অপরাধ। তাদেরকে অবশ্যই তাদের কাজের দায় শিকার করতে হবে এবং তাদের যে অনুধাবন এসেছে সেজন্য দুঃখপ্রকাশ করতে হবে। তাহলে তাদেরকে আমাদের প্রোগ্রামে নিয়ে আসা হবে। আমাদের প্রতিশ্রুতি ছিল যদি অংশগ্রহণকারীরা আমাদের কোর্সগুলো সফলভাবে শেষ করতে পারে আমরা তাদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেব। যার কারণে তারা আরো কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে সক্রিয় হয়ে উঠতো। আমাদের কর্মসূচি কাঠামোগতভাবে এমন ছিল না যে, ধাপে ধাপে উন্নত হবে। এটি ছিল মানুষকে পরিবর্তন করার জন্য। আমরা এই তরুণদের সম্ভাবনাময় জীবন সম্পর্কে জানতাম। আমাদের কাজ ছিল তাদেরকে সেই ভবিষ্যৎটি দেখিয়ে দেয়া। আমরা চাই সকল অংশগ্রহণকারী জীবনের সর্বোচ্চ সফলতায় পৌঁছে যাক।
কমালা হ্যারিসের অটোবায়োগ্রাফি ‘দ্য ট্রুথ উই হোল্ড’ বই থেকে

ভাগ