আজ স্বৈরাচার পতন ও গণতন্ত্র মুক্ত দিবস

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আজ ৬ ডিসেম্বর। স্বৈরাচার পতন ও গণতন্ত্র মুক্ত দিবস। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাঙালী জাতির ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৯০ সালের এই দিনে দীর্ঘ ৯ বছরের অগ্নিঝরা আন্দোলনের পর পতন হয়েছিল সামরিক স্বৈরশাসক এরশাদের। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ পেশাগত বিশ্বস্ততা ও শপথ ভেঙে বন্দুকের নলের মুখে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে ক্ষমতাচ্যুত করে সাংবিধানিক রাজনৈতিক স্তব্ধ করেছিলেন এরশাদ। সেই সংবিধানিক রাজনীতি ছিল বহুপাক্ষিক ও বহুদলীয়। যার পুনঃপ্রবর্তন করেছিলেন স্বাধীনতার মহান ঘোষক বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। স্বৈরাচারী এরশাদ একে একে সকল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করেছিলেন। হত্যা, খুন, অনিয়ম, দুর্নীতিতে ৭২ থেকে ৭৫ সালের রেকর্ড ভাঙে স্বৈরাশাসক এরশাদের দুঃশাসনের আমলে। পাক হানাদারদের পাখির মত গুলি করে গণতন্ত্রকামী ছাত্র-জনতাকে হত্যা করে এরশাদশাহী। কিন্তু ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামে স্বৈরাচারকে পরাজিত করে এদিন গণতন্ত্র মুক্ত হয়েছিল। আজকের এই দিনে ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত রক্তস্নাত স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে আত্মদানকারী বীর শহীদদের আজ জাতি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছে। গণতন্ত্র বারবার হোঁচট খেয়েছে তার অগ্রযাত্রায়। কিন্তু এ দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ সকল বাধাকে অতিক্রম করে গণতন্ত্রের পথ চলাকে নির্বিঘœ করেছে। শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্র এখনো শঙ্কামুক্ত নয়। তাই, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের স্মরণীয় এই দিনে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী গণতন্ত্রের হেফাজতকারী দেশবাসীকে আবারও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময় এসেছে। নিষ্ঠুর কর্তৃত্ববাদী এক দলীয় শাসনের চরিত্র ক্রমশ ফুটে উঠেছে। তামাশার নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আবারও জাতিকে একদলীয় নিষ্ঠুর শাসনের শৃঙ্খলে বন্দি করে নাগরিক স্বাধীনতাকে বিপন্ন করা হয়েছে। গণতন্ত্র,মানবাধিকার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা আজ বিপন্ন। আশির দশকে গণতন্ত্র হত্যাকারী স্বৈরাচার এরশাদ দেশের সকল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্রমান্বয়ে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করে। এই অগণতান্ত্রিক অপশক্তি জনগণের মৌলিক অধিকার হরণ করে এখন গণতন্ত্রকে স্থায়ী রূপ দিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই। গণতন্ত্র মুক্ত দিবসে রক্তস্নাত স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে আত্মদানকারী বীর শহীদদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে স্বৈরাশাসকদের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে শামিল হতে হবে। তাহলেই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে আত্মদানকারী বীর শহীদদের আত্মা শান্তি পাবে।