স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ ॥ ঝিনাইদহের আলোচিত কারিশমা হিজড়া হত্যাকা-ের মূল রহস্য উদঘাটন না হওয়ায় হতাশায় ভুগছেন তার স্বজনরা। চলতি বছরের গত ৯ সেপ্টেম্বর সকালে সদর উপজেলার উদয়পুর গ্রামে নিজ ঘর থেকে কারিশমা (৪০) নামে তৃতীয় লিঙ্গের একজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি সদর উপজেলার কাশিমপুর গ্রামের মৃত সুলতান আলীর সন্তান। কারিশমার বড়ভাই নুরুন্নবী বলেন, উদয়পুর গ্রামের বাড়িতে কারিশমা একাই থাকতেন। তিনি অন্যত্র বাড়ি তৈরি করায় শহরের টার্মিনাল এলাকার কাজল নামের এক ব্যক্তির কাছে গ্রামের বাড়িটি বিক্রির জন্য বায়না করেন। ৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে ওই বাড়িতে ক্রেতারা গেলে ঘরের মধ্যে কারিশমার লাশ দেখতে পান। তিনি অভিযোগ করেন, ঘরে বিছানায় বসা অবস্থায় ফ্যানের সাথে ঝুলতে দেখা যায় তার মৃতদেহ। টাকা ও গহনার কারণে কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে। তিনি তদন্ত সাপেক্ষে কারিশমা হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন ও সুষ্ঠ বিচার দাবি করেন। কারিশমার ভাই শরাফত হোসেন অভিযোগ করেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার অগ্রগতির জন্য সার্বিক সহযোগিতা করা হলেও পুলিশ বিষয়টি সঠিকভাবে আমলে নেয়নি। ফলে মামলার মোটিভ একেক সময় একেক দিকে মোড় নিচ্ছে। আর এ কারণে কারিশমার হত্যাকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। তিনি মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তরের জন্য প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এ ব্যাপারে মামলার বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি অপারেশন আবুল খায়ের শেখ বলেন, ‘এটি একটি কুলেস হত্যা। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে হত্যা প্রমাণিত হয়েছে। ঘটনার সূত্র ধরে প্রথমেই আলামত জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে তথ্য প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার রহস্য উদঘাটনে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করি, দ্রুতই এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।’




