মোরেলগঞ্জে ১৩ হাজার হেক্টর জমির আমন ক্ষেতে ঘাস ফড়িংয়ের আক্রমণ, ফসলহানির শঙ্কা

মো. শামীম আহসান মলিক, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) ॥ মোরেলগঞ্জের আমন েেত ঘাস ফড়িংয়ের আক্রমণে ব্যাপক ফসলহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। পোকা দমন করা না গেলে ধান কাটার আগমুহূর্তে স্বপ্ন ছাই হবে ৪৫ হাজার কৃষকের। কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি যন্ত্রপাতি ও কর্মকর্তাদের তদারকির গাফিলতিতে তারা এখন হুমকির মুখে। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, এখন পর্যন্ত মাত্র ৮টি ইউনিয়নে পোকা লেগেছে। দমনের চেষ্টা চলছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের দেওয়া তথ্য মতে, মোরেলগঞ্জের ১৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় মোট আমন ফসলি জমি রয়েছে ২৬ হাজার ৩১০ হেক্টর। ৪৫ হাজার কৃষকের শ্রমের বিনিময়ে এখানে বাৎসরিক ধান উৎপাদনের ল্যমাত্রা রয়েছে ৭৫ হাজার মেট্রিক টন। ইতোমধ্যে নিশানবাড়িয়া, জিউধরা, বহরবুনিয়া, বারইখালী, পঞ্চকরণ, বণগ্রাম, হোগলাপাশা ও তেলিগাতী ইউনিয়নের প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর ধান েেত ঘাস ফড়িং আক্রমণ করেছে। নদীর তীরবর্তী ও নিচু এলাকা হওয়ায় এখানকার অধিকাংশ জমিতে বছরে একবারই স্থানীয় জাতের ধান চাষ হয়ে থাকে। কৃষিবিদদের মতে, ধান েেত বাদামি ঘাস ফড়িং বা কারেন্ট পোকার আক্রমণ হলে সেখানে রাতারাতি গোটা তে ধ্বংস হয়ে যায়। ল্য ল্য পোকা দল বেঁেধ ধান গাছের রস খেয়ে ফেলে। গাছ শুকিয়ে ভেঙে পড়ে। এ পোকার আক্রমণে তিগ্রস্ত ধান েেতর খড়, কুটা গরু মহিষেও খাবে না। জীবাণুমুক্ত করতে মাঠেই পুড়িয়ে ফেলতে হবে। আক্রান্ত তে এ পোকার হাত থেকে রা করতে পাওয়ার স্প্রেয়ার মেশিন দিয়ে ওষুধ ছিটানো জরুরি। কিন্তু সরকারিভাবে মোরেলগঞ্জে এ ধরনের মেশিনের কোনো সরবরাহ নেই। ব্যাক্তিগতভাবে কয়েকজন কৃষকের রয়েছে যা প্রয়োজনের তুলনায় নগন্য। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভিন বলেন, কৃষকদেরকে সচেতন করে মাঠে কীটনাশক স্প্রে করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। সকল ইউনিয়নে মাইকে সতর্ক বার্তা প্রচার করা হচ্ছে। তবে ৩৫জন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পদ শূন্য ও পর্যাপ্ত কৃষি যন্ত্রপাতি না থাকায় কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে বলেও এ কর্মকর্তা জানান। গত বছর ধান পাকার আগমুহূর্তে নিশানবাড়িয়া ও জিউধরা ইউনিয়নে ঘাস ফড়িংয়ের আক্রমণে শ শ বিঘা জমি থেকে এক ছটাক ধানও বাড়ি নিতে পারেনি বহু কৃষক। ঘাস ফড়িংয়ের কবল থেকে আমন ধান রক্ষার্থে করণীয় নির্ধারণের জন্য জরুরি সভা করেছে উপজেলা প্রশাসন। শনিবার বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন। প্রথান অতিথি ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাড. শাহ্-ই-আলম বাচ্চু। বিশেষ অতিথি ছিলেন, ভাইস চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক। কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভিন, বিভিন্ন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও গণমাধ্যকর্মীরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

ভাগ