ঝিনাইদহে কিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টারগুলোর অব্যবস্থাপনার প্রতিবেদন চেয়েছে আদালত

আসিফ কাজল, ঝিনাইদহ ॥ ঝিনাইদহের ৬ উপজেলায় লাইসেন্স ও নবায়নবিহীন কিনিক এবং ডায়াগনোস্টিক সেন্টারগুলোর চরম অব্যবস্থাপনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ঝিনাইদহের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক বৈজয়ন্ত বিশ্বাস স্বপ্রণোদিত হয়ে গত ২৬ নভেম্বর এই আদশে দেন। আদশ প্রাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে ঝিনাইদহ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবদেন দাখিল করতে হবে। আদেশে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে যাবতীয় তথ্য ও দালিলিক সাক্ষ্য-প্রমাণ সরবরাহ করতে ঝিনাইদহ সিভিল সার্জনকেও নির্দেশ দেন। তদন্ত প্রাপ্তির পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হয়েছে ২০২০ সালের ২৪ ডিসেম্বর।
গত ২১ আগস্ট ‘ঝিনাইদহের ১৬৯ কিনিক ও ল্যাব লাইসেন্স ছাড়াই চলছে’ শিরোনামে তথ্যভিত্তিক সংবাদ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হলে আদালতের দৃষ্টিগোচর হয়। আদালত মনে করেন উল্লিখিত সংবাদ সত্য হলে তাতে যেমন বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইনের ২২ ও ২৮ ধারায় বর্ণিত অপরাধের অস্তিত্ব রয়েছে, তেমনি ঝিনাইদহবাসীর আইনগত ও সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘণের সামিল মর্মে প্রতীয়মান হয়। ফলে এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের আবশ্যকতা রয়েছে। আদালত তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ৫টি নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্দেশনাগুলো হচ্ছে, তদন্ত কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও টিভি সাংবাদিকদের সাথে নিয়ে সরেজমিন তদন্ত করে মানচিত্র ও সূচিপত্র প্রস্তুত করবেন। সেখানে সাক্ষীদের বক্তব্য থাকবে। ঘটনাস্থলের স্থির চিত্র ধারণপূর্বক প্রিন্ট করে ডকেটের সাথে যুক্ত করবেন। আলামত প্রাপ্ত হলে তা জব্দ করবেন। কোনো কিনিকের অবহেলা বা ভুল চিকিৎসার কারণে কোনো রোগী মারা গেলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করবেন। যতদূর সম্ভব ভুক্তভোগী রোগী, তাদের স্বজন এবং ঘটনা সম্পর্কে জ্ঞাত ব্যক্তিদের সাক্ষী হিসেবে নির্বাচন করবেন।
সংবাদে উল্লেখ করা হয়, ঝিনাইদহ জেলার বেশির ভাগ কিনিক লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই মাসের পর মাস ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। উপজেলা পর্যায়ের কিনিকগুলোতে অহরহ অপচিকিৎসা চলছে। ডাক্তারের অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যু ঘটছে। কিনিকগুলোতে চিকিৎসার উন্নত পরিবেশ নেই। নেই সর্বক্ষণ চিকিৎসক বা প্রশিক্ষিত র্নাস। ১০ বেডের পরিবর্তে শয্যা বাড়িয়ে ৫০/৬০ জন করে রোগী ভর্তি করা হয়। নীতিমালা ভঙ্গ করার পরও এসব কিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টার নতুন লাইসেন্স পাচ্ছে। পুরানো লাইসেন্স নবায়ন হচ্ছে। ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন অফিস থেকে তথ্য নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহের ৬ উপজেলায় মোট কিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টরের সংখ্যা ১৭০টি। এর মধ্যে কিনিক রয়েছে ৮১টি। সূত্রমতে কোটচাঁদপুরের একটি কিনিকের লাইসেন্স নবায়ন আছে। বাকি ১৬৯টি কিনিকের লাইসেন্স নবায়ন নেই। এছাড়া ৮৯টি ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের কোনটার লাইসেন্স ২০১৮ সাল থেকে নবায়ন করা হয়নি। সদর উপজেলার ডাকবাংলা, বৈডাঙ্গা, সাধুহাটী, বারোবাজার, কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর, শৈলকুপা, হরিণাকুন্ডু, মহেশপুরের নেপারমোড় ও খালিশপুরের কিনিকগুলোতে সর্বক্ষণ ডাক্তার থাকে না। কিনিক মালিক, ছেলে. স্ত্রী ও মেয়েরাই কোনো কোনো কিনিকের স্টাফ সেজে কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অপারেশন থিয়েটার ও রোগীর শয্যা রুমে নোংরা পরিবেশ বিরাজ করে। নেই দক্ষ নার্স। ফলে রোগীরা বিপদে পড়লে তেমন কোনো সহায়তা পান না। ফলে প্রায় এ সব কিনিকে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

ভাগ