মাসুদ রানা বাবু ॥ দালাল ছাড়া সেবা মেলে না বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) যশোর নড়াইল সার্কেল অফিসে। এখানে আসা লোকজনকে সহজে সেবা পাওয়ার কথা বলে তারা হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা। এর একটা অংশ চলে যাচ্ছে কিছু অসাধু কর্মকর্তার পকেটে। তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে বিআরটিএ অফিসে শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তুলেছে এই দালাল চক্র।
এক সময়ে যশোর কালেক্টরেট চত্বরে থাকা অফিসটির বর্তমান অবস্থান বকচর কোল্ড স্টোর মোড। স্থান পরিবর্তনের সাথে সাথে দালালরাও তাদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। অথচ অফিসের প্রবেশ মুখে লেখা আছে দালাল ও প্রতারকদের খপ্পরে পড়বেন না। ব্যাংক ছাড়া অন্য কারও সাথে আর্থিক লেনদেন করবেন না। তাদের কারণে এখানে কাজে আসা মানুষ সহজে সেবা নিতে পারে না। এমনকি অফিসের ভেতরে প্রবেশেও বাধাগ্রস্ত হন।
নাম বলতে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী একাধিক ব্যক্তি জানান, অফিসের প্রবেশ মুখেই থাকে দালালরা। ভেতরে প্রবেশ করতে গেলে তারা কৈফিয়ত তলব করে বলেন, কেন যাবেন, কী কাজে এসেছেন আমাদের বলেন? আমরাই আপনার কাজ করে দেব। দালালদের টপকে ভেতরে গেলে কর্মকর্তাদের কাছে নাজেহাল হতে হয়। সেবা সম্পর্কিত বা অন্য কোন তথ্য জানতে চাইলে তারা প্রশ্ন করেন, কার লোক ? এরপর সরাসরি দালালদের দেখিয়ে দেন। কখনো বলেন, আমরা কিছু জানি না। অফিসের নিচে অথবা ওপরের তলায় যান, তারা বলতে পারবেন। অর্থাৎ বিআরটিএ যশোর নড়াইল সার্কেলের নিচ তলা ও উপরতলায় দালালদের অবস্থান। তাদের ছাড়া কাজ হয় না। অনেক সময় কর্মকর্তারা জানতে চান। আপনি কার মাধ্যমে এসেছেন ? অফিসের বাইরে কালেক্টরেট চত্বরে পূর্বের অফিস এলাকায়ও থাকে অনেক দালালের অবস্থান। কর্মকর্তারা সেখানেও সেবা নিতে আসা লোকজনকে পাঠিয়ে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এভাবেই বিআরটিএ অফিসে প্রতারিত হচ্ছে মানুষ। প্রতারণার ফাঁদ পেতে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন দালাল ও অফিসের কিছু কর্মকর্তা। বাধ্য হয়েই জনগণকে এই ফাঁদে পড়তে হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অফিসে সরাসরি কেউ কোন কাজের জন্যে গেলে নানা ত্রুটি বিচ্যুতি দেখিয়ে হয়রানি ও নাজেহাল করা হয়। আর দালালের মাধ্যমে গেলে সব জায়েজ হয়ে যায়। ভুক্তভোগীরা জানান, একটি পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্যে সরকারি ফির দুই তিনগুণ বেশি টাকা দিতে হয় দালালদের মাধ্যমে। এই টাকার একটি অংশ চলে যায় বিআরটিএর কর্মকর্তাদের পকেটে। সম্প্রতি উপশহর কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয় ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্যে প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা। সেখানে কথা হয় কেশবপুর উপজেলা থেকে আসা এক ব্যক্তির সাথে। তিনি জানান, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও তাকে বাদ দেয়া হয়েছে ভাইভা থেকে। এটি প্রথম নয়। তিনি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন চার বার। কোন বার লিখিত, ভাইভা, আবার প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা দিয়েও চূড়ান্ত ফলাফলে তিনি বাদ পড়েছেন। মনিরামপুর থেকে আসা এক ব্যক্তি জানান, তিনি প্রথমবার এসেছেন এবং পরীক্ষা শেষ করেছেন। তার বিশ্বাস, তিনি পাস করবেন। কারণ, তিনি দালালের মাধ্যমে চুক্তিবদ্ধ হয়ে এসেছেন। তার চুক্তিমূল্য ৭ হাজার টাকা। ভুক্তভোগীরা আরও জানান, উপশহর কলেজ মাঠে যখন ড্রাইভিং লাইসেন্সের প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা চলে তখন মাঠের এক প্রান্তে থাকে দালালরা। সব বিষয়ে বিআরটিএ যশোর নড়াইল সার্কেল অফিসের সহকারী পরিচালক কাজী মোহাম্মদ মোরছালীন বলেন, আমার অফিসে কোন দালাল নেই। মানুষ সরাসরি আসে এবং সেবা নিয়ে যায়, কেউ কোন ধরনের দালালির অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেব। তিনি অফিসকে নি®কণ্টক হিসেবে দাবি করেন।




