উপার্জনের স্বাধীনতা পায় ১৫ ভাগ জমির মালিকানায় ১৯ ভাগ নারী

লোকসমাজ ডেস্ক॥ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসেবে প্রতি বছর গড়ে দুই লাখ নারী কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতে যুক্ত হচ্ছেন। কৃষি তথ্য সার্ভিসের আঞ্চলিক তথ্য অফিসার কৃষিবিদ মো. আব্দুল্লাহ-হিল-কাফি জানান, এদেশের নারীরা খরা বন্যাসহ যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে পুরুষের কাধে কাধ মিলিয়ে সমান তালে সমান তালে মোকাবেলা করে যাচ্ছে। দেশের বর্তমান জনসংখ্যার অনুপাত পুরুষ ও নারী হলো ১০৬৫:১০০। মাত্র শতকরা ১৫ ভাগ নারী নিজের ইচ্ছায় উপার্জনের স্বাধীনতা পায়। নারী শ্রম শক্তির ৬৮ ভাগই কৃষি, বনায়ন ও মৎস্য খাতের সঙ্গে জড়িত। কর্মক্ষম নারীদের মধ্যে কৃষিকাজে সবচেয়ে বেশি নিয়োজিত রয়েছেন।
ভৌগলিক কারণে প্রতি বছরই দেশের কোথাও না কোথাও কম বেশি বন্যা দেখা দেয়। কখনও কখনও আগাম বন্যার কারণে মাঠের বোরো, আউশ, পাট, রোপা আমন বীজ তলা, বোনা আমন ও শাকসবজিসহ অন্যান্য ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়। আবার কখনও দেখা দেয় ঢল বন্যা, আবার নাবি বন্যা। হঠাৎ বন্যা মারাত্মক আকার ধারণ করলে মাঠ মাঠ ফসল ছাড়াও ঘরবাড়ি, গবাধিপশু, হাঁস-মুরগি ও মাছ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। প্রতিরোধ প্রতিকার সম্ভব না হলেও বিশেষ পদ্ধতি অনুসরণ করলে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়। কৃষি মন্ত্রণালয় বন্যার ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে।
আজকাল হৃদরোগ, চর্মরোগ ও বহুমূত্র রোগের মতো নানা ধরনের রোগীকে ওষুধের পরিবর্তে পথ্য হিসেবে বেশি করে শাকসবজি খাবার পরামর্শ দিচ্ছেন ডাক্তারেরাও। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় দামি বা সস্তা যে ধরনের খাবারই খাওয়া হোকনা কেন তার মধ্যে শাকসবজির গুরুত্ব অনেক বেশি। মানুষ প্রতিদিন কোনো না কোনোভাবে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি খেয়ে থাকে। কেননা শাকসবজিতে সব ধরণেরই খাদ্য উপাদান আছে। তার মধ্যে ভিটামিন ও খনিজ লবণ উল্লেখযোগ্য। যা মানুষের শরীরের জন্য খুবই গুরুদ্বপূর্ণ। মানবদেহে ভিটামিন ও খনিজ লবণের যে চাহিদা তার সবটুকুই প্রায় শাকসবজি থেকে পূরণ হয়। আবার চোখের সমস্যার সবুজ ও রঙিন শাকসবজি অত্যন্ত উপকারী। শুধু খাবার হিসেবেই নয়, ওষুধ, পথ্য, পুষ্টি ও সুষম খাদ্যের জন্য প্রতিদিনই হরেক রকম শাকসবজি খাওয়ার জন্য কিছু না কিছু শাকসবজি উৎপাদন করা দরকার। এতে পারিবারিক চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি কিছু অর্থ উপার্জন করা যাবে।
বন্যা পরবর্তী সবজি চাষে কৃষানিদের করণীয় প্রসঙ্গে কৃষিবিদ মো. আব্দুল্লাহ-হিল-কাফি আরও জানান, রবি বা শীতকালের জন্য যেসব সবজি চারা তৈরি করতে হবে, সেগুলো সাধারণত ফুল কপি, বাঁধা কপি, শালগম, বেগুন, লাউ ও টমেটো এসব। উন্নত জাতের সবজি চারার অভাবে অনেকেই সবজি চাষ করতে পারেন না।
অথচ একটু পরিশ্রমে নিজেরাই তৈরি করা যায়। শাকসবজি অত্যন্ত নাজুক প্রকৃতির ফসল। সেজন্য একটু যতেœর সঙ্গে চাষ করতে হয়। সবজির জমি খুব মিহি এবং ঝুরঝুরেভাবে তৈরী করতে হয়। জমিতে রসের অভাব থাকলে সেচ দিয়ে ‘জো’ এলে মই দিয়ে তারপর বীজ বুনতে হবে। আবার অনেক রকমের সবজি মাদাতে লাগাতে হয়।
বর্তমানে এ ক্ষেত্রে নারীদের অনেক সুযোগ সুবিধা বাড়ায় কৃষি কাজে নেমে অনেক মহিলাই সমাজে উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। অনেকে জাতীয় ভাবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। দেশের মা বোনেরা যদি একটু এগিয়ে আসেন তা হলে প্রাকৃতিক এবং সামাজিক দুর্যোগ মোকাবেলা করবেন। এতে তারা নিজেদের পরিবারের আয় বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটাবেন।

ভাগ