জীবননগরে বেশিরভাগ অর্থ লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানে নেই সিসিটিভি

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা॥ চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় বেশিরভাগ অর্থ লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা একেবারেই নাজুক অবস্থায় রয়েছে। এসব অর্থ লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ৯৫ ভাগ প্রতিষ্ঠানে নজরদারির জন্য কোনো ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা (সিসিটিভি) নেই। প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তার জন্য নিয়োজিত নিরাপত্তাপ্রহরীর হাতেও কোনো আগেয়াস্ত্র থাকে না। যে কারণে অর্থ লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানে কোনো অপকর্ম ঘটানোর পর অপরাধীদের শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সম্প্রতি জীবননগর উপজেলার উথলী সোনালী ব্যাংক শাখায় ডাকাতি সংঘটিত হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরকে বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে। এসব কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে অর্থ লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার স্বার্থে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা লাগানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জীবননগর উপজেলায় আটটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শাখাসহ ১২টি ব্যাংকের শাখা, ১৩টি এজেন্ট ব্যাংক এবং দুই শতাধিক মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রয়েছে। এর মধ্যে আন্দুলবাড়িয়া বাজারে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শাখাসহ চারটি এজেন্ট ব্যাংক, উথলী গ্রামে দুটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শাখাসহ তিনটি এজেন্ট ব্যাংক, রায়পুর বাজারে একটি এজেন্ট ব্যাংক, হাসাদাহ বাজারে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শাখাসহ দুটি এজেন্ট ব্যাংক এবং জীবননগর পৌর শহরে চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শাখাসহ তিনটি এজেন্ট ব্যাংক রয়েছে। এছাড়া উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে প্রায় দুই শতাধিক মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব অর্থ লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন কয়েক কোটি টাকার লেনদেন হয়ে থাকে। কিন্তু এসব অর্থ লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরাপত্তার জন্য প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নিরাপত্তামূলক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। উপজেলার আটটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শাখাসহ মোট ১২টি ব্যাংকের মধ্যে মাত্র দুটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শাখায় এবং চারটি বেসরকারি ব্যাংক শাখায় ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা (সিসিটিভি) লাগানো আছে। বাকি ছয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শাখায় কোনো ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা নেই (নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যাংকের শাখাগুলোর নাম উল্লেখ করা হলো না)। এসব ব্যাংকের শাখাগুলোতে নিরাপত্তাপ্রহরী থাকলেও বেশিরভাগ নিরাপত্তাপ্রহরীর হাতে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নেই। এছাড়া উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে দুই শতাধিক মোবাইল ব্যাংকিংগুলোতে কোনোরকম নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া বাজারের এজেন্ট ব্যাংকের এক স্বত্বাধিকারী জাগো নিউজকে বলেন, ‘ব্যাংকের এজেন্ট শাখা নেয়ার সময় কর্তৃপক্ষ ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা লাগানোর জন্য কোনো নির্দেশনা দেননি। এজন্য লাগানো হয়নি।’ তবে তিনি স্বীকার করেছেন, নিরাপত্তার জন্য অবশ্যই ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা লাগানো উচিত। নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এক শাখা ব্যবস্থাপক বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার জন্য যদি ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা না লাগায়, সেক্ষেত্রে আমার কী করণীয় আছে?’ তিনি ব্যাংকের প্রতিটি শাখায় ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা বসানোসহ অস্ত্রধারী নিরাপত্তাপ্রহরী দেয়ার দাবি জানান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, ‘বর্তমানে গ্রাম অঞ্চলের ছোট ছোট দোকানগুলোতেও ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা লাগানো আছে। অথচ যেসব অর্থ লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা লেনদেন করা হয়, সেখানে কেন যে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা লাগানো হয়নি এবং নিরস্ত্র নিরাপত্তা প্রহরী থাকে, সেটা আমার বোধগম্য হয় না।’ জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম মুনিম লিংকন বলেন, ‘অর্থ লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানসহ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং সম্ভব হলে বাসাবাড়িতেও নিরাপত্তার জন্য ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা লাগানো উচিত।’

ভাগ