পুলিশের পেশাদারিত্ব ও মর্যাদা

জসিম উদ্দিন
সিলেটে রায়হান হত্যায় অভিযুক্ত পুলিশের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া উপপরিদর্শক আকবর বলছেন ‘আমাকে মারবেন না’। তিনি লুঙ্গি পরা কয়েকজন সাধারণ নাগরিকের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চাচ্ছিলেন। বলছিলেন ‘আমি হত্যা করিনি’। জনতা তাকে প্রশ্ন করছে, ‘তা হলে তুমি পালিয়ে যাচ্ছো কেন?’ সাধারণ মানুষের ওপর যতটা তাচ্ছিল্য করা হয় সাধারণ মানুষ ততটা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের পাত্র নন। তারা নন নির্বোধ। পুলিশ চাঞ্চল্যকর মামলার একজন আসামিকে ধরতে ব্যর্থ হলেও তারা আকবরকে ধরার পর আকবরের দ্বারা প্রতারিত হননি। জুুতসই প্রশ্নটিও তারা করছিলেন। ওই একটি প্রশ্নের উত্তরে এমন জবাব এসেছে যে, পুরো ঘটনার রহস্য উন্মোচন হয়ে গেছে। আইনের দৃষ্টিতে জনতার প্রশ্ন ও আকবরের জবাব কতটা গুরুত্বপূর্ণ অথবা বিচারকের কাছে প্রমাণ হিসেবে তা কতটা গ্রহণযোগ্য, আমরা তা জানি না। তবে ওই সাওয়াল-জবাবের মাধ্যমে রায়হান হত্যার পর জনগণের কাছে যে ‘ধোঁয়াশা’ ছিল সেটি অনেকটাই কেটে গেছে। একজন নিরপরাধ মানুষকে নির্মম কায়দায় পিটিয়ে হত্যা এবং অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার পালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে মানুষ স্পষ্ট বুঝতে পেরেছে।
জনতার প্রশ্নের উত্তরে আকবর বলেছেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেছেন- তুমি এখন পালিয়ে যাও। দুই মাস পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফিরে এসো।’ কথাটি তিনি একবার নয়, কয়েকবার বলে উপস্থিত লোকজনকে আশ্বস্ত করেছেন। হত্যার ব্যাপারে তিনি আরো বলেছেন, ‘আমি একা মারিনি, কয়েকজন মিলে মারধর করায় রায়হান মারা গেছেন।’ সাধারণ নাগরিকদের ব্যাপারে পুলিশ অনেক ক্ষেত্রে যে ‘ব্ল্যাঙ্ক চেক’টি ব্যবহার করে সেটা হচ্ছে তার বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের অভিযোগ আরোপ করে দেয়া। সাধারণ নাগরিকদের কেউ তাদের সেসব অভিযোগ চ্যালেঞ্জ করার সামর্থ্য রাখে না। আকবর ও তার সহযোগী পুলিশরা হত্যার পরপরই উল্টো রায়হানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনছিলেন, তিনি ছিনতাইকারী। সেই মিথ্যা কথাটি আকবর জনতার কাছে আবারো উল্লেখ করলেন। তিনি বললেন, ‘রায়হান ছিনতাই করে জনতার হাতে গণধোলাই খেয়েছেন। তিনি ও তার সহযোগীরা রায়হানকে বরং দয়াপরবশ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন।’ একটু আগে জনতার কাছে তিনি যে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন, এটি যে তার সম্পূর্ণ বিরোধী ও ডাহা অসত্য, তিনি সেটা খেয়াল করতে পারেননি। আমাদের পুলিশ বাহিনীর কিছু সদস্যের মান-মর্যাদা ও স্ট্যান্ডার্ডের এই অধঃপতন রীতিমতো হতাশাজনক।
রায়হানের লাশের যেসব ছবি প্রকাশিত হয়েছে তাতে পুলিশি নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র পাওয়া গেছে। তার হাত-পায়ের নখ তুলে ফেলা হয়েছে। লাঠি দিয়ে পিটিয়ে তার পুরো শরীর থেঁতলে দেয়া হয়েছে। খোঁচানো হয়েছে শরীরের বিভিন্ন জায়গায়। রাতভর নির্মম অত্যাচারে তিনি প্রাণ হারান। ছিনতাই করতে গিয়ে মানুষের গণধোলাইয়ের শিকার হলে শরীরের নখ উপড়ানো কিংবা খোঁচানোর চিহ্ন থাকে না। নির্যাতন করার পর পুলিশ সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে এভাবে আজগুবি অপরাধের অপবাদ দেয়। সারা দেশে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ পুলিশের এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগের শিকার হয়। সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িটি ছিল আকবরের একটি টর্চার সেল। সেখানে প্রতিদিন সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়ে তিনি ও তার সহযোগীরা নিয়মিত চাঁদাবাজি করেছেন। ঘটনা তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় এটিকে আর সামাল দেয়া গেল না। রায়হান মারা যাওয়ায় তিনি ফেঁসে গেছেন। জনতার কাছে আকবরের স্বীকারোক্তি থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, পুলিশের ভেতর থেকে তার পৃষ্ঠপোষক রয়েছেন। টর্চার সেল বানিয়ে মানুষকে মেরে ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি তিনি একাই চালিয়ে আসছিলেন, এমনটি বিশ্বাসযোগ্য নয়। যারা তাকে পালিয়ে যেতে বলেছিলেন তাদের ব্যাপারেও তদন্ত করা দরকার। পুলিশের মধ্যে থাকা অপরাধীদের সামনের সারির লোক আকবর। তারা এসব জঘন্য অপরাধ কখনো দিনের পর দিন এককভাবে করে যেতে পারেন না। পেছন দিক থেকে এর পৃষ্ঠপোষকতা থাকাটা স্বাভাবিক ব্যাপার। আমরা তেমনটা দেখেছি বরখাস্ত হওয়া টেকনাফের ওসি প্রদীপের ক্ষেত্রেও। সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা মোহাম্মদ রাশেদকে হত্যা করে উল্টো সিনহার বিরুদ্ধে তিনি মামলা সাজিয়ে নিয়েছিলেন। প্রদীপ-লিয়াকত চক্র কক্সবাজারের তৎকালীন পুলিশ প্রশাসনের পৃষ্ঠপোষকতায় সিনহা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এনেছিলেন সেগুলোই জাতির কাছে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যেত, যদি না সারা দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ গর্জে না উঠতেন। প্রদীপদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে সরকার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। নজিরবিহীনভাবে ওই জেলার সব পুলিশকে বদলি করে দেয়া হয়েছে। কারো বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ উঠলে তাকে বদলি করে দেয়া কোনো সমাধান নয়। একজন অপরাধীকে যেখানেই পোস্টিং দেয়া হোক সেখানেই তিনি অপরাধ করে জনজীবন বিপন্ন করবেন।
আকবরকে ধরার জন্য রায়হানের মা ও সাধারণ জনগণের আন্দোলন আমরা দেখেছি। প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেছে; তাকে পুুলিশ ধরতে পারেনি। সীমান্ত থেকে আটক হয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর হওয়ার পর সিলেট পুলিশ প্রশাসনের যে প্রচারণা, সেটা দৃষ্টি কাড়ার মতো। আকবরকে আটকের পর সিলেটের আঞ্চলিক পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলন করেছেন। ওই সংবাদ সম্মেলন থেকে আকবরকে আটক করার জন্য পুলিশের আত্মপ্রশস্তি দেখা গেল। আকবরকে যখন বরখাস্ত করা হলো তখন আকবর পুলিশের সম্পূর্ণ কব্জার মধ্যে ছিলেন। মানুষ তাকে দেখতে পেয়েছে সিলেটের মিষ্টির দোকানে। তার সাথে কারা কারা ছিলেন সেটিও সাধারণ মানুষ দেখেছে। সিসিটিভি ফুটেজে তার ঘুরে বেড়ানোর চিত্র নিশ্চয়ই ছিল। সাথে থাকা স্থানীয় মানুষের মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে আকবরকে আটক করা অসম্ভব ছিল না। এখন পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, আকবর মাদক চোরাকারবারি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় সীমান্ত পাড়ি দিয়েছেন। সাধারণ মানুষের মধ্যে যখন ছড়িয়ে পড়েছে, আকবরকে আটক করেছে জনতা- এ কথাটি তখন সর্বশেষ পুলিশের পক্ষ থেকে একটা পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করা হয়। ওই পরিকল্পনায় দেখা যায়- পুলিশ দক্ষতার সাথে তাকে ভারতের ভেতর থেকে আটক করেছে। এ কাজ করার জন্য তারা নিজেদের যে সোর্স রয়েছে তাদের ব্যবহার করেছে। এ জন্য নগদ অর্থকড়িও খরচ হয়েছে।
আকবরকে যারা ধরেছেন তাদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই ডকুমেন্টরি করেছেন। তাতে কয়েকজন মানুষের চেষ্টায় আকবর আটক হয়েছেন বলে দেখা যায়, পুলিশের ভাষ্যের সাথে যার মিল কম। আকবরকে ধরার জন্য যে সাধারণ জনতা ক্রেডিট পেয়েছেন, তারা পরে বলছেন আসলে পুলিশের সহায়তায় আকবরকে তারা ধরেছেন। এভাবে সাধারণ মানুষ যখন তাদের আগের অবস্থান থেকে সরে যায় সেটি আর অন্যরা বিশ্বাস করতে চায় না। বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনী সাধারণ নাগরিকদের সাথে বিগত বছরগুলোতে এমন আচরণ করেছে তাতে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা একেবারে নিম্ন পর্যায়ে এসে নেমেছে। ফলে তারা যখন কোনো ঘটনার সঠিক বিবরণও প্রকাশ করে, সেটি নিয়ে মানুষের মধ্যে আরো বেশি দ্বিধা-সন্দেহ দেখা দেয়। সিলেটের মানুষ প্রথমে পুলিশের একটা ভয়ানক বর্বরতা দেখেছে। পরে তারা দেখল, ওই বর্বর পুলিশ সদস্য সটকে পড়তে পেরেছে। তাই সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহ- আকবর ভেতর থেকে কারো সহায়তা পেয়েছেন। তিনি যেমন জনতাকে বললেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পক্ষ থেকে পালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। ‘পরিস্থিতি শান্ত হলে ফিরে আসার’ পরামর্শ তিনি পেয়েছেন। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে- আকবরকে ধরার জন্য সিলেটের পুলিশ সুনাম পেতে বেশি আগ্রহী। এই সুনাম যাতে নিজেদের হাতছাড়া না হয়, সে জন্য তারা জোরদার চেষ্টা চালাচ্ছে। অথচ হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হওয়ার পরপরই আকবরকে ধরার জন্য এমন জোরদার প্রচেষ্টা চালালে তিনি সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে যেতে পারতেন না। এ জন্য কৃতিত্ব নিতে জনতার সাথে তাদের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে হতো না। দেশে হত্যা, খুন, গুমসহ আইনশৃঙ্খলাজনিত অরাজকতা চলছে। একটা নতুন দুর্ঘটনা পুরনোটাকে ছাপিয়ে যাচ্ছে। মানুষ কোনটার বিচার চাইবে তার সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। সিনহা হত্যার পর রায়হান হত্যা পর্যন্ত চাঞ্চল্যকর এমন কয়েক ডজন ঘটনা ঘটে গেছে। প্রতিটি নতুন ইস্যু পুরনো ইস্যুকে আড়াল করার জন্য ‘যথেষ্ট’ হয়ে যাচ্ছে। ক্ষমতাসীনরা গৎবাঁধা বাণী ও আশ্বাস দিয়ে এসবের দায় এড়িয়ে যেতে পারছেন। তাদের শুধু পরবর্তী ঘটনাটি ঘটার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। পুলিশ নিজেও বর্তমান চলা বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্যের শিকার হয়ে যাচ্ছে। ৯ নভেম্বর পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আনিসুল করিমকে মাইন্ড এইড নামের একটি হাসপাতালে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। ভিডিওফুটেজে দেখা যায়, হাসপাতালের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলে তাকে পেটাচ্ছেন। একপর্যায়ে তিনি নিস্তেজ হয়ে যান। হাসপাতালে ভর্তি করার অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে তাকে হত্যার ঘটনাটি ঘটে। মানসিক রোগের চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালটিতে ভর্তি করা হয়েছিল।
আনিসুল করিম ছিলেন মেধাবী। ৩১তম পুলিশ ক্যাডারে তিনি প্রথম হয়েছিলেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি কৃতিত্বের সাথে পাস করেছেন। এমন একজন ব্রিলিয়ান্ট কর্মকর্তা মানসিক রোগে আক্রান্ত হবেন; তার পর দুঃখজনকভাবে হাসপাতালের বিশৃঙ্খল আচরণের শিকার হয়ে প্রাণ হারাবেন- এটি কোনোভাবে মেনে নেয়া যায় না। আমাদের পুরো সিস্টেমের মধ্যে যে গলদ ঢুকে পড়েছে, তা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্তাকে বেধড়ক মারছেন, ঘটনার সময় অভিযুক্তরা তা জানতেন কি না, আমরা জানি না। তবে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, মানসিক রোগী গেলেই তাকে মারধর করা হতো। হাত-পা পিছমোড়া করে বেঁধে এমন মারধরের প্র্যাকটিস তারা করে যাচ্ছিলেন। এখন খবর বের হলো- হাসপাতালটি অবৈধভাবে চলছিল। এটি ‘মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র’ হিসেবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের অনুমোদন নিয়েছিল। কিন্তু হাসপাতালটি চিকিৎসা করত মানসিক রোগের। মানসিক রোগের চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের অনুমোদন নিতে হয়। জানা যায়, স্বাস্থ্য অধিদফতরের অনুমোদনের জন্য আবেদন করেও তারা পায়নি। এ ব্যাপারটি এত দিন দেখার কেউ ছিল না। একজন পুলিশ কর্মকর্তা হত্যার পর এ ব্যাপারে খবরা খবর জানা যাচ্ছে। আনিসুল করিম হত্যা মামলায় হাসপাতালটির মালিক ও পরিচালনা কমিটির সদস্যসহ ১৫ জনকে আসামি করা হয়। পুলিশ মালিকদের একজনসহ ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে। এর মধ্যে ১০ জনকে সাত দিনের রিমান্ড দেয়া হয়েছে। ওই ঘটনায় দ্রুতগতিতে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালতের কাছে থেকে রিমান্ডও পাওয়া গেছে। আমরা জনসাধারণের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের অন্যায় অবৈধ আচরণের বিরুদ্ধে ঠিক এ ধরনের দ্রুত পদক্ষেপ দেখতে চাই; যাতে জনসাধারণ তথা দেশের ১৮ কোটি মানুষ কোনো নির্যাতন-নিপীড়ন ও অন্যায়ের শিকার না হয়। আমরা জোর দিতে চাই পুলিশ বাহিনীর প্রতিও। আমাদের মেধাবী পুলিশ অফিসারদের মানসিক সমস্যার কারণ কী? যদিও এ জন্য ‘পারিবারিক’ কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু মেধাবী, সৎ, দেশপ্রেমিক অফিসাররা কোনো কারণে হতাশ হয়ে পড়ছেন কি না, সেটাও বিবেচনায় আনা উচিত। বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়া উচিত পুলিশকে নীতির জায়গায় ফিরিয়ে আনা। তারা রায়হান, সিনহার মতো অনুগত নাগরিকদের হত্যা করবেন না। নিজেদের আখের গোছানোর জন্য জনগণের নিরাপত্তা হুমকি সৃষ্টি করবেন না। পুলিশের সংস্কার নিয়ে বহু আগেই আলোচনা উঠেছে। তখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এমন বিপর্যস্ত ছিল না। পুলিশের বিরুদ্ধে এমন অগুনতি অভিযোগ ছিল না। নাগরিকদের সুবিধার্থে মানবিক পুলিশ কারো আলোচনায় নেই। একটি শৃঙ্খলাবাহিনী হিসেবে তাদের সম্মান-মর্যাদা সমুন্নত করার বিষয় সর্বাগ্রে বিবেচনার কথা। যখন সংস্কার সংশোধনের তাগিদ অনুভব করা হচ্ছে তখন আমরা দেখলাম, পুলিশকে বিশেষ ভাতা দেয়া হচ্ছে। এর ফলে ভুল বার্তা যাবে। সরকারকে অবশ্যই এ কথাটিই প্রমাণ করতে হবে, সরকার দুষ্টের শাসন শিষ্টের লালন করছে।
jjshim146@yahoo.com
ভাগ