বাগেরহাট সংবাদদাতা॥ বার প্রাকৃতিক দুর্যোগে পুঁজি হারিয়ে এনজিও এবং ব্যাংকের ঋণ শোধ না করতে পেরে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার নলবুনিয়া গ্রামের মাছ চাষি মো. আবুল কালাম। ঋণের সুধ মৌকুফ ও টাকা শোধের সময় বৃদ্ধির জন্য দারে দারে ঘুরছেন তিনি। এনজিও এবং ব্যাংকের ঋণ ছাড়া বাইরের পাওনাদারের টাকা পরিশোধ করতে নিজের শেষ সম্বল জমি বিক্রিরও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আবুল কালাম। তবে জমি বিক্রির জন্য বাড়ি যাওয়ার উপায় নেই তার। বাড়িতে গেলেই অপমান-অপদস্ত হতে হবে। এমনকি পাওনাদাররা গায়েও হাত তুলতে পারেন এমন আশঙ্কা করছেন তিনি। এ অবস্থায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে সরকারি সহযোগিতা ও ঋণের সুদ মৌকুফসহ দীর্ঘ মেয়াদী কিস্তিতে টাকা পরিশোধের সুযোগ চান তিনি।
আবুল কালাম জানান, ২০০০ সালের দিকে নলবুনিয়া মৌজায় প্রায় তিন একর জমিতে মাছ এবং ৫০ শতাংশ জমিতে পানের বর জ করেন তিনি। পূুঁজির অভাবে ভালভাবে চাষ করতে পারতেন না। পরবর্তীতে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক থেকে ৯৫ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সিডরে ঘেরে থাকা প্রায় ৩ লক্ষাধিক টাকার মাছ ভেসে যায়। নষ্ট হয়ে যায় দেড় লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ের পানের বরজ। তারপরও হাল ছাড়েননি। পানের চাষ করে কোন মতে বেঁচে থাকার চেষ্টা করেছেন। ঋণ শোধ করতে পারেননি। ৯৫ হাজার টাকার ঋণ এখন সুদে আসলে দুই লক্ষে গিয়ে পৌঁছেছে। সিডরের পরেও একাধিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে বারবার ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কিন্তু সরকারি কোন সহযোগিতা পাননি। ২০২০ সালের প্রথম দিকে অবর্ননীয় অর্থ সংকটে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় ব্র্যাক এনজিও থেকে মাসিক ১৪ হাজার ৫‘শ টাকা কিস্তি প্রদানের শর্তে এক লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ঘেরের মাছ ভেসে যাওয়ার পরেও চারটি কিস্তি দিয়েছিলেন। কিন্তু জোয়ারের পানিতে আবারও ঘেরের মাছ ভেসে যায়, নষ্ট হয়ে যায় বরজের পান। আর কিস্তি দিতে পারেননি। এখন কিস্তির চাপে আর বাড়িতে থাকতে পারছেন না। পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বিভিন্ন জায়গায়।এর বাইরেও স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি টাকা পাবে। বাড়িতে না যেতে পারলে অন্যান্য সম্পদও নষ্ট হয়ে যাবে। এখন কি করবেন জানেন না তিনি। এভাবে পালিয়ে থাকতে হলে মৃত্যু ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি। ব্র্যাকের শরণখোলা কার্যালয়ের ক্রেডিট অফিসার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ঋণ গ্রহিতা আবুল কালাম কিস্তি দিচ্ছেনা, ঘোরাচ্ছে। কিস্তি দেরিতে দেওয়ার জন্য সময়ের আবেদনও করেনি। জোয়ারের পানিতে তার কিছুটা ক্ষতি হয়েছে তা সত্য। কিস্তি আনতে গেলে তাকে বাড়িতে পাওয়া যায় না। এই অবস্থায় জীবনে ভালভাবে বেঁচে থাকার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেছেন নিঃস্ব মাছ চাষি আবুল কালাম।




