স্কুল খুলে ক্লাস নিচ্ছিলেন প্রধান শিক্ষক, ধরে ফেললেন ইউএনও

কুষ্টিয়া সংবাদদাতা॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে করোনাকালে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে স্কুল খুলে ক্লাস নেয়ার অপরাধে প্রধান শিক্ষককে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। উপজেলার সুলতানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে কুমারখালীর সদকী ইউনিয়নের সুলতানপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীবুল ইসলাম খান।

এ সময় তিনি সড়ক দিয়ে কয়েকজন খুদে শিক্ষার্থীকে বইখাতা নিয়ে হেঁটে বাড়ি ফিরতে দেখেন। গাড়ি থামিয়ে ইউএনও তাদের জিজ্ঞেস করেন, ‘কোথায় যাচ্ছো?’ শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছে। ইউএনও তাৎক্ষণিক কয়েকশ মিটার দূরে সুলতানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখতে পান- দুটি কক্ষে অন্তত ৪০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক মাহবুব হোসেন শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছেন। এ সময় ইউএনও প্রধান শিক্ষককে ডেকে করোনাকালে ক্লাস নেয়ার কারণ জানতে চান। তবে প্রধান শিক্ষক এর কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এ ঘটনায় সরকারি আদেশ অমান্য করে বিদ্যালয়ে পাঠদান অব্যাহত রাখার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে প্রধান শিক্ষক মাহবুব হোসেনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ইউএনও। এছাড়াও বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেন। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দীন বলেন, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে পাঠদান অব্যাহত রাখায় সুলতানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে প্রাথমিকভাবে শোকজ করা হয়েছে। এ বিষয়ে যথাযথ কারণ দর্শাতে না পারলে তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সুলতানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুব হোসেন বলেন, মূল্যায়ন পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিমূলক ক্লাস নিচ্ছিলাম। প্রতিদিন নয়, মাঝে মাঝে ক্লাস নেয়া হয় বলে তিনি স্বীকার করেন।

ভাগ