যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতেই ছাদ ঢালাই কাজে চলছে অনিয়ম

স্টাফ রিপোর্টার ॥ অনিয়ম ও দুর্নীতি চলছে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের মূল ভবনের তৃতীয় তলার ঊর্ধ্বমুখী ছাদ ঢালাই কাজে। গণপূর্ত বিভাগের লোকজনের উপস্থিতিতে এ অনিয়ম চলছে। গতকাল (১৭ নভেম্বর) বিকেলে হাসপাতালের ৪র্থ তলার একটি অংশে ছাদ ঢালাই করা হচ্ছিল। পাথর, বালু ও সিমেন্ট দিয়ে ছাদ ঢালাই করার সময় পরিষ্কার পাথর দেওয়ার নিয়ম থাকলেও তা দেয়া হয়নি। ২ ভাগে কালো পাথর আর ১ ভাগ মাটি ছিল পাথরে। অত্যধিক ধুলা মাখানো পাথর মোটা বালি আর সিমেন্টের সংমিশ্রণ করে চালানো হচ্ছিল ঢালাই কাজ। যা দেখে হাসপাতাল চত্বরে উপস্থিত অনেকেই হতবাক হন। এ সময় যেখানে উপস্থিত ছিলেন গণপূর্ত বিভাগের ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট জাহাঙ্গীর হোসেন। তাকে দেখানোর পর তিনি শ্রমিকদের নিষেধ করেন অত্যাধিক শুকনো মাটি মাখানো পাথর না দিতে। পানি দিয়ে ভিজিয়ে পরিষ্কার পাথর দেয়ার জন্য জাহাঙ্গীর হোসেন শ্রমিকদের মৌখিক নির্দেশ দেন। এ সময় পাথরে ধুলো-মাটির ভাগ বেশি ছল বলে স্বীকার করেন তিনি। শ্রমিকদের পরিষ্কার ভাল পাথর দেয়ার কথা বললেও তারা জাহাঙ্গীর হোসেনের কথায় কর্ণপাত করেননি। ধুলোবালি মাটি যুক্ত পাথর দিয়ে ঢালাইয়ের কাজ করেছেন। যার ফলে হাসপাতালের ৪র্থ তলার ছাদের স্থায়ীত্ব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ সময় ছাদের উপর উপসহকারী তার উপস্থিতিতেই চলছিল এ ধরনের ঢালাইয়ের কাজ। ২০১৭ সালে ৭০ বছরের পুরানো সার্জারি, মেডিসিন ওয়ার্ডে ফাটল দেখা দিলে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয় এবং রোগী সরিয়ে নেয়া হয় দু’টি পুরনো ভবনে। যেখানে চিকিৎসার যথেষ্ঠ পরিবেশ না থাকার কারণে হাসপাতালের তৃতীয় তলা বিশিষ্ট মূল ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ বাস্তবায়নে ৪র্থ তলা নির্মাণের কাজ হাতে নেয় যশোর গণপূর্ত বিভাগ। কাজটি সম্পন্ন করতে ৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সনেক্স ইন্টারন্যাশাল লিঃ নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পেয়েছে ভবন নির্মাণের কাজ। কিন্তু ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বাস্তবে নেই। অন্য ঠিকাদারদের মাধ্যমে এ কাজ বাস্তবায়িত হচ্ছে। তাদের কাজ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ কাজ বাস্তবায়ন করার জন্য ২০১৯ সালের ২৫ জুলাই ঠিকাদারের সাথে চুক্তি হয়েছিল। কাজটি সম্পন্ন করার কথা ছিল চলতি ২০২০ সালের ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে। কিন্তু আনাড়ী ঠিকাদার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। অথচ, প্রায় অর্ধকোটি টাকা গণপূর্ত বিভাগের কাছ থেকে তুলে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তারপরও কাজে মন্থরগতি। এ পরিস্থিতিতে গত ২ নভেম্বর যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গণপূর্ত বিভাগ যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলীকে চিঠি দেন। পুনরায় কাজ শুরু করেন ঠিকাদার। কাজটি শেষ হতে এবং সেখানে চিকিৎসা সেবা চালু করতে বছর লেগে যাবে বলে সূত্র জানিয়েছে।

ভাগ