কুষ্টিয়া সংবাদদাতা॥ কুষ্টিয়ায় এক ছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় মাদ্রাসা সুপার আব্দুল কাদের (৪২)-কে যাবজ্জীবন (আমৃত্যু) কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ধর্ষণ মামলায় এত দ্রুত সময়ে রায় দেওয়ার ঘটনা কুষ্টিয়ায় এটিই প্রথম। ১৩ অক্টোবর এই মামলার চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। চার্জশিটের ৩৬ দিনের মাথায় এই রায় ঘোষণা করা হলো। মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) বেলা সোয়া ১টার দিকে কুষ্টিয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইবুনালের বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে অনুপস্থিত ছিলো।
দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল কাদের মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ ইউনিয়নের চকপাড়া এলাকার মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে ও স্থানীয় সিরাজুল উলুম মরিয়ম নেসা মাদ্রাসা সুপারের দায়িত্বে ছিল। আদালত সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের গত ৪ অক্টোবর বিকাল ৫টার দিকে মাদ্রাসা সুপার আব্দুল কাদের তার অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে ভয় দেখিয়ে প্রথম ধর্ষণ করে। একই দিন রাত ৮টার দিকে আব্দুল কাদের আবারও ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। ঘটনার পরদিন ৫ অক্টোবর বিকালে মিরপুর থানায় ধর্ষণের অভিযোগে ওই ছাত্রীর বাবা মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে ১৩ অক্টোবর আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন পুলিশ। কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ বিশেষ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুল হালিম জানান, শুনানি শেষে আসামি আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন (আমৃত্যু) কারাদণ্ডসহ এক লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল কাদেরকে জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।





