খেলার খবর

এখনই মাঠে দর্শক ফেরাতে চায় না বিসিবি
স্পোর্টস ডেস্ক॥ খেলার প্রাণ হলো দর্শক। দর্শক খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করে তাদের সেরাটা দিতে। দর্শকের কারণে মাঠের খেলা হয়ে ওঠে উৎসব। ১৩ নভেম্বর শুক্রবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ১০ হাজারের বেশি দর্শকের সামনে উজ্জীবিত হয়ে খেলেছে বাংলাদেশ ফুটবল দল। নেপালকে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে হারিয়েছে ২-০ গোলে। করোনাভাইরাসের কারণে ঘরে বন্দি দশর্কেরাও যে মাঠে আসার জন্য ব্যাকুল, তা দেখিয়েছে ১০ মাস পর বাংলাদেশে ফেরা আন্তর্জাতিক ফুটবল।
বাংলাদেশের ক্রিকেটারদেরও দর্শকের সামনে খেলতে খুব ইচ্ছে হচ্ছে। অনেকে ক্রিকেটার সেটি বলেছেনও বিভিন্ন সময়ে। ক্রিকেটেরও খুব লোভ হয় স্টেডিয়ামে দর্শক দেখতে। কিন্তু করোনাভাইরাস যেহেতু এখনও তার অশুভ ছায়া গুটিয়ে নেয়নি, তাই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এখনও মাঠে দর্শক ফেরাতে চায় না। বিসিবি গত মাসে তিন দলের বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ আয়োজন করেছে দর্শকশূন্য মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। আগামী ২৪ নভেম্বর থেকে শুরু পাঁচ দলের বঙ্গবন্ধু কাপ টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টও দর্শকবিহীন আয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন বিসিবির অন্যতম পরিচালক ও মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস।
নেপালের বিপে জোড়া প্রীতি ম্যাচের প্রথমটিতে বাফুফে ৮ হাজার টিকেট ছাড়ার কথা জানালেও বিনে টিকিটে আরও দুই-তিন হাজার দর্শক বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ঢুকেছিল বলে অনুমান। বিসিবি অবশ্য বর্তমান কোভিড পরিস্থিতি বিবেচনায় আবেগড়াড়িত হয়ে মাঠে দর্শক ফেরাতে চায় না।
বাংলাদেশ-নেপাল ফুটবল ম্যাচে এত দর্শক দেখে বিসিবিরও কি মাঠে দর্শক দেখতে ইচ্ছে হচ্ছে না? জালাল ইউনুস বলেন, ‘এটা আবেগের ব্যাপার। অনেকদিন পর ফুটবল খেলা শুরু হয়েছে, সেখানে দর্শক এসেছে। কিন্তু আমরা দর্শক ও বাকি সবার কথা চিন্তা করে দর্শক প্রবেশের অনুমতি দেবো না। আমাদের পরিকল্পনা মাঠ দর্শকশূন্য থাকবে।’ করোনার কারণেই বঙ্গবন্ধুর নামে আয়োজিত টি-টোয়েন্টি কাপের উদ্ধোধনী অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা বাদ দিয়েছে বিসিবি। বিসিবির মিডিয়া প্রধান বলেন, ‘আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের কোনও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নেই, কারণ বর্তমান করোনা পরিস্থিতি। ২৪ নভেম্বর থেকে আমাদের টুর্নামেন্ট শুরু হচ্ছে, প্রথম খেলা শুরু হবে বেক্সিমকো ঢাকা ও মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহীর ম্যাচ দিয়ে। ১৮ ডিসেম্বর ফাইনাল, ১৯ ডিসেম্বর রিজার্ভ ডে রাখা হয়েছে।’

‘বাংলাদেশ আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে’
স্পোর্টস ডেস্ক॥ সাফ ও এসএ গেমস ফুটবলে বাংলাদেশের বিপে জিতেছে নেপাল। কিন্তু মুজিববর্ষ আন্তর্জাতিক দুই ম্যাচের সিরিজের প্রথমটিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। নামেই প্রীতি ম্যাচ, কিন্তু শুক্রবারের ম্যাচটি যেন জীবন-সুফিলদের কাছে ছিল প্রতিশোধের উপল। বাংলাদেশ ‘প্রতিশোধ’ই নিয়েছে। তর্কাতীতভাবে নিজেদের মাঠে ভালো খেলেছে জেমি ডের ছাত্ররা। নেপাল দলও তা মানছে।
নেপালের অন্যতম ফরোয়ার্ড নয়ায়ুগ শ্রেষ্ঠ বলেছেন, ‘বাংলাদেশ সত্যিই ভালো খেলেছে। তাদের খেলা চোখে পড়েছে। বিশেষ করে ওয়ান টাচ টু টাচ করে খেলাটা। তারা আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে। আমরা এখন পরের ম্যাচে আগের চেয়ে ভালো খেলতে চাই।’ নেপাল দলের হয়ে ২৬ ম্যাচে ৬ গোল করা ৩০ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড মনে করেন দিনটা তাদের খারাপ গেছে,‘ খেলার স্পিরিট ভালো ছিল। আমি মনে করি খেলা ভালো হয়েছে। তবে কোভিডের কারণে আমরা দেরিতে অনুশীলন শুরু করেছি। যে কারণে প্রস্তুতির জন্য বেশি সময় পাইনি। আগের ম্যাচে খারাপ গেছে, পরের ম্যাচে আমরা সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করবো।’ ২৮ বছর বয়সী মিডফিল্ডার সুজল শ্রেষ্ঠ ১৩ ম্যাচে তিন গোল করেছেন। প্রথম ম্যাচ হেরে স্বভাবতই খুশি হতে পারেননি,‘ব্যক্তিগত বা দলীয়ভাবে যাই বলুন না কেন। আমি খুশি হতে পারিনি নিজেদের পারফরম্যান্সে। আমরা অনেকদিন পর খেললাম। ৯ মাস পর। খুশি যে মাঠে খেলতে পেরেছি। কিন্তু ম্যাচ ফিটনেস শতভাগ নেই। এখন চেষ্টা করতে হবে সেখান থেকে ভালো করার জন্য।’ জেমি ডের অধীনে বাংলাদেশ দুই বছরের বেশি সময় ধরে আছে। সুজল তা জানেন। তাই বলেছেন,‘বাংলাদেশের কোচ অনেকদিন ধরে আছেন। তার অধীনে উন্নতি হচ্ছে। আমরা খারাপ করেছি। বাংলাদেশ সেই তুলনায় ভালো করেছে। পরের ম্যাচের দিকে আমরা চেয়ে আছি। প্রতিশোধ নয়, সেরাটা দিতে চাই নিজেদের দেশের জন্য, দলের জন্য।’

পরিবেশ বাঁচানোর পরামর্শ দিয়ে কটারে শিকার কোহলি
স্পোর্টস ডেস্ক॥ দীপাবলির শুভেচ্ছা জানিয়ে টুইটারে একটি ভিডিও শেয়ার করার পর বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন বিরাট কোহলি। ভারতের সোশ্যাল মিডিয়ায় তার ভিডিও নিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। ১৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে কোহলি বলেন, ‘ঈশ্বর আপনাকে ও আপনার পরিবারকে দিওয়ালির সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি দিক। এই দিওয়ালিতে আতশবাজি পোড়াবেন না, পরিবেশের সুরা নিশ্চিত করুন এবং আপনার ভালোবাসার মানুষের সাথে পবিত্র উপলটি উদ্যাপন করুন।’ ভিডিও মেসেজটি পোস্ট করার পর থেকে বিরাট কোহলি টুইটার ট্রেন্ডের প্রথম সারিতে রয়েছেন। অনেক টুইটার ব্যবহারকারীই কোহলির পোস্টটি পছন্দ করেননি, তবে ভারতীয় অধিনায়কের অনেক ভক্ত আবার বার্তাটি সমর্থন করছেন। তারপর থেকেই হ্যাশট্যাগ স্ট্যান্ডউইথবিরাট টুইটারে ট্রেন্ড করছে। কিন্তু এই ভিডিও মেসেজের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য ট্রেন্ডও টুইটারে উপরের দিকে রয়েছে, যেখানে মানুষ বিরাট কোহলি ও আনুশকা শর্মার বিরুদ্ধে তাদের ােভ প্রকাশ করেছেন।
অনেক টুইটার ব্যবহারকারী প্রশ্ন তুলছেন, কিছুদিন আগে বিরাট কোহলির জন্মদিন উপলে যখন আতশবাজি পোড়ানো হয় সেসময় তিনি কেন তার প্রতিবাদ করেননি? একটি টুইটে কোহলিকে ‘জ্ঞান দেয়া বন্ধ’ করতে বলে পোস্টদাতা লিখেছেন, ‘আমার উৎসব তোমার সামাজিক সচেতনতা তৈরির উপল নয়।’ আরেকজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, ‘এই ব্যক্তি কয়েকদিন আগেই আতশবাজিতে ভরপুর আইপিএল ফাইনাল খেলেছেন। তিনি আমাদের উপদেশ দিচ্ছেন কীভাবে উদ্যাপন করতে হয়, বিসিসিআই বা আইপিএলের আয়োজকদের কী তিনি একই উপদেশ দিয়েছিলেন?’একজন ব্যবহারকারী আবার ক্রিকেট মাঠের জন্য গাছ কাটা থেকে শুরু করে খেলোয়াড়দের ভ্রমণের জন্য বাস, ট্রেন, বিমানে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের বিষয়টিও তুলে এনেছেন তার পরিবেশ সুরা বিষয়ক উক্তির জবাবে।

ফুটবল দলের কোচ জেমি ডে করোনায় আক্রান্ত
স্পোর্টস ডেস্ক॥ বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের কোচ জেমি ডে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। রবিবার সকালে দেশ রূপান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ। ৪১ বছর বয়সী এই কোচের এখন পর্যন্ত কোনো উপসর্গ নেই। হোটেলে আইসোলেশনে রয়েছেন তিনি। প্রধান কোচ পজিটিভ হওয়ায় রবিবার জাতীয় দলের সকালের অনুশীলন পিছিয়ে বিকালে নেয়া হয়েছে। নেপালের বিপে ফিফা ফ্রেন্ডলি সিরিজ খেলছে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে গত শুক্রবার প্রথম ম্যাচে ২-০ গোলে জেতে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা।
আগামী ১৭ নভেম্বর দ্বিতীয় ম্যাচটি একই মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। করোনা নিয়ে জেমি ডে বরাবরই সতর্ক ছিলেন। ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হলে সেদিনই বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, ‘আগে জীবন পরে খেলা। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের খেলা বন্ধ রাখা উচিত।’ এর দুই দিন পরই বাছাইপর্বের ম্যাচ স্থগিত হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে। জেমিও সহকারী কোচকে নিয়ে ফিরে যান ইংল্যান্ডে।

ঘুরে দাঁড়ানো জয়ে আশা জিইয়ে রাখল জার্মানি
স্পোর্টস ডেস্ক॥ প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েও ইউক্রেনের বিপে ৩-১ গোলের দারুণ এক জয়ে উয়েফা নেশন্স লিগের ফাইনাল ফোরে যাওয়ার আশা বাঁচিয়ে রেখেছে জার্মানি। রেড বুল অ্যারেনায় শনিবার রাতে ‘এ’ লিগের ৪ নম্বর গ্রুপের এই জয়ের পর ফাইনাল ফোরে যেতে জার্মানির আর একটি ড্র চাই। ফাইনাল ফোরের লড়াই হবে সামনের বছর অক্টোবরে। ভেন্যু এখনো ঠিক হয়নি।
এদিন দ্বাদশ মিনিটে এগিয়ে যায় ইউক্রেন। ডি-বক্সে অলেকসান্দার জুবকভের শট ব্লক হওয়ার পর তিনি বল দেন ইয়ারেমচুককে। জোরালো শটে ঠিকানা খুঁজে নেন ২৪ বছর বয়সী এই ফুটবলার। জার্মানির সমতা ফেরাতে অবশ্য বেশি সময় লাগেনি। প্রতি আক্রমণে ২৩তম মিনিটে মাঝমাঠ থেকে গোরেটস্কার বাড়ানো বল ধরে ডি-বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের শটে ল্যভেদ করেন সানে। ৩৩তম মিনিটে দলকে এগিয়ে দেন ভেরনার। রবিনের ক্রস ডি-বক্সের ডান দিকে দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ছয় গজ বক্সের সামনে বাড়ান গোরেটস্কা। হেডে ফাঁকা জালে বল পাঠান ভেরনার।
৬৪তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলে ব্যবধান বাড়ান ভেরনার। ডান দিক থেকে মাথিয়াস গিন্টারের বাড়ানো বল ডি-বক্সে পেয়ে চেলসি ফরোয়ার্ডের নেওয়া শট প্রতিপরে এক খেলোয়াড়ের পায়ে লেগে জালে জড়ায়। বাকি সময়ে ইউক্রেনের আরও দুটি চেষ্টা পোস্টে লেগে ফিরলে হতাশায় মাঠ ছাড়তে হয় তাদের।

তামিমদের দাপুটে জয়
স্পোর্টস ডেস্ক॥ দারুণ শুরু পেয়েও ইনিংসটা বড় করতে পারলেন না তামিম ইকবাল। ১০ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় করলেন ১৮ রান। তবে মোহাম্মদ হাফিজের ব্যাটে ভর করে দাপুটে জয়ই তুলে নিল লাহোর কালান্দার্স। শনিবার পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) এলিমিনেটর-১ ম্যাচে পেশোয়ার জালমিকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে কালান্দার্স। সুবাদে দলটি জায়গা করে নিয়েছে এলিমিনেটর-২ ম্যাচে। রবিবার যেখানে মুলতান সুলতানসকে হারাতে পরলেই ফাইনালে পা রাখবে তামিমরা। করাচি ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং বেছে নিয়েছিল তামিমতে লাহোর কালান্দার্স। পেশোয়ার জালমি আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৭০ রান করে।
দলটির পে শোয়েব মালিক ২৪ বলে ৩৯, ফ্যাফ ডু প্লেসিস ২৫ বলে ৩১ ও হারদাস ভিলজোয়েন ১৬ বলে ৩৭ রান করেন। লাহোরের পে দিলবার হুসাইন সর্বাধিক ৩ উইকেট নেন। ২টি করে উইকেট নেন শাহিন শাহ আফ্রিদি, হারিস রউফ ও ডেভিড উইসে।
জবাব দিতে নেমে তামিম ভালো শুরুর আভাস দেন। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে রাহাত আলিকে দুটি চার হাঁকান। সাকিব মাহমুদের পরের ওভারে হাঁকান ছক্কা। তবে এর এক বল পরই উইকেটের পেছনে ক্যাচ হন তামিম। সাকিব ওই ওভারের প্রথম বলে ফিরিয়েছিলেন আরেক ওপেনার ফখর জামানকেও (৬)। ২৫ রানে ২ উইকেট হারানো লাহোর দলীয় ৩৩ রানে অধিনায়ক সোহেল আখতারকেও (৭) হারিয়ে বসে। তাকেও শিকার বানান সাকিব মাহমুদ। হাফিজের ব্যাটে সেই ধাক্কা কাটিয়ে জয়ের বন্দরে নোঙর করে লাহোর। ৩৪ বলে ফিফটি পূরণ করা হাফিজ শেষ পর্যন্ত ৪৬ বলে ৯ চার ও ২ ছক্কায় অপরাজিত ৭৪ রানের ইনিংস খেলেন। ম্যাচসেরাও তিনি। এর আগে কোয়ালিফায়ার ম্যাচে সুপার ওভারে মুলতান সুলতানসকে হারিয়ে ফাইনালে পা রাখে করাচি কিংস। এখন তামিমদের লাহোর ও মুলতান সুলতানসের মধ্যে জয়ী দল ফাইনালে সঙ্গী হবে করাচির।

ভাগ