লোকসমাজ ডেস্ক॥ ধর্মানুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিষ্কৃত যে শিার্থীর নিখোঁজ হওয়া নিয়ে কয়েকদিন তোলপাড় হয়েছে, সেই তিথি সরকার বিপদ এড়াতে নিজেই আত্মগোপনে গিয়ে অপহরণ নাটক সাজিয়েছিলেন বলে দাবি করেছে সিআইডি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী তিথি সরকারকে গ্রেফতারের একদিন পর বৃহস্পতিবার সিআইডি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মলনে সংস্থাটির সাইবার পুলিশ সেন্টারের ডিআইজি জামিল আহমদ এই কথা বলেন।
১৮ দিন ধরে নিখোঁজ থাকা তিথি সরকারকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা এক মামলায় বুধবার বিকাল পৌনে ৪টার দিকে নরসিংদীর মাধবদীর পাঁচদোনায় স্বামীর এক দূরসম্পর্কীয় আত্মীয়র বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানান তিনি। তিথির বিরুদ্ধে ফেইসবুকে ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ তুলে ২৪ অক্টোবর ক্যাম্পাসে বিােভ করেছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিার্থী। সেখানে ইসলামি শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন, আহলে হাদিসের মতো ধর্মভিত্তিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে অংশ নিয়েছিল ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের কর্মীরাও।
তাদের দাবির মুখে ২৭ অক্টোবর ওই তিথিকে সাময়িক বহিষ্কার করে কর্তৃপ। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়।
এর আগে গত ২৫ অক্টোবর নিজের ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার বিষয়ে অভিযোগ জানাতে পল্লবী থানার উদ্দেশ্যে মিরপুরের বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি এই তরুণী। এ বিষয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে ডিআইজি জামিল আহমদ বলেন, “গত ২৫ অক্টোবর মিরপুরের পল্লবীর বাসা থেকে বেরিয়ে তিথি প্রেমিক শিপলু মল্লিকের সঙ্গে বাগেরহাটে গিয়ে বিয়ে করেন। এরপর তারা ৯ নভেম্বর ঢাকা ফিরে আসেন। পরে নরসিংদীর ওই বাড়িতে আত্মগোপন করেন তিথি। “৩১ অক্টোবর সিআইডির সাইবার মনিটরিং টিম দেখতে পায়, সিআইডির মালিবাগ কার্যালয়ের চারতলা থেকে তিথি সরকারকে ‘হাত পা-বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে’ বলে একটি মিথ্যা পোস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা হয়। এটি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। প্রকৃতপে সিআইডিতে এরকম কোনো ঘটনা ঘটেনি।
“এই ঘটনার তদন্তে নেমে গুজব রটনাকারী নিরঞ্জন বড়াল নামের একজনকে রামপুরার বনশ্রী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। নিরঞ্জনসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে গত ২ নভেম্বর পল্টন থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করা হয়।” সিআইডি কর্মকর্তা জামিল বলেন, “তদন্তে জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের ২০১৭-১৮ শিাবর্ষের তিথি সরকার তার ফেইসবুক আইডি ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় ধর্মীয় উসকানিমূলক পোস্ট, কমেন্ট ও তথ্য শেয়ার করেন। যার ফলে বিশ্বদ্যালয়ের শিার্থীরা এর বিরুদ্ধে আন্দোলন ও সমাবেশ করে। ভবিষৎ বিপদ এড়াতে এবং নিজেকে নিরাপদ রাখতে নিজের সংগঠনের (ধর্মীয় একটি সংগঠন) কিছু নেতাকর্মীর পরামর্শে ফেইসবুক আইডি হ্যাকড হয়েছে মর্মে গত ২৩ অক্টোবর পল্লবী থানায় একটি জিডি করেন তিথি।
“তিথি সরকার স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে থেকে অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন। তার ধারণা ছিল এভাবে আত্মগোপনে থেকে নিজেকে লুকিয়ে অপহরণের দায়ভার অন্যর ওপর চাপিয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত সংক্রান্ত ঘটনা থেকে রেহাই পাবেন বা ঘটনা অন্যদিকে ধাবিত হবে।”
তিথিকে গ্রেফতারের আগে তার স্বামী শিপলু মল্লিককে বুধবার বেলা পৌনে ১২ টার দিকে রাজধানীর কাপ্তানবাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানান তিনি। গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতা এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়াসহ অন্যান্য অভিযোগে আরেকটি মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানান জামিল আহমদ। এক প্রশ্নে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, “তিথি সরকারকে এই কর্মকাণ্ডে তার পরিবার এবং অন্য কেউ সহযোগিতা করেছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সংবাদ সম্মলনে সিআইডির সাইবার পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কামরুল আহসান, সাইবার ইন্টিলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কর্মকর্তা মুহাম্মদ রেজাউল মাসুদ, সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনস কর্মকর্তা এস এম আশরাফুল আলম উপস্থিত ছিলেন।





