আকরামুজ্জামান ॥ যশোরের গ্রামে গ্রামে আমন ধান কাটার ধুম পড়েছে। নতুন ফসল ঘরে উঠাতে কৃষকরা আনন্দে মেতে উঠেছেন। বিস্তীর্ণ মাঠে ধানকাটা ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। ধান চাষের জন্য এবছর আবহাওয়া অনুকূলে হওয়ায় ভালো ফলনের আশা করছেন তারা। তবে নতুন ধান বাজারে তোলার পর কাঙ্খিত দাম পাবেন কীনা তা নিয়ে চাষিদের মধ্যে রয়েছে এক ধরনের হতাশা। যশোর জেলার ৮টি উপজেলায় দিগন্ত বিস্তৃত ফসলের মাঠ রয়েছে। এসব ফসলের মাঠে শোভা পাচ্ছে সোনালী রঙের আমন ধান। প্রকৃতিতে এ দৃশ্য এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ফসল ঘরে তোলার সঠিক সময় হওয়ায় কৃষক মাঠে মাঠে ধান কাটতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। আর বাজারে বর্তমান ধানের দাম আশানুরূপ হওয়ায় কৃষকরা বেশ খোশ মেজাজেই আছেন।
কৃষক বলছেন, অন্যান্য বছরে আমন মৌসুমে আবহাওয়ার বিরূপ আচরণের কারণে তারা বেশ বিড়ম্বনায় ছিলেন। কিন্তু এবছর সঠিক সময়ে বৃষ্টি হওয়ায় ধানের ফলন ভালো হয়েছে। এজন্য উৎপাদন ভালো হবে বলে তারা আশা করছেন। যে কারণে গত বছরের চেয়ে বিঘাপ্রতি ৪ থেকে ৫ মণ ধান বেশি হবে বলে আশা করছেন তারা। সামনে বৃষ্টি না হলে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই এসব ধান ঘরে তুলতে পারবেন বলে চাষিরা মনে করছেন।
জেলার সদর উপজেলা ও বাঘারপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ মাঠে কৃষক ধান কাটার কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। কেউ ধান কাটছেন আবার কেউ আঁটি বাঁধছেন। কেউবা মাথায় বা গরুর গাড়িতে করে ধান বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন। সদর উপজেলার লেবুতলা এলাকার কৃষক আমজাদ হোসেন বলেন, অন্যান্য বছরে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আমন মৌসুমে ধান ঘরে তুলতে বেগ পেতেন। কিন্তু এ বছর ধান কাটার উপযুক্ত সময়ে আবহাওয়া অবিকল চৈত্রের মতো। যে কারণে ধান কেটে মাড়াই করে তা শুকিয়ে বাজারে তুলতে তাদের কোনো অসুবিধা হবে না বলে আশা করছেন। তিনি বলেন, তাদের এলাকায় এখনও যারা ধান কেটে মাড়াই করতে পেরেছেন তারা বিঘাপ্রতি ২০ থেকে ২২ মণ করে ফলন পেয়েছেন। আমনের এমন ফলন কৃষকের জন্য খুবই খুশির বলে তিনি জানান। একই এলাকার কৃষক শরিফুল ইসলাম বলেন, বাজারে বর্তমান ধানের দাম ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা। এ দামে ধান বিক্রি করলে তারা কিছুটা লাভ করতে পারবেন। তবে বাজারে যখন ধানের আমদানি বেড়ে যাবে তখন এ দাম থাকবে কীনা তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন, এ বছর করোনার কারণে তাদের নানা সঙ্কটের মধ্য দিয়ে ধান চাষ করতে হয়েছে। এখন যদি ধানের ন্যায্য দাম বহাল না থাকে তাহলে চরম ক্ষতির মুখে পড়বেন কৃষক। বাঘারপাড়ার রায়পুরের কৃষক শামসুর রহমান বলেন, ধানের বর্তমান বাজার নিয়ে আমরা অসন্তুষ্ট নই। তবে সামনে এ দাম থাকবে কীনা তা নিয়ে চিন্তায় আছি। কারণ প্রতিবছরই বাজারে পর্যাপ্ত নতুন ধান তোলার পর ধানের দাম পড়ে যায়। কৃষকের গোলার ধান যখন শেষ হয়ে যায় তখন আবার ধানের দাম বেড়ে যায়। তাই সরকারের কাছে আমাদের দাবি, কৃষক বাঁচানোর স্বার্থে এব ছর ধানের দাম যেন স্থিতিশীল থাকে। তিনি বলেন, করোনার কারণে এমনিতে আমরা খারাপ অবস্থায় রয়েছি। ধার-দেনা করে ও বাকিতে সার কীটনাশক কিনে জমিতে প্রয়োগ করেছি। বাজারে ধানের দাম ভালো থাকলে এসব দেনা পরিশোধ করতে পারবো। নইলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) দীপঙ্কর কুমার দাস বলেন, যশোরে চলতি বছরে আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলায় মোট ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫১০ হেক্টর আমন আবাদ হয়েছে। ইতিমধ্যে ৮ উপজেলার ২৫ শতাংশ আমন ধান কেটে কৃষক ঘরে তুলেছেন। তিনি বলেন, আবহাওয়া আগাম বার্তায় যা বলছে তাতে আশা করা যায় সামনে বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হবে না। ফলে আর ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যেই নির্বিঘেœ কৃষক তাদের কষ্টার্জিত ফসল সহজেই ঘরে তুলতে পারবেন।





