খেলার খবর

‘নিষেধাজ্ঞা এবং করোনা আমাকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এনে দিয়েছে’
স্পোর্টস ডেস্ক ॥ নিজে ছোট্ট একটা বিষয়কে নিয়েছিলেন খুবই হালকাভাবে। ভেবেছিলেন, ‘এ আর এমন কি! চুপচাপ থাকলেই তো হয়ে যায়। আমি নিজে তো আর কোনো অন্যায়ের সঙ্গে জড়াচ্ছি না।’ সাকিব আল হাসানের এমন ভাবনাটাই তার জন্য শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়াল। ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পাওয়ার পর বিষয়টাকে হালকাভাবে নিয়ে তা জানাননি কাউকেই। আইসিসিকে তো নয়, এমনকি বিসিবিকেও না। যে কারণে বিষয়টাকে আইসিসি নিয়েছে খুবই সিরিয়াসলি। শেষ পর্যন্ত বড়সড় নিষেধাজ্ঞা থেকে বাঁচতে পারলেও এক বছরের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েন সাকিব। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছিল ২ বছরের জন্য। কিন্তু তদন্ত কাজে সহযোগিতার কারণে শুরুতেই এক বছরের নিষেধাজ্ঞা মওকুফ করে দেয় আইসিসি। সেই নিষেধাজ্ঞা থেকে সাকিব মুক্ত হয়েছেন ২৯ অক্টোবর। এখন তিনি মুক্ত-স্বাধীন। যে কোনো সময় নামতে পারবেন খেলার মাঠে। সে ল্েয বৃহস্পতিবার রাতেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঢাকা ফিরে এসেছেন সাকিব আল হাসান। আগামী ১৫ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট। সাকিবের সেই টুর্নামেন্ট দিয়েই মাঠে ফেরার কথা রয়েছে। তার আগে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন সাকিব। সেখানে তিনি স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন, ‘কেউ যেন (কোনো ক্রিকেটার) কোনো বিষয়কেই হালকা করে না দেখে। বিশেষ করে ক্রিকেট দুর্নীতির বিষয়গুলো। ফিক্সিংয়ের কোনো প্রস্তাব কিংবা কোনো গন্ধ পেলেও যেন সেটা দ্রুত সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্টকে জানিয়ে দেয়া হয়।’ গত বছর আইসিসি যখন সাকিবের শাস্তির কথা ঘোষণা করে, তখন একই সঙ্গে তার সঙ্গে ভারতীয় জুয়াড়ি দীপক হুদার যে যোগাযোগ হয়েছিল, সে প্রমাণও প্রকাশ্যে উপস্থাপন করে তারা। ২০১৭ সালের নভেম্বর থেকে যে দীপক হুদার সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে সাকিবের সঙ্গে কথা-বার্তা হতো, সে প্রমাণও উপস্থাপন করে আইসিসি। ইউটিউব চ্যানেলে সাকিব বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার শাস্তি পাওয়ার পর আমি অনুশোচনায় ভুগেছি। অনুতপ্ত হয়েছি। কোনোভাবেই আমার এমন ভুল করা উচিৎ হয়নি। আমি মনে করি, এখান থেকে বড় একটা শিা পেয়েছি। সবার কাছেই অনুরোধ জানাবো, আপনারা এ ধরনের ভুল কখনো করবেন না। যখনই এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে, তখনই আপনি আইসিসি কোড অব কন্ডাক্টের অধীনে নিজের দায়িত্বে চলে যাবে বিষয়টাকে কিভাবে সামলাবেন। বিষয়টাকে হালকাভাবে না নিয়ে, দ্রুত সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্টকে জানিয়ে দেয়াই হবে উত্তম।’ কি করতে হবে এই ধরনের পরিস্থিতিতে, সেটাও জানিয়ে দিয়েছেন সাকিব। তিনি বলেন, ‘আপনার উচিৎ হবে, অবশ্যই বিষয়টাকে একজন অ্যান্টি করাপশন অফিসারকে জানানো। সেই অফিসার স্থানীয় কিংবা আন্তর্জাতিক- যেই হোন। আমরা সবাই এই প্রসিডিউর সম্পর্কে খুব ভালোভাবে জানি। তাদেরকে বিষয়টা না জানিয়ে কোনো ভুল কেউ কখনো করবেন না। এ বিষয়টাকে কেউ হালকাভাবেও নেবেন না। যখনই আপনি কারো দ্বারা প্রভাবান্বিত হওয়ার মত অবস্থায় যাবেন, তখনই সেটা কাউকে না কাউকে জানিয়ে দেবেন।’ গত বিশ্বকাপ চলাকালেই তার এ বিষয়টা নিয়ে আইসিসির তদন্ত চলমান ছিল। সাকিব জানালেন, এ ধরনের তদন্তের বিষয়টা মাথায় নিয়ে বিশ্বকাপে খেলাটা ছিল মানসিকভাবে অনেক বড় একটি কষ্টের কাজ। যদিও বিষয়টা কেউ জানতো না। কিন্তু বিশ্বকাপ শুরুর ৬ মাস আগে থেকেই সাকিব আইসিসির অ্যান্টি করাপশন ইউনিটের কর্মকর্তাদের অধীনে ছিলেন। তারা নিয়মিত সাকিবের সঙ্গে যোগাযোগ করতো এবং তিনিও তদন্ত কাজে আইসিসিকে যথাসম্ভব সব ধরনের সহযোগিতা করে গেছেন। সাকিব বলেন, ‘এটা ছিল খুবই চ্যালেঞ্জিং একটি কাজ।’ পরণেই তিনি যোগ করেন, ‘লম্বা সময় ধরে তদন্ত কাজ চলছিল। যে কারণে তারা নিয়মিতই আমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল। ওটা ছিল আমার জন্য সত্যিই একটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। এটা কখনোই একজন ক্রিকেটাররে জন্য ভালো কিছু হতে পারে না। এমনকি এসব কারণে ঠিকমত ঘুমও হয় না।’
নিষেধাজ্ঞার কবলে যে পড়তে যাচ্ছেন, সে বিষয়ে জানতেন সাকিব আল হাসান। তিনি বলেন, ‘আমি জানতাম, কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। যদিও আমি ভাবতাম, কিছুই হবে না। আমি আসলে নিশ্চিত ছিলাম না, কি শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে আমাকে। যখন বিষয়টা সম্পর্কে আমি জানছি, তখন আপনারাও বিষয়টা সম্পর্কে জেনে গেছেন। কিন্তু তদন্তকালীন সময়টা আমার জন্য মোটেও সহজ কিছু ছিল না।’
এতকিছুর পরও বিশ্বকাপে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছিলেন সাকিব। ব্যাট এবং বল হাতে সমান পারফরম্যান্স দেখান তিনি। ৮৬.৫৭ গড়ে ৬০৪ রান করার পাশাপাশি ১১ উইকেটও সংগ্রহ করেন তিনি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো অলরাউন্ডার ৬০০ প্লাস রান এবং ১০ প্লাস উইকেট শিকার করেন। সাকিব জানিয়ে দেন, আইসিসির তদন্তের কোনো প্রভাবই তার পারফরম্যান্সে পড়েনি। তিনি বলেন, ‘এটা আমার বিশ্বকাপ পারফরম্যান্সে মোটেও কোনো প্রভাব ফেলেনি। আমি হয়তো বিশ্বকাপের আগেও নিষিদ্ধ হতে পারতাম। কারণ, তদন্ত তো শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরের দিকে। আমি কখনোই ভাবিনি যে, তদন্ত চলার পরও বিশ্বকাপে এতটা ভালো খেলতে পারবো।’
তাহলে কিভাবে বিশ্বকাপে এতটা ভালো করেছিলেন সাকিব? তিনি বলেন, ‘আমি মানসিকভাবেই চেয়েছিলাম, এই বিশ্বকাপে ভালো করতে হবে আমাকে। কারণ, আগের বিশ্বকাপে আমি খুব বাজেভাবে কাটিয়েছিলাম। আগেরবার আমি নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারিনি। আমি চিন্তা করেছিলাম, এটা ছিল আমার জন্য খুবই সঠিক একটি সময় এবং সঠিক একটি বয়স। আর ওটা (তিন নম্বরে ব্যাটিং করা) ছিল আমার জন্য খুবই ভালো একটি পজিশন। এ কারণেই আমি চেষ্টা করেছিলাম, সর্বোচ্চটা ঢেলে দিতে।’ সাকিব জানিয়ে দিয়েছেন, এক বছরের নিষেধাজ্ঞা এবং একই সঙ্গে করোনা মহামারি, তার জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘যখন আমি সংবাদটা (নিষেধাজ্ঞার) শুনলাম, তখন এটা ছিল আমার জন্য অনেক বড় একটি ধাক্কা। আমি খুবই ভেঙে পড়েছিলাম এবং দুঃখ পেয়েছিলাম। তবে একই সময় আমি চিন্তা করলাম, ওকে জীবন হয়তো আমাকে একটা বড় সুযোগ এনে দিয়েছে। আমি নিজেকে প্রস্তুত করার জন্য এক বছর সময় পেলাম এবং যখন ফিরে আসবো, তখন আমাকে আবারও প্রমাণ করতে হবে। যখন নিষিদ্ধ হলাম, তখন এই বুঝ দিয়েই নিজের মধ্যে সাহস সঞ্চয় করলাম।’করোনা কিভাবে তার মধ্যে ভিন্ন চিন্তার উদয় ঘটিয়েছে? এ বিষয়ে সাকিব বলেন, ‘করোনা এবং আমার নিষেধাজ্ঞা, আমাকে নিজের জীবন সম্পর্কে ভিন্নভাবে চিন্তা করতে সুযোগ করে দিয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, সংগ্রামই কেবল এসব পরিস্থিতি থেকে একজন মানুষকে উত্তরণ ঘটাতে সাহায্য করে। যখন কোনো মানুষ এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে ফিরে আসে, তখন তারা বিষয়টাকে খুব শক্তভাবে আঁকড়ে ধরতে পারে। আমি এখন খুব ভিন্নভাবে কিছু চিন্তা-ভাবনা করছি। যা আমাকে আমার জীবন গঠনে সহায়তা করছে।’ সাকিব নিষেধাজ্ঞা থেকে ফেরার পর সতীর্থরা তাকে স্বাগত জানিয়েছেন। মাহমুদউল্লাহ, মুমিনুল, মুশফিকসহ প্রায় সবাই। বিষয়টা কেমন অনুভূতি জাগাচ্ছে? সাকিব বলেন, ‘সবার অনুভূতি জানা খুব সহজ বিষয় নয়। তারা হয়তো আমাকে সন্দেহ করতে পারে, কিংবা বিশ্বাসও না করতে পারে। আমি এসব বিষয়কে একেবারে বাদ দিচ্ছি না। তবে আমি সবার সঙ্গেই সব সময় যোগাযোগ রা করে চলেছি। এ কারণে হয়তো অন্যদের মতো আমার অনুভূতিটা একই রকম নাও হতে পারে। আমি আশা করবো, কারো সঙ্গে এ নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না এবং তারা আমাকে আগে যেমন বিশ্বাস করতো এখনও সেভাবে করবে। যদিও আমার প্রতি একটু সন্দেহ থাকা অসম্ভব কিছু নয়। এটা নিয়ে আমি খুব বেশি হতাশও হবো না।’

আইসোলেশনে গৌতম গম্ভীর
স্পোর্টস ডেস্ক ॥ করোনাভাইরাস হানা দিয়েছেন টিম ইন্ডিয়ার সাবেক তারকা ক্রিকেটার ও বিজেপি’র সংসদ সদস্য গৌতম গম্ভীর। সংক্রমণ ঝুঁকি এড়াতে বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন তিনি। শুক্রবার নিজেই টুইট করে খবরটি জানান গম্ভীর, “বাড?িতে সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। তাই নিজেকে আইসোলেশনে আছি, আমার কভিড টেস্টের ফলের অপো করছি। প্রত্যেককেই করোনা সংক্রান্ত নিয়মকানুন মেনে চলার অনুরোধ জানাচ্ছি, বিষয়টি হালকাভাবে নেবেন না। নিরাপদে থাকবেন।” দুর্গাপূজার পর থেকে নতুন করে রাজধানী দিল্লিতে লাফিয়ে বাড?ছে করোনা সংক্রমণ। বৃহস্পতিবারের বুলেটিনেই জানানো হয়েছিল, চব্বিশ ঘণ্টায় সেখানে ৬ হাজার ৮৭২ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ে। দৈনিক সংক্রমণের নিরিখে কেরালার পরই দিল্লি।

জয়ের আশায় বসুন্ধরার মেয়েরা
স্পোর্টস ডেস্ক ॥ করোনাভাইরাসের থাবায় মেয়েদের ফুটবল লিগ হঠাৎই স্থগিত হয়ে যায় গত মার্চে। স্থগিত না হলে লিগটা শেষ হয়ে যেত অনেক আগেই। কিন্তু লিগটা বাতিল করেনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। আশার কথা হলো, নয় মাস ঝুলে থাকা এই লিগ আগামীকাল শনিবার থেকে আবারও শুরু হতে যাচ্ছে। প্রথম দিনে কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে বিকেল ৩ টায় মুখোমুখি হবে শিরোপা প্রত্যাশী বসুন্ধরা কিংস ও এফসি উত্তরবঙ্গ। বসুন্ধরা কিংস পাঁচ ম্যাচে পূর্ণ ১৫ পয়েন্ট নিয়ে আছে শীর্ষে। দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন ১৫ গোল করে অন্যদের ছাড়িয়ে এগিয়ে আছেন। এছাড়া নাসরিন একাডেমি এক ম্যাচ কম খেলে ৯ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে। বসুন্ধরা কিংস আবারও লিগ শুরুর ম্যাচটিকে কাল জয় দিয়েই উদযাপন করতে চায়। লিগে সবচেয়ে শক্তিশীল দল তারাই। বসুন্ধরা এ পর্যন্ত সবগুলো ম্যাচ জিতেছে বড় ব্যবধানে। করোনার মধ্যে সবার আগে অনুশীলনে নেমেছে তারাই। দলের কোচ মাহমুদা শরীফা তাই জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী, ‘আমরা জয়ের ল্য নিয়েই মাঠে নামতে যাচ্ছি। প্রায় তিন সপ্তাহের অনুশীলন হয়েছে। অনুশীলনে মেয়েরা খারাপ করেনি। তাদের ম্যাচ ফিটনেস কতটুকু আছে তা দেখতে হবে। তবে আশা করছি দল আগের মতোই পারফরম্যান্স করতে পারবে।’

তিন ক্রিকেটারকে ছেড়ে দিলো পাকিস্তান
স্পোর্টস ডেস্ক ॥ সম্ভাবনা জাগিয়েও ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচটি জিততে পারেনি পাকিস্তান। মূল ম্যাচ টাই হওয়ার পর সুপার ওভার জিতে হোয়াইটওয়াশ এড়িয়েছে সফরকারী জিম্বাবুয়ে। এখন দুই দলের সামনে অপো টি-টোয়েন্টি সিরিজের। যেখানে শক্তির ব্যবধান আরও কমে আসে। এ সিরিজের জন্য নিজেদের স্কোয়াড থেকে তিন খেলোয়াড়কে ছেড়ে দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। প্রাথমিকভাবে পুরো ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য ঘোষণা করা হয়েছিল ২২ সদস্যের স্কোয়াড। এখন সেটি নামিয়ে আনা হয়েছে ১৯ জনে। বাদ পড়ে তিনজন হলেন দুই টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান ইমাম উল হক, আবিদ আলি ও বাঁহাতি স্পিনিং অলরাউন্ডার হারিস সোহেল। আগামী শনিবার (৭ নভেম্বর) থেকে রাওয়ালপিন্ডিতে শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজে থাকছেন না তারা। এছাড়া স্কোয়াডের বাকি সবাইকেই রেখে দিয়েছে পিসিবি। যেখানে রয়েছে আব্দুল্লাহ শফিক, হায়দার আলি, রোহাইল নাজির, জাফর গোহারদের মতো অনভিষিক্ত ক্রিকেটাররাও। এ সিরিজেও অধিনায়কত্ব করবেন বাবর আজম। তার ডেপুটি হিসেবে থাকছেন শাদাব খান।
জিম্বাবুয়ের বিপে পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি স্কোয়াড
বাবর আজম (অধিনায়ক), শাদাব খান (সহ-অধিনায়ক), আব্দুল্লাহ শফিক, ফাহিম আশরাফ, ফাখর জামান, হায়দার আলি, হারিস রউফ, ইফতিখার আহমেদ, ইমাদ ওয়াসিম, খুশদিল শাহ, মোহাম্মদ হাফিজ, মোহাম্মদ হাসনাইন, মোহাম্মদ রিজওয়ান, মুসা খান, রোহাইল নাজির, শাহিন শাহ আফ্রিদি, উসমান কাদির, ওয়াহাব রিয়াজ ও জাফর গোহার।
পাকিস্তান সফরে জিম্বাবুয়ে স্কোয়াড
চামু চিবাবা (অধিনায়ক), ফারাজ আকরাম, রায়ান বার্ল, ব্রায়ান চারি, টেন্ডাই চাতারা, এল্টন চিগুম্বুরা, টেন্ডাই চিসোরো, ক্রেইগ আরভিন, তিনাশে কামুনহুকামুই, ওয়েসলে মাধভেরে, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা, কার্ল মুমবা, রিচমন্ড মুতুম্বামি, ব্রেসিং মুজারাবানি, রিচার্ড গারাভা, সিকান্দার রাজা, মিল্টন শুমবা, ব্রেন্ডন টেলর, ডোনাল্ড তিরিপানো এবং শন উইলিয়ামস।

আর্জেন্টিনা দলে ফিরলেন ডি মারিয়া, নেই আগুয়েরো
স্পোর্টস ডেস্ক ॥ আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে জায়গা ফিরে পেলেন পিএসজির তারকা উইঙ্গার অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া। নভেম্বরের শেষের দিকে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচের জন্য কোচ লিওনেল স্কালোনি ২৫ জনের যে দল দিয়েছেন, তাতে আছেন ডি মারিয়া। তবে নেই ম্যানচেস্টার সিটির তারকা স্ট্রাইকার সার্জিও আগুয়েরো। গত বছরের পর আর আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে খেলা হয়নি ডি মারিয়ার। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্রথম রাউন্ডের দুই ম্যাচে তাকে বাইরে রেখেছিলেন স্কালোনি। যা নিয়ে ােভও ঝেরেছিলেন ডি মারিয়া। অবশেষে জাতীয় দলে জায়গা ফেরত পেলেন পিএসজি তারকা। সার্জিও আগুয়েরো দলে নেই চোটের কারণে। এছাড়া আরও দুই খেলোয়াড় দলে জায়গা করে নিতে পারেননি। তারা হলেন-ভিয়ারিয়ালের হুয়ান ফয়েথ আর ফিওরেন্তিনোর জার্মান পেজ্জেয়া। আগামী ১২ নভেম্বর ঘরের মাঠে প্যারাগুয়ের মোকাবেলা করবে আর্জেন্টিনা। চারদিন পর দ্বিতীয় ম্যাচে আলবিসেলেস্তেরা খেলবে পেরুর মাঠে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্রথম দুই ম্যাচ জিতে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে লিওনেল মেসির দল।
আর্জেন্টিনা স্কোয়াড
গোলরক: এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, অগাস্টিন মার্চেসিন
ডিফেন্ডার: নেহুয়েন পেরেজ, নিকোলাস ওতামেন্দি, ফাকুন্দো মেদিনা, লুকাস মার্টিনেজ, নিকোলাস তাগিয়াফিকো, ওয়াল্টার কানেমান
মিডফিল্ডার: রোদ্রিগো ডি পল, মার্কোস অকুনা, নিকোলাস দমিনগেস, রবের্তো পেরেইরা, আলেসান্দ্রো পাপু গোমেজ, অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া, লুকাস ওকাম্পোস, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, এসকিয়েল পালাসিয়োস, জিওভানি লো সেলসো, গিদো রদ্রিগেজ
ফরোয়ার্ড: লুকাস আলারিও, লিওনেল মেসি, পাউলো দিবালা, ইয়োকিন কোরেরা, নিকোলাস গঞ্জালেস, লাউতারো মার্টিনেজ।

সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়বে হ্যারি কেন : মরিনহো
স্পোর্টস ডেস্ক ॥ টটেনহ্যামের হয়ে সর্বোচ্চ ২৬৬ গোলের রেকর্ড ভাঙ্গা হ্যারি কেনের জন্য ‘সময়ের ব্যাপার’ বলে মন্তব্য করেছেন হোসে মরিনহো। গতকাল কাবটির দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে ২০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। ২৭ বছর বয়সী এই তারকা গতকাল স্পার্সদের হয়ে ইউরোপা লিগে বুলগেরিয়ান কাব লুডোগোরেটস এর বিপে ৩০০ তম ম্যাচে অংশ নিয়ে গোলের ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। এটি ছিল চলতি মৌসুমে কেনের ১২তম গোল। কেনের আগে টটেনহ্যামের হয়ে মাত্র দুইজন খেলোয়াড় ২০০ গোলের মাইলফলক অতিক্রম করেছেন। তারা হলেন জিমি গ্রেভস ও ববি স্মিথ। মরিনহো বিটি স্পোর্টসকে বলেন, ‘ওই গোল সংখ্যা তাকে (হ্যারি কেন) কাব কিংবদন্তিতে পরিণত করেছে। এমন একজন তরুণ ফুটবলারের জন্য প্রিমিয়ার লিগ ও অন্য টুর্নামেন্টের এই অর্জন অভাবনীয় ব্যাপার। আজ (গতকাল) রাতে সে একটি গোল করার পাশাপাশি আরেকটি গোলে সহায়তা করেছে। আমার মনে হয় সে (রেকর্ড ভাঙতে) পারবে। এটি সময়ের ব্যাপার মাত্র।’ ২০১১ সালে স্পার্সদের হয়ে প্রথম গোল করেছিলেন কেন। প্রতিপ ছিল আয়ারল্যান্ডের শ্যামরক রোভার্স। কিন্তু কাবের নিয়মিত খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে তাকে সেখানে আরো তিন বছর ব্যয় করতে হয়েছে। এই সময় লিস্টার সহ আরো কয়েকটি কাবে ধারে খেলতে হয়েছে তাকে। কেন বলেন, রেকর্ডের বিষয়টি তার মাথায় ছিল না, ‘২০০ গোলের মাইলফলক ছোঁয়া দারুন অর্জন। তবে নিশ্চিত সেখানে আরো কয়েকটি গোলের সুযোগ ছিল। রেকর্ডের বিষয়টা আমার মনে ছিল না। আপনারাই গোল করার পর আমাকে সেটি জানিয়েছেন। খেলার সময় সেটি মনে রাখাটা কঠিন। অবশ্যই আপনি যখন খেলা শেষ করবেন, তখন এসব নিয়ে ভাববেন।’ কেনের এই অর্জনের প্রশংসা করেছেন সাবেক স্পার্স কিংবদন্তি গ্যারি লিনেকার ও গ্লেন হোডল। লিনেকার টুইট করেছেন, ‘৩০০তম ম্যাচে স্পার্সদের হয়ে কেনের ২০০তম গোল দারুন এক অর্জন।’ গ্রেভসের রেকর্ড কেন অতিক্রম করতে সম হবে উল্লেখ করে হোডল বিটি স্পোর্টসকে বলেন, ‘তার জন্য আমি আনন্দিত। সেখানে তার চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন দু’জন মাত্র খেলোয়াড় স্মিথ ও জিমি। কাবে থেকে গেলে সে জিমিকে ধরে ফেলতে পারবে বলে আমি মনে করি।’

দিল্লিকে হারিয়ে ফাইনালে মুম্বাই
স্পোর্টস ডেস্ক ॥ আইপিএলের প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে দিল্লিকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে মুম্বাই। ম্যাচে ৫৭ রানের বড় ব্যবধানে জিতে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। দিল্লির বিপে এই ম্যাচে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে ০ রানেই ওপেনার রোহিত শর্মা বিদায় নেয়। তবে আরেক ওপেনার ডি কক এবং তিনে নামা সুর্যকুমার যাদবের লড়াকু ব্যাটিংয়ে রোহিতকে হারানোর ধাক্কা কাটিয়ে ভালো ভাবেই ম্যাচে ফেরে মুম্বাই। দলীয় ৭৮ রানের মাথায় ২৫ বলে ৪৮ রান করে ডি কক বিদায় নিলে ভাঙে এই জুটি। ডি ককের বিদায়ের পর বেশিদূর যেতে পারেনি সুর্কুমার যাদব। ৩৮ বলে ৫১ রান করে দলীয় ১০০ রানের মাথায় বিদায় নেন তিনি। যাদবের পর ব্যক্তিগত ০ রানেই আউট হন কাইরেন পোলার্ড। ক্রুনাল পান্ডেও বেশিদূর যেতে পারেনি। ১০ বলে করেন ১৩ রান। তবে ইশান কিসান এবং হার্ডিক পান্ডেয়ার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ২০০ রানে পৌছায় মুম্বাই। ইশান ৩০ বলে ৫৫ রান করেন। আর হার্ডিক ১৪ বলে ৩৭ রান করেন। জিতলেই ফাইনাল, এমন ম্যাচে কিনা অসম্ভব রকমের বাজে ব্যাটিং করে দিল্লির প্রথম তিন ব্যাটসম্যান। ট্রেন্ট বোল্টের প্রথম ওভারেই বিদায় নেয় পৃথ্বি শ ও আজিঙ্কা রাহানে। দুজনেই আউট হন ০ রানেই। ওই ওভারে মেডেন সহ দুটি উইকেট লাভ করেন তিনি। এরপর বোলিংয়ে আসেন বুমরাহ। তিনিও কোন রান না দেয়ার আগেই শিখর ধাওয়ানকে আউট করেন। শূন্যতেই তিনজনের বিদায়ের পর কিছুটা পাল্টা আক্রমনের চেষ্টা করেন শ্রেয়াস আয়ার। কিন্তু দলীয় ২০ রানের মাথায় ৮ বলে ১২ রান করা আয়ার বিদায় নিলে দিল্লির পতন আরো ঘনিয়ে আসে। এরপর দলীয় ৪১ রানের মাথায় ব্যক্তিগত মাত্র ৩ রান করে আউট হয় রিশাব পান্ট। হার যখন প্রায় নিশ্চিত তখন শেষ চেষ্টা চালান স্টোইনিস এবং অর প্যাটেল। দুজনেই ঝড়ো ব্যাটিংয়ের চেষ্টা করেন। কিছুটা সফলও হন তারা। দুজনে মিলে ৭১ রানের জুটি গড়েন। কিন্তু স্টোইনিস ৪৬ বলে ৬৫ রান করে বিদায় নিলে ভাঙে এই জুটি। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকা দিল্লি শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে মাত্র ১৪৩ রান করে। প্যাটেল ৩৩ বলে ৪২ রান করেন। বোল্ট দুটি এবং বুমরাহ ৪টি উইকেট লাভ করেন। অবশ্য হারলেও এখনো একটি সুযোগ আছে দিল্লির। এলিমিনেটর ম্যাচে যারা জিতবে তাদের সঙ্গে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে দলটি।

ভাগ