লোহাগড়ায় পিআইও’র খালু শ্বশুর পেলেন গৃহহীনদের ঘর সংবাদ প্রকাশের জের

লোহাগড়া (নড়াইল) সংবাদদাতা ॥ বহুল প্রচারিত দৈনিক লোকসমাজ পত্রিকায় গত মঙ্গলবার ‘লোহাগড়ায় পিআইও’র খালু শ^শুর পেলেন গৃহহীনদের ঘর’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হবার পর তেলেবেগুনে জ¦লে উঠেছেন পিআইও এস.এম.এ করিম। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুর্যোগ সহনীয় গৃহহীনদের ঘর প্রকল্পের সুবিধাভোগী পিআইওর খালু শ^শুর দুলাল মোলার ঘর ছিল তা প্রমাণের ছবিসহ বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যবহুল সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় এলাকায় সাড়া পড়ে যায়। প্রকাশিত সংবাদটি যেন ‘টক অব দ্য টাউনে’ পরিণত হয়।
গত সোমবার সংবাদের প্রয়োজনে বক্তব্য নিতে লোহাগড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসারকে(পিআইও) কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। অথচ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হবার পর মঙ্গলবার এ প্রতিনিধিকে তিনি নিজেই ফোন দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আপনি আমার বিরুদ্ধে নিউজ করেছেন কেনো, একটা প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গেলে পিআইওর বাপের একার প্রকল্প না। প্রকল্পটা সমন্বিত। প্রকল্প কমিটি রেজ্যুলেশন করে ঘর পাশ করে। মন চাইলো আর লেখলেন। ঘর হলো এক বছর আগের আর এখন আপনার কামড় উঠিছে। দুলাল মোলা আমার খালু শ^শুর, কিন্তু আপন খালু শ^শুর না। আপনাগে জায়গায় চাকরি করতে আইছি, আর ফুটো পালিই লেখেন। যত খুশি লেখেন।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পিআইও এস.এম. এ করিমের বিরুদ্ধে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে সেতু/কালভার্ট প্রকল্পের টেন্ডারের কাগজপত্র পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ রয়েছে। টেন্ডারের সিডিউল বিক্রির প্রায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করতেই সরকারি কাগজপত্র পুড়িয়ে ফেলেছেন বলে অভিযোগ। এছাড়াও একই অর্থবছরে সেতু/কালভার্ট প্রকল্পে আমাদা গ্রামে হাজরা খালের ওপর নির্মিত একটি সেতুর নকশা ও স্থান পরিবর্তন করে ঠিকাদারের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিতে নিম্নমানের কাজ করারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ২০১৯-২০ অর্থ বছরে হেরিংবোন প্রকল্পের সিডিউল, সি.এস.শিট রহস্যজনকভাবে অফিস থেকে উধাও হয়ে যায়। এসব ঘটনায় অনিয়মের তদন্ত চেয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহকারী মো. মনিরুজ্জামান তৎকালীন লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ওই সব ঘটনায় তদন্ত চলছে।

ভাগ