যশোরে করোনায় হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট সাজ্জাদ কামালে মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার ॥ করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট (সনোলজিস্ট) ডা. মো. সাজ্জাদ কামাল মৃত্যুবরণ করেছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শনিবার দিবাগত রাতে তার মৃত্যু হয়। হাসপাতালের আরএমও ডা. মো. আরিফ আহমেদ জানিয়েছেন, করোনায় আক্রান্ত হলে গত ২২ অক্টোবর তিনি চিকিৎসার জন্য ঢাকায় চলে যান। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শনিবার দিনগত রাত ২টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ডা. মো. সাজ্জাদ কামাল অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। এর ভেতরেও হাসপাতালে আল্টাসনোগ্রামের কাজ করেছেন তিনি। কয়েকদিন কাজ করার পর তিনি ছুটি নেন। তারপর হাসপাতালের আল্ট্রাসনো করার কাজ বন্ধ হয়ে যায়। গতকাল সকালে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে তার মৃত্যুর সংবাদ পৌঁঁছালে চিকিৎসক, সেবিকা কর্মচারীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। ডা. মো. সাজ্জাদ কামালের বাড়ি রংপুর মহানগরীর কাসারিপাড়ায়। পিতা মৃত সৈয়দ আব্দুল খালেক ও মাতা জেরিনা বেগমের পুত্র তিনি। ঢাকার শাহাবাগ আজিজ কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটিতে বসবাস করতেন তিনি।
গতকাল যশোর সরকারি এমএম কলেজের এক শিক্ষিকা তার স্বামী ও শিশু সন্তানসহ যশোরে ১৯ জন নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে যশোরে মোট ৪ হাজার ১শ’ ৪ জন করোনায় আক্রান্ত হলো। আক্রান্তদের মধ্যে ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানিয়েছেন, গতকাল মেডিকেল কলেজ থেকে ৮৮ নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট আসে। এর ভেতর ১৯ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের ১৫ জন যশোর সদরে, ২ জন অভয়নগরে, শার্শা ও মনিরামপুরে ১ জন করে আক্রান্ত হয়েছেন। যশোর সদরে আক্রান্তদের ভেতর মা ও ১ বছর বয়সী পুত্রসহ ৪ জন রয়েছেন একই পরিবারের। তারা হচ্ছেন- যশোর সরকারি এমএম কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও শহরের খড়কি এলাকার বাসিন্দা অধ্যাপক মাহবুবা (৩৭), তার ১ বছরের শিশুপুত্র আরহাম, ৩ বছরের পুত্র মাহীর ও ৭ বছর বয়সী কন্যা তাসিন। গত ২৭ অক্টোবর নমুনা পরীক্ষা দেয়ার পর ৩১ অক্টোবর নমুনা পরীক্ষা করা হয়। গতকাল ১ নভেম্বর এ নমুনার পরীক্ষার রিপোর্ট আসে। এতে ৪ জন আক্রান্ত হন। এর আগে অধ্যাপক মাহবুবার স্বামী কুষ্টিয়া সরকারি মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. মাসুদর রহমান করোনায় আক্রান্ত হন। তিনি ২৪ অক্টোবর নমুনা পরীক্ষা দিয়েছিলেন। অধ্যাপক মাসুদুর রহমান জানিয়েছেন, প্রথমে তার জ্বর হয়েছিল। এরপর নমুনা পরীক্ষা দিলে করোনা পজেটিভ আসে। আক্রান্ত অন্যরা হলেন- শহরের পুরাতন কসবা পালবাড়ী এলাকার কামরুজ্জামান (৫০), কিশোর মো. সেফাত খান (১২), ২৫০ শয্যা হাসপাতালের কায়সার পারভীন (৫০), নীলগঞ্জের একই পরিবারের গোবিন্দ কুন্ডু (৬৫), তার স্ত্রী সুনিতী কুন্ডু (৫০), ছেলে অভিজিৎ কুন্ডু (২১), শেখহাটির ওয়ালিউল ইসলাম (৩৪), সদরের মো. রুহুল হুদ্দুস (৬৫) ও খাজুরার আব্দুল কালাম (৪১)।

ভাগ