বৃষ্টিতে উপকূলের নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা

লোকসমাজ ডেস্ক॥ বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ হওয়ায় উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে গত দু’দিন থেমে থেকে হালকা থেকে ভারি বৃষ্টি হচ্ছে। এ দু’দিনের বৃষ্টিতে জেলার কিছু নিম্নাঞ্চলে অস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে টানা বৃষ্টির কারণে বাগেরহাটের মোংলা বন্দরে অবস্থান করা জাহাজে পণ্য ওঠানামার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের ভারপ্রপ্ত উপপরিচালক সঞ্জয় কুমার দাস বলেন, এই বৃষ্টিতে শীতকালীন সবজি ও মাঠে থাকা আমন ধানের কোনো ক্ষতি হবে না। তবে এই বৃষ্টি আরও দু-এক দিন অব্যাহত থাকলে মাঠে থাকা ফসলের ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। বাগেরহাটে শীতকালীন সবজির মধ্যে টমেটোর আবাদ সবচেয়ে বেশি হয়। এখন পর্যন্ত সাতশ’ হেক্টর জমিতে টমেটোর আবাদ হয়েছে। বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশিদ বলেন, বৃষ্টিতে জেলার কিছু নিচু এলাকায় পানি জমেছে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। তবে তা সাময়িক।
মোংলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নি¤œচাপের প্রভাবে বৃহস্পতিবার রাত থেকে গতকাল শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত মোংলাসহ সুন্দরবন উপকূলে একটানা ভারী বৃষ্টিপাতসহ ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায়। এই বৈরি আবহাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে মোংলা সমুদ্র বন্দরে স্বাভাবিক কার্যক্রম। নৌযান কর্মচারীদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার হলেও বৃষ্টির কারণে জাহাজে পণ্য ওঠানামার কাজ বিঘিœত হচ্ছে। আবহাওয়া অফিস জানায়, উত্তর পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত গভীর নি¤œচাপটি উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। মোংলাসহ তিন সমুদ্র বন্দরে ৪ নম্বর সতর্ক সংকেত নামিয়ে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সাথে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সমুদ্রে অবস্থানরত সকল মাছ ধরা নৌকা ও ট্রলারসমূহকে উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। এ দিকে মুষলধারে ভারী বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো হাওয়ায় এই অঞ্চলে বৈরি আবহাওয়া বিরাজ করছে। টানা বৃষ্টিতে জনজীবনে ভোগান্তিসহ বিপাকে পড়েছে নি¤œবিত্ত শ্রমজীবী মানুষ। বৃষ্টিতে মোংলার বিভিন্ন এলাকাসহ নি¤œাঞ্চলে জলাবদ্ধতা এবং মাছের ঘের প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জোয়ার ও বৃষ্টিতে পশুর ও মোংলা নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। সাগর ও নদী উত্তাল রয়েছে। নদী সংলগ্ন চাঁদপাই ইউনিয়নের কানাই নগরসহ আশপাশের কয়েক গ্রাম জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। পৌর এলাকায় জমে থাকা পানি নামতে না পেরে স্থায়ী জলাবদ্ধতায় রুপ নিয়েছে। এসব এলাকার মানুষের দুর্ভোগের অন্ত নেই।
শামীম আহসান মল্লিক, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) থেকে জানান, একদিকে বঙ্গোপসাগরের সৃষ্ট নি¤œচাপ অন্যদিকে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের টানা বর্ষণে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নে সাড়ে ৩ হাজার মৎস্য ঘের ও পুকুর ভেসে গেছে। পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নি¤œাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে মৎস্য সম্পদের। প্রবল বর্ষণে মৎস্য অধ্যুষিত মোরেলগঞ্জের জিউধরা, বহরবুনিয়া, নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের প্রায় শতভাগ মৎস্য ঘের তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে হাজার হাজার পুকুরের মাছ। মৎস্য ঘের ভেসে যাওয়ায় মালিক ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। ইউপি সদস্য ও মৎস্য ব্যবসায়ী মিরাজুল ইসলাম মিলন তালুকদার জানান, গেল ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ও আম্পানের ব্যাপক ক্ষতির পর আবারো এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা ঘের মালিক ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের দ্বারা অসম্ভব। এখন তাদের একমাত্র ভরসা সরকারি সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা । ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক মজুমদার জানান, দু’দিনের ভারী বর্ষণে মৎস্য ঘের ব্যবসায়ীদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। ভেসে গেছে হাজার হাজার পুকুর ও ঘেরের মাছ। কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জলাবদ্ধতা না হলে ভারী বর্ষণে আমন ক্ষেত পানির নিচে থাকলেও তেমন কোন ক্ষতির সম্ভবনা নেই। উপজেলা সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার বিনয় কুমার রায় জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় খোঁজ নিয়ে পানিতে নিমজ্জিত পুকুর ও ঘের মালিকদের প্রাথমিক ক্ষতির তালিকা নিরুপণ করে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরকে অবহিত করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, দু’দিনের বৃষ্টিতে যেসব ঘের তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা চেয়ারম্যানদের তালিকা নির্ণয় করতে বলা হয়েছে।

ভাগ