মোস্তফা রুহুল কুদ্দুস ॥ দীর্ঘ মেয়াদী করোনায় কর্মহীন হয়ে পড়া বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষকে সরকার প্রণোদনা ও সাহায্যে সহযোগিতা দিয়েছে। কেবল পায়নি ছাত্রছাত্রীদের সহায়তা অভিভাবকরা। এর মধ্যেই আকাশছোঁয়া দ্রব্যমূল্য তাদের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড একেবারই ভেঙে দিয়েছে। অসহায় অভিভাবকদের এমনই এক দুঃসময়ে মরার ওপর খাড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। সরকার কর্তৃক বন্ধ ঘোষিত প্রতিষ্ঠানে কোন কাস/পরীক্ষা না নিয়েই তারা আট মাসের বেতন আদায়ে ফি নোটিস জারি করেছে। এতে অসচ্ছল ও নিম্নআয়ের অভিভাবকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। নতুন শিক্ষাবর্ষে কাস শুরু হবার পরপরই বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস শনাক্ত হয় বাংলাদেশে। এর প্রেক্ষিতে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে গত ১৭ মার্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। চলতি মাস পর্যন্ত এ ঘোষণা কার্যকর রয়েছে। অর্থাৎ শিক্ষাবর্ষের প্রায় আট মাস বন্ধের মধ্যেই কেটে যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকায় কোথাও কোন কাস ও পরীক্ষা নেয়া হয়নি। বেতন ফি আদায়ে কোন উচ্যবাচ্য করা হয়নি। এমনকি এ সংক্রান্ত কোন সরকারি নির্দেশনাও নেই। যেহেতু করোনাকালীন দুঃসময়ে সরকার অসহায় কর্মহীন মানুষকে প্রণোদনা দিয়েছে এবং নানাভাবে সাহায্য সহযোগিতা করেছে। সেহেতু অভিভাবকরা ধরে নেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সময় কাস পরীক্ষা না নিয়ে বেতন-ফি ভাড়া নেয়া হবে না। অথচ কোন কিছু বিবেচনা না করেই বন্ধকালীন বন্ধকালীন সময়ের সমুদয় টাকা এক সাথে আদায়ে চাপ সৃষ্টি করছে। উচ্চ বেতন ফি আদায়কারী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। তারা অভিভাবকদের নানাভাবে চাপ দিচ্ছে। এমন এক সময়ে এই চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, যখন প্রতিটা নিত্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া। মানুষের জীবন ধারণের সব পথ রুদ্ধ প্রায়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমন অমানবিক চাপে অভিভাবকদের মাঝে বিরাজ করছে চরম ক্ষোভ-হতাশা।
কাস/পরীক্ষা না নিয়ে এসব খাতে টাকা আদায়ের যৌক্তিকতা সম্পর্কে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা বলছেন, তারা অনলাইনে কাস নিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে একেবারেই শেষ সময়ে শিক্ষা অফিসের চাপে তারা দায়সারাভাবে কিছু দিন কাস নিয়েছেন। তাতে সুফল না পাওয়ায় অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী অনলাইন কাসে অংশ নেয়নি। এমন দায়সারা দায়িত্ব পালন করে আট মাসের বেতন/ফি আদায় করাকে অমানবিক ও অন্যায় হিসেবে দেখছেন অভিভাবকরা। তারা এই টাকা মওকুফের দাবি জানিয়েছেন। করোনায় মেস ভাড়া মওকুফের দাবিতে যেসব সংগঠন সোচ্চার ভূমিকা পালন করে, তারা এ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়েছেন এবং ছাত্র-অভিভাবকদের পাশে থেকে দাবি আদায়ের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
করোনার বন্ধে বেতন/ফি আদায়ে সরকারি কোন নির্দেশনা আছে-কিনা জানতে চাইলে যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোল্লা আমীর হোসেন লোকসমাজকে বলেন, বন্ধকালীন সময়ে বেতন/ফি কি হারে নেয়া হবে তা এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এ ব্যাপারে একটি নীতিমালা তৈরি করছে। জেলা শিক্ষা অফিসার এএসএম আব্দুল খালেক বলেন, বেতন/ফি নেয়ার ব্যাপারে সরকার পক্ষ থেকে কোন নির্দেশনা দেয়া হয়নি। পুলিশ লাইন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মনোতোষ মন্ডল বেতন /ফি নেয়ার বিষয়টি শিকার করে বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে বকেয়া পরিশোধের কথা বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে কোন পীড়াপীড়ি করা হচ্ছে না। কালেক্টরেট স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোদাচ্ছের হোসেন জানান, যা করছি নিয়মের মধ্যেই করছি। নিয়মের বাইরে কিছু করছি না। সখিনা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলেন, করোনার সময়ে অনলাইনে কাস চলেছে। সে কারণে র্পূণ বেতন/ফি নেয়া হচ্ছে না। অবস্থা বুঝে ছাত্রীদের অনেক ছাড় দেয়া হচ্ছে।



