আবারও গ্রিজমান-এমবাপ্পে, আবারও হারলো ক্রোয়েশিয়া

লোকসমাজ ডেস্ক॥ ২০১৮ বিশ্বকাপ ফাইনালের কথা মনে আছে নিশ্চয়। রাশিয়ার ফুটবল মহাযজ্ঞের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ফ্রান্স-ক্রোয়েশিয়া। আতোঁয়া গ্রিজমান ও কিলিয়ান এমবাপ্পে জাদুতে ক্রোয়েটদের বুকে ছুরি বসিয়ে বিশ্ব জয়ের উল্লাসে মেতেছিল ফরাসিরা। উয়েফা নেশনস লিগে আবারও যখন দল দুটি মুখোমুখি, তখন বিশ্বকাপ ফাইনালের স্মৃতি টাটকা হয়ে ওঠা স্বাভাবিক। তবে এবারও ভাগ্য বদলায়নি ক্রোয়েশিয়ার। সেই গ্রিজমান-এমবাপ্পের গোলেই ২-১ ব্যবধানে হেরেছে ফ্রান্সের কাছে। রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনালের পর অবশ্য এটাই তাদের প্রথম সাক্ষাৎ নয়। গত বছরের সেপ্টেম্বরে এই নেশনস লিগেই মুখোমুখি হয়েছিল ফ্রান্স-ক্রোয়েশিয়া। সেবারও জয়ের হাসি ঠোঁটে নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল দিদিয়ের দেশমের দল। ২০১৮ বিশ্বকাপের ফাইনালের মতোই ৪-২ গোলে জিতেছিল ফরাসিরা।
ওই ম্যাচে ফ্রান্সকে সমতায় ফেরানো গ্রিজমান বুধবার রাতের খেলায় লে ব্লুদের এগিয়ে নেন চমৎকার গোলে। জাগরেবের মাঠে অষ্টম মিনিটে ডি বক্সের ভেতর থেকে বার্সেলোনা ফরোয়ার্ডের নেওয়া বাঁ পায়ের শট বারপোস্টের নিচের দিকে লেগে জড়িয়ে যায় জালে। মিনিটে সাতেক পর ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়েছিল বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু এমবাপ্পের শট পোস্ট ঘেঁষে চলে যায়। গোল শোধে মরিয়া ক্রোয়েশিয়া প্রথমার্ধেই বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিল। কিন্তু ফ্রান্স গোলকিপার উগো লরির দারুণ সব সেভে গোলের দেখা পায়নি লুকা মদরিচরা। দ্বিতীয়ার্ধে তাদের অপেক্ষা শেষ হয়। ৬৪ মিনিটে স্বাগতিকদের সমতায় ফেরান নিকোলা ভ্লাচিচ। বক্সের ভেতর ব্রেকালোর পাস প্রথমে বাঁ পায়ে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডান পায়ের টোকায় জালে জড়িয়ে দেন তিনি। বল পজেশন কিংবা সুযোগ তৈরিতে এগিয়ে ছিল ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু শেষ হাসিটা হেসেছে ফ্রান্সই। পল পগবা বদলি হিসেবে মাঠে নামার পর খেলায় গতি বাড়ে ফ্রান্সের। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড মিডফিল্ডারের চেষ্টা একবার ব্যর্থ হলেও এমবাপ্পের জয় নিশ্চিত করা গোলটির উৎস তিনিই। পগবার র‌্যাকিং পাস খুঁজে নেয় লুকাস দিনিয়াকে, এভারটন লেফট ব্যাকের ক্রস থেকে লক্ষ্যভেদ করে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের জয় নিশ্চিত করেন এমবাপ্পে। ২০১৭ সালের ২৫ মার্চ ফ্রান্স দলে অভিষেক হওয়ার পর এমবাপ্পের এটি ১৬তম গোল। এই সময়ে তার চেয়ে বেশি গোল পেয়েছেন কেবল অলিভিয়ের জিরু (২১) ও গ্রিজমান (১৯)। ফ্রান্সের সর্বশেষ পাঁচ গোলের তিনটিতেই জড়িত ছিলেন প্যারিস সেন্ত জার্মেই ফরোয়ার্ড, ২টি নিজে করেছেন, আরেকটি অ্যাসিস্ট।

ভাগ