বার্সার মেসি এখন আর্জেন্টিনার

লোকসমাজ ডেস্ক॥ কথাটা বারবার বলা হয়েছে। হাজার হাজারবার বলা হয়েছে। এটা লিওনেল মেসির কানেও বেজেছে অষ্টপ্রহর। কথাটা কী? মেসি যতটা না আর্জেন্টিনার তার চেয়ে বেশি বার্সেলোনার। বার্সেলোনার লাল-নীল জার্সি গায়ে মেসি যতটা উজ্জ্বল, ততটাই নিষ্প্রভ আর্জেন্টিনার আকাশি-নীল জার্সিতে। এটা অবশ্য হাওয়া থেকে পাওয়া খবরও নয়। কতবার, কত অজস্রবার দেখাই তো গেছে বার্সেলোনার হয়ে মাঠে কীভাবে আকাশের তারার মতো জ্বলজ্বল করেন। সেই একই মেসি যখন আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে তোলেন কী নিষ্প্রভ! খারাপ ফল, দলের ভেতরের সংকট আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মেসিকে দুষ্টগ্রহের মতোই যেন ঘিরে ছিল। কিন্তু সেই ছবিটাই এখন উল্টে গেছে। বার্সার মেসি ভুগছেন অসুখে। গত গ্রীষ্মে সেই অসুখের প্রতিক্রিয়াই তো দেখলো বিশ্ব। ক্যাম্প ন্যুকে বিদায় দিতে চেয়ে বার্সেলোনার বোর্ডের কাছে ছাড়পত্র চাইলেন। সাবেক গুরু পেপ গার্দিওলার ছায়ায় ম্যানচেস্টার সিটিকেই সম্ভবত নতুন ঠিকানা বানাতে চেয়েছিলেন। চ্যাম্পিয়নস লিগে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ৮-২ গোলে হার তার হৃদয়ের যন্ত্রণাকে খুঁচিয়ে এনেছিল বাইরে।
এখন আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসিকে লাগছে শান্ত, সমাহিত। আর্জেন্টিনার ‘নাম্বার টেন’কে মনে হচ্ছে তিনি এমন একটা দলের মধ্যে জায়গা পেয়েছেন যেখানে তাকে পেয়ে অন্যরা সবাই খুশি, কিন্তু তার ওপরে সতীর্থদের প্রত্যাশার আকাশচুম্বী প্রত্যাশা নেই। তার অবিশ্বাস্য প্রতিভার কারণে তার কাছে প্রত্যাশা থাকবে না তা নয়। তবে মেসিই সব করে দেবেন, এরকম আশায় সতীর্থরা বসে থাকে না। নতুন কোচ লিওনেল স্কালোনি তার খেলোয়াড়দের বুঝতে পারেন, বিশেষ করে মেসিকে। সাম্প্রতিক মৌসুমগুলোতে বার্সেলোনার সঙ্গে অধিনায়কের যোগাযোগটাই যেন ঠিকঠাক হচ্ছিল না। একইভাবে আর্জেন্টিনার কোচও মেসিকে বুঝতে পারছিলেন না। মাঠের ফল ক্রমাগত এঁকে চলেছিল ব্যর্থতার চকখড়ি।
দুই বছর আগে মেসি যখন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ালেন, এই বাস্তবতা কেউ ভাবতে পারেনি। কল্পানাই করা যায়নি ২০২০ সালে করোনাপীড়িত কঠিন এক পৃথিবীতে মেসিকে পাওয়া যাবে নতুন রূপে। এই মেসি নির্ভার। এই মেসি আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে উৎফুল্ল। তার সুখের ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে দলের পরিবেশ। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের প্রথম দুটি ম্যাচেই সেই প্রমাণ পাওয়া গেল আলবিসেলেস্তের খেলায়। ইকুয়েডরের সঙ্গে অনুজ্জ্বল আর্জেন্টিনা জিতেছে তার পেনাল্টি গোলে। সহ-খেলোয়াড়দের সঙ্গে অনেক বেশি যোগাযোগ গড়ে উঠেছে তার। দ্বিতীয় ম্যাচে বলিভিয়াকে তারা হারালো তাদের মাঠে গিয়ে, ১৫ বছর পর। পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু ভেন্যু লা পাজের মাঠে গত দেড় দশকে আর্জেন্টিনা দল এত স্বচ্ছন্দে কখনও খেলেনি। এটা সম্ভব হয়েছে, কারণ মেসির ওপর চাপ ছিল না। মেসি কোনও গোল করেননি, তারপরও আর্জেন্টিনা জিতেছে। কারণ সতীর্থদের উজ্জীবিত করতে পেরেছেন মেসি। পিছিয়ে পড়েও আর্জেন্টিনা জিতেছে মার্তিনেজ ও কোরেয়ার গোলে। শেষদিকে মেসি পায়ে বল রেখে বলিভিয়ানদের আক্রমণে ওঠার সুযোগ নস্যাৎ করে দিয়েছেন। আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা এখন চাইছেন নতুন মেসির সুখের প্রহরটা লম্বা হোক আকাশি-নীল জার্সিতে। সামনে কোনও উদযাপনের মুহূর্ত তাহলে আসতেও পারে।

ভাগ