মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর) ॥ চৌগাছার ঝিনাইকুণ্ড সাদিপুর জামিরা নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ২০ বছর পর এমপিওর সুযোগ পেলেও তা হাতছাড়া হয়ে যায়। স্থানীয় এক শিল্পপতি প্রতি মাসে কিছু সম্মানী দিতেন, মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে সেটিও বন্ধ। বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্তির জন্য সংশ্লিষ্টদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক কর্মচারী। ২০০০ সালে উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের জামিরা গ্রামে ৫৮ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় বালিকা বিদ্যালয়। স্থানীয় কতিপয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্বের হাতে গড়া এই প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয় ঝিনাইকুণ্ড সাদিপুর জামিরা নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আলো ছড়াতে থাকে বালিকা বিদ্যালয়টি। বর্তমানে অন্তত ২শ শিক্ষার্থী এই বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। শিক্ষক কর্মচারীর সংখ্যা ১১। প্রতিষ্ঠালগ্নে স্থানীয়দের সহযোগিতায় একটি টিন শেডের ভবন নির্মাণ করেন শিক্ষক কর্মচারীরা।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দার রহমান বলেন, উপজেলা সদর হতে বেশ দূরে বিদ্যালয়টির অবস্থান। এলাকার গরিব পরিবারের মেয়ে সন্তানরা বাড়িতে থেকেই পড়া লেখার সুযোগ পাচ্ছেন। বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক কর্মচারী তাদের মেধার সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছেন বিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস ২০ বছর ধরে বেতন নামক সোনার হরিণকে আমরা চোখে দেখতে পাইনি। প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলাম পলাশ জানান, ২০১৯ সালে সর্বশেষ এমপিওভুক্ত ঘোষণা করেন সরকার। আমরাও আবেদন করি। কিন্তু আবেদেনে যে ৪টি শর্তের ওপর সরকার এমপিও দিয়েছেন তার ৩টি পূরণে আমরা সামর্থ হলেও একটি পারিনি। সেটি হচ্ছে সর্বশেষ এসএসসি পরীক্ষায় ৪০ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে, আমাদের ছিল ২৬ জন। তিনি বলেন, বিদ্যালয়টি গ্রামে অবস্থিত, সে কারণে জেএসসি পাশ করার পর অনেকে উপজেলা সদরে চলে যায়। আর যারা থাকে এসএসসি পাশের আগেই অনেকে নানা কারণে ঝরে পড়ে। ফলে ২৫/৩০ শিার্থীর বেশি আমরা পরীক্ষা কেন্দ্রে পাঠাতে পারি না। ফলে সরকার ঘোষিত এমপিও তালিকা থেকে আমরা বাদ পড়েছি। বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য তরিকুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের প্রাণ হলো শিক্ষার্থী। সেই শিক্ষার্থীর কোনো কমতি নেই। প্রতি বছর রেজাল্টও ভালো হয়। তারপরও একটি মাত্র শর্তের কারণে প্রতিষ্ঠানটি এমপিও পায়নি। শিক্ষক কর্মচারীর মানবিক দিক বিবেচনা করে প্রতিষ্ঠানটির এমপিও হওয়া জরুরি। সে জন্য তিনি সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।




