তরুণী ধর্ষণের মাস্টারমাইন্ড জাহাঙ্গীর পুলিশের সোর্স

লোকসমাজ ডেস্ক॥ চট্টগ্রাম মহানগরীর চান্দগাঁও থানার সিঅ্যান্ডবি মৌলভীপুকুর পাড় এলাকায় তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক নারীসহ আটজনকে। এরমধ্যে জাহাঙ্গীর আলম এ ঘটনার মাস্টারমাইন্ড। সে পুলিশের সোর্স বলেও জানিয়েছে স্থানীয়রা। স্থানীয়রা জানায়, পুলিশের সোর্স হিসেবে এলাকায় খুব দাপট জাহাঙ্গীর আলমের। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজনকে বিনা দোষে পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছে সে। এরমধ্যে দেবু বড়ুয়া (৩১), সুজন বড়ুয়া (২৪) ও রিটু দত্ত (৩০) নামে তিন জন রয়েছে। দেবু বড়ুয়া ধর্ষণ না করার কথা পুলিশকেও জানিয়েছে। জাহাঙ্গীর বলে, সে সরল বিশ্বাসে ঘটনার সময় সেখানে গিয়েছিল। প্রয়োজনে পুলিশকে ডিএনএ টেস্ট করার দাবিও করেছিল সে।
সে আটক মনোয়ারার সঙ্গে ধর্ষণের শিকার তরুণীর সমপর্ক থাকার কথাও জানিয়েছিল। একইভাবে সুজন বড়ুয়াও ধর্ষণে জড়িত ছিল না বলে জানিয়েছিল। তবে জাহাঙ্গীর আলমের কথায় ধর্ষিতা তরুণীর বন্ধুকে দুটি চড় মারার কথা স্বীকার করেছে সে। কিন্তু পুলিশ জাহাঙ্গীরের কথায় সুজন বড়ুয়াকে মামলায় জড়িয়ে দিয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার বিজয় কুমার বসাক বলেন, দেবু বড়ুয়া, সুজন বড়ুয়া ধর্ষণে জড়িত না থাকার কথা বললেও ঘটনার সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে সম্পৃক্ত ছিল। এ কারণে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা যদি তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হয় তাহলে সেভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে জাহাঙ্গীর আলম পুলিশের সোর্স কিনা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।
মনোয়ারা বেগম জানায়, ওই তরুণী জাহাঙ্গীর আলমের পূর্ব পরিচিত। ওই তরুণী চকবাজার গণি কলোনি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। তার এক ছেলে রয়েছে। অনেকদিন হয়েছে স্বামীর সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীর ছাড়াছাড়ি হয়েছে। তার স্বামীর সঙ্গে জাহাঙ্গীর আলমের বন্ধুত্ব রয়েছে। চান্দগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজেস বড়ুয়া বলেন, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার গ্রামের বাড়ি থেকে কোনো কারণে ওই নারী শহরে আসতে দেরি করেন। বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় সে সিএনজি টেক্সিতে ওঠার পর আনুমানিক পৌনে ১২টায় কাপ্তাই রাস্তার মাথা মোড়ে সিএনজি থেকে নামেন ওই তরুণী। সেখান থেকে চকবাজার গণি কলোনির বাসায় যাওয়ার জন্য একটি রিকশা খুঁজতে থাকেন। এসময় ভিকটিম চকবাজারে তার এক পূর্বপরিচিত লোককে ফোন করে কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে তাকে নিয়ে যেতে বলেন। সেখানে জাহাঙ্গীর আলম তাৎক্ষণিকভাবে কু-মতলব নিয়ে তার বন্ধুদের ফোন করে ডেকে আনে। এক পর্যায়ে রিকশায় যাওয়ার সময় তার গতিরোধ করে আসামিরা। পরে রিকশা থেকে নামিয়ে ভিকটিমকে নানা কথাবার্তা বলার এক পর্যায়ে তাকে মারধর করে। আবার সে যাতে কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারে সেজন্য তার মোবাইল ফোন ও টাকা পয়সা কেড়ে নেয়। তদন্ত কর্মকর্তা রাজেস বড়ুয়া বলেন, ওই সময় চকবাজার থেকে ভিকটিমের পূর্ব পরিচিত লোকটি ঘটনাস্থলে পৌঁছে। ওই লোক ভিকটিমকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলে আসামিরা সবাই মিলে তাকেও মারধর করে। মার খেয়ে লোকটি সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এসময় ভিকটিমকে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে আসামিরা পালাক্রমে ধর্ষণ করে ছেড়ে দেয়। সেখান থেকে শুক্রবার ভোরের দিকে তরুণী নিজেই চমেক হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি হন। সেখান থেকে খবর পেয়ে পুলিশ অভিযানে নেমে এক নারীসহ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করে। শুক্রবার রাতে ওই তরুণী চান্দগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তার ৮ আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। পুলিশ অন্য আসামিদের খুঁজছে। জাহাঙ্গীর আলম (৩৮) ও মনোয়ারা বেগম (৫৫) ছাড়াও এ মামলার অন্য আসামিরা হলো, মো. ইউসুফ (৩২), মো. রিপন (২৭), মো. সুজন (২৪), দেবু বড়ুয়া (৩১), মো. শাহেদ (২৪), রিটু দত্ত (৩০)। এদের মধ্যে জাহাঙ্গীর, ইউসুফ, দেবু ও রিটু অটোরিকশা চালক। রিপন ও সুজন বখাটে এবং মনোয়ারা বেগম গৃহিণী এবং নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডের মূল হোতা।

ভাগ