বিনা পরীক্ষায় ‘পাসের’ সিদ্ধান্ত ভাল চোখে দেখছেন না শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকরা

তহীদ মনি ॥ এইচএসসি পরীক্ষা না নিয়ে পূর্বের ফলাফলের ভিত্তিতে মূল্যায়নের সিদ্ধান্তকে ভাল চোখে দেখছেন না যশোরের শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকরা। লোকসমাজের সাথে এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন তাঁরা। বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একযোগে বন্ধ ঘোষণা করা হয় মার্চের শেষ সপ্তাহে। এর কয়েকদিন পর এপ্রিলের শুরুতে এইচএসসি পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। সাধারণ মাদ্রাসা ও কারিগারি শিক্ষা বোর্ডে নিয়মিত অনিয়মিত মিলে প্রায় ১৪ লাখ পরীক্ষার্থী ছিল। করোনার কারণে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত হয়ে যায়। পরবর্তীতে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষামন্ত্রণালয় একাধিক বৈঠকের পর এসএসসি’র ফল প্রকাশ করে এবং উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তিও সম্পন্ন করে। ইতোমধ্যে অনলাইনভিত্তিক কাস চালু হয়েছে। এদিকে কয়েকদফা পিছিয়ে সর্বশেষ ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি বর্ধিত করা হয়েছে। এর মধ্যে গত বুধবার শিক্ষামন্ত্রী জানান, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা হবে না। পূর্বের ফলাফলের ভিত্তিতে তাদের মূল্যায়ন করা হবে। এ সিদ্ধান্ত ঘোষণার সাথে সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও চায়ের টেবিলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। সাবেক অধ্যক্ষ সুলতান আহম্মদ লোকসমাজকে বলেন- সিদ্ধান্তটা শিক্ষার্থীদের জন্যে ক্ষতি হলো। ভাল শিক্ষার্থীরা হতাশায় পড়বে। পরবর্তী ব্যাচের পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষার প্রতি আগ্রহ হারাবে। সরকারি এমএম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের বাংলা বিভাগের সাবেক প্রধান শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, এটা যুক্তিযুক্ত ও বিজ্ঞানসম্মত সিদ্ধান্ত হতে পারে না। সমস্যা ও ঝুঁকি কিছু আছে, তবে বিকল্প পথ ভাবা যেত। বিশেষ করে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অন্তত সংক্ষিপ্ত কোনো পথ খোঁজা দরকার ছিল। জেএসসি, এসএসসি- বা পূর্ববর্তী ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী ফল নির্ধারণ এবং এইচএসসি পরীক্ষার ক্ষেত্রে যথার্থ হতে পারে না। অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা জীবনের লক্ষ্য স্থির করে পড়াশুনা করেছে তারা গড়ে পাশের রেজাল্ট নিয়ে ভবিষ্যৎ সাজাতে হতাশ হবে। তাছাড়া এ সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে কেউ ফেল করবে না, এটা সমীচীন নয়। যশোর সরকারি এমএম কলেজের সাবেক এক উপাধ্যক্ষ জানান, ঝুঁকি হয়তো ছিল। তবে সব কিছু যখন চলছে, তখন পরীক্ষার মাধ্যমে মেধার মূল্যায়ন হওয়া দরকার ছিল। অধ্যাপক জিল্লুর বারী জানান, করোনায় হয়তো ঝুঁকি ছিল, ফলে সরকারের সিদ্ধান্তকে একেবারে উড়িয়ে না দিয়ে উচ্চ শিক্ষাঙ্গনে যাতে মেধাবীরা যেতে পারে তেমনভাবে ইন্টারভিউসহ প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থা থাকা দরকার। একজন অভিভাবক জানালেন, আমার সন্তান সারাবছর পরিশ্রম করলো। সেও যে ফল পাবে আর তার অনেক বন্ধু সারা বছর পড়াশুনা না করেও একই ফলাফল অর্জন করবে। ঝর্ণা বেগম নামে আর একজন অভিভাবক বললেন, গতবার যারা ফেল করেছে এবার তারা ভাল রেজাল্ট করবে।

ভাগ