বাড়ছে অপরিশোধিত জ্বালানির দাম

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥মেক্সিকো উপসাগর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলে ঘূর্ণিঝড় ডেল্টার আঘাত আর সৌদি আরব ও নরওয়ে থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ার সম্ভাবনায় বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৪৩ ডলার হয়। খবর রয়টার্স ও ইয়াহু ফাইন্যান্স।
বৃহস্পতিবার ডাউ জোনস এক প্রতিবেদনে জানায়, বিশ্বের তেল রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক আগামী বছরের শুরুর দিকে তেলের উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে এগোলেও সৌদি আরব এ পথে হাঁটছে না। পরশু বিকালে এ খবর প্রকাশিত হলেই তেলের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।
বুধবার অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমলেও পরের দিন এটি ৩ দশমিক ২ শতাংশ বা ১ দশমিক ৩৫ ডলার বেড়ে দাঁড়ায় ৪৩ দশমিক ৩৪ ডলারে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটে (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম বুধবার ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমলেও পরেরদিন ১ দশমিক ২৪ ডলার বা ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে হয় ৪১ দশমিক ১৯ ডলার।
এছাড়া উত্তর সাগরে শ্রমিক ধর্মঘটও তেলের মূল্যবৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রেখেছে। এ ধর্মঘটের কারণে ওই অঞ্চল থেকে তেলের সরবরাহ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অয়েল ফার্ম ও শ্রমিক নেতারা জানিয়েছিলেন, শুক্রবার (গতকাল) তারা রাষ্ট্রনিযুক্ত মধ্যস্থতাকারীর সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। উভয় পক্ষই আশা করছে, এ বৈঠক থেকে অচলাবস্থার একটা সুরাহা হবে। এ ধর্মঘটের কারণে নরওয়ে থেকে তেল ও গ্যাস সরবরাহ অন্তত ২৫ শতাংশ কমে গেছে।
আফ্রিকান দেশ লিবিয়ায় তেল উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বিশ্বের তেল রফতানিকারক দেশগুলো। লিবিয়া একটি সময় ওপেকের সদস্য ছিল, যাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া বিশ্বের বহু দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নতুন করে বেড়ে যাওয়ার কারণেও সংকটে পড়েছে ওপেক।
শিকাগোভিত্তিক প্রাইস ফিউচার্স গ্রুপের বিশ্লেষক ফিল ফ্লিন বলেন, ‘যদি সত্য হয়, সৌদি আরবের সিদ্ধান্ত ওপেকের প্রতারক গোষ্ঠীকে সুবিধা করে দেবে, আবার বিশ্বব্যাপী চাহিদা এখনো তুঙ্গে। উৎপাদন কমিয়ে ফেলার এ সিদ্ধান্তটি তেলের বাজারের জন্য অবশ্যই ইতিবাচক।’
ঘূর্ণিঝড় ডেল্টার কারণে বাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে। মেক্সিকো উপসাগরীয় অঞ্চলে যা তৃতীয় মাত্রার শক্তিশালী ঝড় হিসেবে আঘাত হানবে বলে পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে। লিপোও অয়েল অ্যাসোসিয়েটসের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু লিপো বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় ডেল্টা অপরিশোধিত তেলের সরবরাহে বিরাট প্রভাব ফেলবে এবং এ কারণে আমরা অন্তত ৫০ লাখ বারেল তেল পাচ্ছি না।’
মেক্সিকো উপসাগরের এ ঘূর্ণিঝড় যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানতে পারে বলে পূর্বাভাসে বলার পর এখানকার অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আর গ্যাস সরবরাহ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার জানিয়েছে, ঘূর্ণিঘড়টি ঘণ্টায় ১২০ মাইল বা ১৯৫ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানবে যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলে। ঘূর্ণিঝড়টি প্রচণ্ড আঘাত হানছে তেলের বাজারেও।