স্টাফ রিপোর্টার ॥ পেঁয়াজ, সবজি, ভোজ্যতেল ও চালের পর এবার বাজারে উত্তাপ ছড়াচ্ছে আলু। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে যশোরে আলু বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা। একের পর এক নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বি হওয়ায় সাধারণ মানুষ ক্রয়মতা হারিয়ে ফেলছেন বলে ভোক্তাদের অভিমত। এর প্রভাবে বাজারে ক্রেতা সংকট দেখা দিয়েছে বলে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন। পেঁয়াজ ছাড়া রান্নার কাজ চলে, কিন্তু আলুর ব্যবহার প্রায় সবরকম তরকারিতে। সেই আলুর দাম এবার এক লাফে প্রতি কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকায়। গত সপ্তাহেও যশোরের বড়বাজারে প্রতি কেজি আলু ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল। বাজারে এ সপ্তাহে দেশি পেঁয়াজের কেজিতে আরও ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ৮০ টাকা। ভারতীয় আমদানি করা পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা। মরিচের দাম মোটেও কমছে না। কাঁচা মরিচ প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকা, শুকনা মরিচ প্রকারভেদে ২৬০ থেকে ৩০০ টাকা।
বাজারে কিছু সবজির দাম এ সপ্তাহে প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। শুক্রবার বড়বাজারে প্রতিকেজি উচ্ছে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। গত সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছিল ৮০ টাকায়। করলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ৬০ টাকা। ভালো মানের বেগুণ বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ৮০ টাকা। কাঁচকলা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ৫০ টাকা। তাছাড়া অন্যান্য সবজির দাম এ সপ্তাহেও অপরিবর্তিত রয়েছে। শিম বিক্রি হচ্ছে প্রকারভেদে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি, ফুলকপি ৯০ থেকে ১০০ টাকা, টমেটো ৭০ থেকে ৮০ টাকা, বরবটি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, গাজর ৭০ থেকে ৮০ টাকা, শসা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা, মুলো ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বাঁধাকপি ৫০ টাকা, ওল ৫০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, জলপাই ৪০ থেকে ৫০ টাকা, লাউ প্রতিটি ৩৫ থেকে ৫০ টাকা। বড়বাজার এইচ এম এম রোডের খুচরা ব্যবসায়ী আল আমিন জানান, তিনি শুক্রবার যশোর সদরের বিখ্যাত পাইকারি সবজি হাট চুড়ামনকাটিতে গিয়েছিলেন সবজি কিনতে। সেখানে বেগুন প্রতিকেজি পাইকারি দর ৭০ টাকা, উচ্ছে ৮০ টাকা, করলা ৭০ টাকা ও পটল ৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখেছেন। তিনি আরও জানান, সবজির অগ্নিমূল্যের কারণে বাজার ক্রেতা কমে গেছে। এইচ এম এম রোডের আরিফ ভান্ডারের অন্যতম স্বত্বাধিকারী শাহাবুদ্দিন মাতব্বর জানান, অব্যাহত বৃষ্টিতে সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টির পরে আরও অন্তত ১৫ দিন লাগবে বাজারে সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক হতে। এ সময়ের ভেতর বাজারে সবজির দাম কমবে না। এ সপ্তাহে সয়াবিন তেল প্রতি কেজিতে ২ টাকা কমেছে। বড়বাজারের খুচরা বিক্রেতা রবি ব্যানার্জি জানান, তিনি প্রতিকেজি সয়াবিন তেল বিক্রি করছেন ৯৮ টাকা, পাম তেল ৮৮ টাকা ও সরিষার তেল ১২০ টাকা।
বড়বাজারে চালের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। চাল বাজারের পিংকী স্টোরের স্বত্বাধিকারী সুশীল সাহা জানান, শুক্রবার তিনি মোটা স্বর্ণা ধানের চাল প্রতিকেজি খুচরা বিক্রি করেছেন ৪৫ টাকা দরে। বিআর-২৮ ধানের চাল বিক্রি করেছেন ৫০ টাকা, বাংলামতি ৫৬ টাকা, মিনিকেট প্রকারভেদে ৫০ থেকে ৫২ টাকা ও কাজললতা বিক্রি করেছেন ৫০ টাকা। বড়বাজারে এ সপ্তাহেও ব্রয়লার ও সোনালী মুরগি কম দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। শুক্রবার ব্রয়লার বিক্রি হয়েছে ১২৫ টাকা কেজি আর সোনালী বিক্রি হয়েছে ১৮০ টাকা। তাছাড়া লেয়ার মুরগি বিক্রি হয়েছে ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা কেজি ও দেশি মুরগি ৩৮০ টাকা। গরু ও খাসির মাংসের দামও এ সপ্তাহে একই রকম রয়েছে। খাসির মাংস প্রতিকেজি বিক্রি হয়েছে ৭৫০ টাকা, ছাগীর মাংস ৬০০ টাকা ও গরুর মাংস ৫০০ টাকা। এদিকে নিত্যপণ্যের অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ। শুক্রবার বাজার করতে পেয়ারা বিক্রেতা আব্দুল কাদের জানান, বাজারে এখন এমন কোনো পণ্য নেই যার দাম সহনীয় পর্যায়ে। অগ্নিমূল্যের এই বাজারে পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার তুলে দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। গৃহবধূ রোজিনা আক্তার বলেন, বাজারে গিয়ে ‘ভিমরি’ খেতে হচ্ছে। মনে হচ্ছে কয়দিন পর তরকারি কিছুই কিনতে পারবো না।





