করোনায় কারখানা বন্ধ থাইল্যান্ডে, চট্টগ্রামে অস্থির সাগুর বাজার

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ সারাবছরই সাগুর চাহিদা রয়েছে দেশে। রমজান মাস ও পূজার সময় চাহিদা প্রায় দ্বিগুণ হয়। এর মধ্যে কভিড-১৯-এর কারণে থাইল্যান্ডে একটি বৃহৎ সাগু উত্পাদনকারী কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে দেখা দিয়েছে সরবরাহ সংকট। এ কারণে এক মাস ধরে পণ্যটির দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এই সময়ে মণপ্রতি দাম প্রায় ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা বেড়েছে। দুর্গাপূজা যতো ঘনিয়ে আসছে বাজার ততোই অস্থির হয়ে উঠছে।
দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কয়েক সপ্তাহ আগেও পাইকারি পর্যায়ে মণপ্রতি (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) সাগুর দাম ছিল ৩ হাজার ১০০ থেকে ৩ হাজার ১৫০ টাকা। তবে থাইল্যান্ডের বৃহৎ একটি সাগু কারখানা মহামারীর কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পণ্যটির বৈশ্বিক দাম বাড়তে থাকে। আমদানি পর্যায়ে দাম বৃদ্ধিজনিত কারণে দেশেও সাগুর সরবরাহ কমে যায়। এ কারণে ধীরে ধীরে সাগুর দাম বাড়তে থাকে। গত মঙ্গলবার মণপ্রতি ৩ হাজার ৮০০ টাকায় লেনদেন হলেও গতকাল বৃহস্পতিবার ৩ হাজার ৯৫০ টাকায় উঠে গেছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দেশে সবচেয়ে বেশি সাগু বিক্রি হয় পূজা মৌসুমে। আসন্ন দুর্গাপূজাসহ আগামী কয়েক মাস হিন্দুদের একাধিক ধর্মীয় উত্সব রয়েছে। এসব উত্সবে সাগুর চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। এবছর সরবরাহ কমে যাওয়ায় পাইকারি বাজারে পণ্যটির দাম প্রতিদিনই বাড়ছে।
খাতুনগঞ্জের চাক্তাই এলাকার মেসার্স নাজিম অ্যান্ড ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, পূজার কারণে প্রচুর চাহিদা আসছে। কিন্তু থাইল্যান্ডে করোনাভাইরাসের কারণে বড় একটি কারখানার উত্পাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পণ্যটির সরবরাহ সংকটে দামও বেড়েছে। শীত মৌসুমে পশুখাদ্য হিসেবেও সাগুর চাহিদা থাকায় পাইকারি বাজারের পাশাপাশি খুচরা বাজারেও এর দাম ঊর্ধ্বমুখী বলে জানান তিনি।
ব্যবসায়ীরা জানান, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিজি, পাপুয়া নিউগিনি, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ ও ভারতে উত্পাদন হলেও বাংলাদেশে সবচেয় বেশি সাগু আমদানি হয় থাইল্যান্ড থেকে। রমজান ও পূজার মৌসুমে সাগুর চাহিদা থাকে সবচেয়ে বেশি। এছাড়া সারাবছর নানা খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুত, বেকারি ও বস্ত্রশিল্পে সাগুর ব্যবহার রয়েছে। গোখাদ্য ছাড়াও সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন ধরনের চিপস তৈরিতেও সাগুর ব্যবহার বেড়েছে। দেশের বাজারে রমজানের সাগুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। বস্ত্রশিল্পে সুতি কাপড়ের মাড় তৈরি ও শিশুখাদ্য হিসেবেও সাগু ব্যবহৃত হয়। পূজার সময় বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নেপাল ও ভুটানে সাগুর চাহিদা বাড়ে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে এর প্রভাব পড়ে।
জানা গেছে, দেশে সাগুর চাহিদা বার্ষিক ২০ থেকে ২৫ হাজার টন।
সাগু বা সাবুদানা একটি শর্করা জাতীয় খাবার। সাধারণত রোগীর পথ্য হিসেবে এর প্রধান ব্যবহার থাকলেও বর্তমানে ফালুদা, পায়েশ, সুজি, হালুয়া ছাড়াও আলু ও অন্যান্য সবজির সঙ্গে পানিতে ভেজানো সাগু দিয়ে চপ, বড়া তৈরি করা হয়।