মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২২৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে ম্যারিকো

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২২৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এফএমসিজি খাতের বহুজাতিক কোম্পানি ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড। কোম্পানিটির পণ্যের বর্ধিত চাহিদা মেটাতে সেখানে নতুন একটি কারখানা স্থাপন করা হবে। এ কারখানায় ভোজ্যতেল ও নারকেল তেল বাদে অন্যান্য পণ্য উৎপাদন করা হবে। গতকাল স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বিনিয়োগের বিষয়টি শেয়ারহোল্ডারদের জানিয়েছে ম্যারিকো।
দীর্ঘমেয়াদে প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশায় অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ম্যারিকো। বর্তমানে কোম্পানিটির পোর্টফোলিওর ৯৯ শতাংশ পণ্যই বাংলাদেশে উৎপাদিত হচ্ছে। দেশে উৎপাদিত পণ্য স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করতে চায় কোম্পানিটি। গাজীপুরের মৌচাক ও সিরিরচালায় অবস্থিত ম্যারিকোর কারখানায় উৎপাদিত পণ্য বর্তমানে নেপালে রফতানি হচ্ছে।
বিনিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে ম্যারিকো বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশীষ গোপাল বণিক বার্তাকে বলেন, আমাদের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ২২৭ কোটি টাকা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশে পণ্য উৎপাদনের পরিমাণ ক্রমে বাড়ানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, কভিড-১৯-পরবর্তী বিশ্বে বাংলাদেশের সম্ভাবনা উন্মোচনের ক্ষেত্রে আর্থসামাজিক নির্দেশকগুলো সঠিক পথেই রয়েছে। ডিজিটাল গভর্ন্যান্স প্রচলন ও অর্থনীতি বেগবান করতে সরকার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, এতে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ ও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির সহযাত্রী হওয়ার সহায়ক পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।
ভারতের বাইরে সব আন্তর্জাতিক বাজারে ম্যারিকোর ব্যবসায় চলতি ২০২০-২১ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হলেও ব্যতিক্রম ছিল বাংলাদেশ। ম্যারিকোর আন্তর্জাতিক বাজারের ব্যবসার ৪৯ শতাংশই আসে বাংলাদেশ থেকে। বাংলাদেশের বাজারে ম্যারিকোর রাজস্ব আয়ের ৬৫ শতাংশই আসে প্যারাশুট ব্র্যান্ডের নারকেল তেল থেকে। আর ২৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ আসে ভ্যালু অ্যাডেড তেল থেকে। কভিড-১৯-এর কারণে স্যানিটাইজার, হ্যান্ডওয়াশ ও পারসোনাল হাইজিন জাতীয় পণ্যের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হওয়ায় এ বছরের এপ্রিল থেকে নিজেদের পোর্টফোলিওতে এসব পণ্য যুক্ত করে ম্যারিকো। এতে চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে নারকেল তেলবহির্ভূত পণ্য থেকে উল্লেখযোগ্য ব্যবসা প্রবৃদ্ধি হয়েছে কোম্পানিটির। দেশে করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি থাকাকালীন সময়ে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ম্যারিকো বাংলাদেশের ৩০১ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। যেখানে এর আগের হিসাব বছরের একই সময়ে রাজস্ব আয় ছিল ২৭৫ কোটি টাকা। এ সময়ে ৯৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে কোম্পানিটির। যেখানে এর আগের হিসাব বছরের একই সময়ে নিট মুনাফা ছিল ৮৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি (ইপিএস) হয়েছে ৩১ টাকা ৬৪ পয়সা, যা এর আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২৬ টাকা ৯৫ পয়সা। প্রথম প্রান্তিকের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৩০০ শতাংশ অন্তর্বর্তীকালীন নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে ম্যারিকো বাংলাদেশের পর্ষদ।
৩১ মার্চ সমাপ্ত ২০১৯ হিসাব বছরের জন্য কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের মোট ৬৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। এর মধ্যে ৬০০ শতাংশ অন্তর্বর্তী নগদ লভ্যাংশ আকারে বিতরণ করা হয়। বাকি ৫০ শতাংশ দেয়া হয় চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ আকারে। সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয় ৬৪ টাকা ২৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫২ টাকা ১৫ পয়সা। ৩১ মার্চ এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৪০ টাকা ৪৯ পয়সা, এক বছর আগে যা ছিল ৪৭ টাকা ৩৮ পয়সা।
ডিএসইতে গতকাল ম্যারিকো বাংলাদেশ শেয়ারের সর্বশেষ দর ছিল ২ হাজার ৯৯ টাকা। সমাপনী দর ছিল ২ হাজার ৯৭ টাকা ৩০ পয়সা। এক বছরে শেয়ারটির সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ দর ছিল যথাক্রমে ১ হাজার ৪৩৯ টাকা ৮০ পয়সা ও ২ হাজার ২৪৯ টাকা ৯০ পয়সা।
মুম্বাইভিত্তিক এফএমসিজি কোম্পানি ম্যারিকো ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশে ব্যবসা শুরু করে। ২০০৯ সালে এটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ৪০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে বর্তমানে এর পরিশোধিত মূলধন ৩১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৮৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ারের ৯০ শতাংশই রয়েছে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩ দশমিক ২১ শতাংশ, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে ৫ দশমিক ৩৯ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ১ দশমিক ৪০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।