আন্তর্জাতিক সংবাদ

উচুঁজাতের কন্যাকে ‘ফুসলিয়ে’ বিয়ে দলিত বিধায়কের!
লোকসমাজ ডেস্ক॥ হাথরাসে দলিত তরুণীকে ধর্ষণ ও পরবর্তীতে মৃত্যু নিয়ে তোলপাড় চলছে ভারতে। এ ঘটনায় দায়ী করা হয়েছে উচ্চ বর্ণের পুরুষদের। যেখানে কাজ করেছে জাতিগত বিদ্বেষ। অসম বর্ণে বিয়ের জেরে সেই একই বিদ্বেষ দেখা গেল তামিলনাড়ুতে। ১৯ বছরের এক ব্রাহ্মণ কন্যাকে ‘ফুসলিয়ে’ বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে দলিত বিধায়কের বিরুদ্ধে। অথচ তাদের বিয়েতে আইনগত কোনো বাধা ছিল না। বিয়ের আগে মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছিল বলেও দাবি কনের বাবার। দ্রুত প্রশাসন এ বিষয়ে হস্তপে না করলে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন তিনি। তামিলনাড়ুর কাল্লাকুরিচির বিধায়ক এ প্রভু জানান, মাস চারেক আগে লকডাউনের মধ্যেই হবু স্ত্রীর সঙ্গে পরিচয়। বেশ কিছুদিন মেলামেশার পর তারা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। বিয়ের আগে প্রভু মেয়েটির বাবার কাছে অনুমতি চাইতে চান। যিনি কিনা জাতিতে ব্রাহ্মণ এবং স্থানীয় এক মন্দিরের পুরোহিত, তিনি এই বিয়েতে রাজি ছিলেন না। অগত্যা কনের পরিবারের অনুমতি না নিয়েই বিয়ে করেন প্রভু। দলিত বিধায়কের আশা, ধীরে ধীরে শ্বশুরের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি হবে। কনের বাবা স্বামীনাথনের দাবি আবার আলাদা। তিনি বলছেন, ওই বিধায়ক জোর করে ও ফুসলিয়ে মেয়েকে বিয়ে করেছেন। মেয়ে নাবালিকা থাকাকালে প্রেমের ফাঁদে ফাঁসিয়েছিলেন প্রভু। এত দিন অপো করছিলেন মেয়েটির সাবালক হওয়ার। উনিশে পা দিতেই জোর করে বিয়ে সেরে ফেলেছে বিধায়ক। আরও অভিযোগ, বিয়ের বেশ কয়েক দিন আগে তার মেয়েকে অপহরণ করেন প্রভু। যদিও বলছেন, ছেলে দলিত হওয়াটা তার আপত্তির কারণ নয়। আপত্তির কারণ, বরের বয়স ৩৬ ও কনের ১৯। প্রভুর শাস্তি দাবি করে তামিলনাড়ু পুলিশকে হস্তপে করতে অনুরোধ করেছেন কনের বাবা। পুলিশ যদি হস্তপে না করে, তবে আত্মহত্যারও হুমকি দিয়েছেন ওই পুরোহিত। স্বামীনাথনের দাবি পুলিশ মানেনি। উল্টো তার বিরুদ্ধেই আত্মহত্যার চেষ্টার মামলা দায়ের করেছে।

রাখাইনে ‘উন্মুক্ত কারাগারে’ লাধিক রোহিঙ্গা ও কামান মুসলিম
লোকসমাজ ডেস্ক॥ যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক বিবৃতিতে জানায়, মিয়ানমারের সরকার রাখাইন রাজ্যে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিমকে বছরের পর বছর নোংরা ক্যাম্পে আটক করে রেখেছে।। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ঢালাওভাবে আটক’ রোহিঙ্গাদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি। ২০১২ সালে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান চালানো শুরু করার পর থেকে রোহিঙ্গা ও কামান মুসলিমদের ‘উন্মুক্ত বন্দিশিবিরে’ আটক করে রাখা হয়েছে বলে উঠে এসেছে এ রিপোর্টে। ১৬৯ পৃষ্ঠার রিপোর্টে মধ্য রাখাইন রাজ্যে ২৪টি ক্যাম্পের ‘অমানবিক’ পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। উল্লেখ করা হয়, রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রা, শিা, স্বাস্থ্য সেবা, খাদ্য ও আশ্রয়ের অধিকারের পাশাপাশি তাদের মানবিক সহায়তা পাওয়ার অধিকারও ুণœ হচ্ছে। ক্যাম্পে আটক থাকা রোহিঙ্গাদের মধ্যে পানি বাহিত রোগ, অপুষ্টির মাত্রা এবং শিশু ও প্রসূতি মৃত্যুর হার বেশি। রিপোর্টের লেখক ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক গবেষক শায়না বাউকনার বলেন, “মিয়ানমার সরকার দাবি করে যে তারা সবচেয়ে গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধ করছে না। কিন্তু তাদের এই দাবি ফাঁকা বুলির মতো শোনাবে যদি তারা রোহিঙ্গাদের পূর্ণ আইনি সুরাসহ ফিরে যাওয়ার সুযোগ করে না দেবে।” সংস্থাটি বলছে, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে উত্তর রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর চালানো গণহত্যা ও নির্যাতনের ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছে ২০১২ সালের পদপে। ২০১৮ সালের পর থেকে ৬০ জনেরও বেশি রোহিঙ্গা, কামান মুসলিম এবং মানবাধিকার কর্মীর সাাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে রিপোর্টটি। এ ছাড়া শতাধিক সরকারি, বেসরকারি অভ্যন্তরীণ নথিসহ জাতিসংঘের রিপোর্ট পর্যালোচনা করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমার ও রাখাইন রাজ্যের সরকারের কাছে ক্যাম্পগুলোর পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য বারবার আহ্বান জানানো হলেও কর্তৃপ পরিকল্পিতভাবে সেসব আহ্বান উপো করে এসেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, মিয়ানমার কর্তৃপ দীর্ঘসময় ধরে রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করার চেষ্টা করছে আর সেই পরিকল্পনার পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে ২০১২ সালে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালায়।

বড় দিনের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সব সেনা ফিরিয়ে আনতে চান ট্রাম্প
লোকসমাজ ডেস্ক॥ আফগানিস্তানে দীর্ঘ ১৯ বছরের যুদ্ধের ইতি টানার প্রক্রিয়া আরও দ্রুততর করতে আসছে বড় দিনের আগে দেশটি থেকে সব মার্কিন সেনাকে সরিয়ে আনতে চান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ ব্যাপারে এক টুইট বার্তায় ট্রাম্প লিখেছেন- “বড় দিনের মধ্যে আফগানিস্তানে স্বল্প সংখ্যায় অবশিষ্ট আমাদের বীর পুরুষ ও নারী (সেনাদের) ফিরিয়ে আনা উচিত আমাদের।” চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কাতারে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তালেবানদের সঙ্গে যুক্তরারে মতৈক্য হয় যে, তারা ২০২১ সালের মধ্যে সব সৈন্য প্রত্যাহার করবে। এতে শর্তে যে, কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠী আফগানিস্তানের ভূমি ব্যবহার করবে না। এরপর থেকে দোহায় আফগানিস্তান সরকারের সঙ্গে আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত করে তালেবান গোষ্ঠী। কিন্তু আলোচনা শুরু হতেই তালেবানরা আফগানিস্তানে ইসলামিক শাসন ব্যবস্থা কায়েমের কথা তুললে তা থেমে যায়। থেমে যাওয়া শান্তি আলোচনার পথ সুগম করতে সম্প্রতি সব তালেবান বন্দীদের ছেড়ে দেয় আফগানিস্তান সরকার। ১৯ বছরের যুদ্ধে ইতি টেনে আফগানিস্তানে শাস্তি ফেরাতে আবার দোহায় উভয় পরে মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে আফগানিস্তান থেকে নিজেদের সব সৈন্য প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগ মাস আগে এই ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। অনেকের ধারণা, এর মাধ্যমে ট্রাম্প দেখাতে চাচ্ছেন নির্বাচনের আগে ‘সীমাহীন’ এই যুদ্ধের শেষ টানতে ভালো একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসন এরই মধ্যে আফগানিস্তান থেকে অনেক সৈন্য প্রত্যাহার করেছে। বর্তমানে সেখানে প্রায় সাড়ে ৮ হাজারের মতো সেনা মোতায়েন আছে যুক্তরাষ্ট্রের। তবে এসব সেনাদের ওপর হামলা না করার চুক্তি করেছে তালেবানরা।

ভাগ