চৌগাছার বহুল আলোচিত ইউপি মেম্বার আ.লীগ নেতা মিলন সাময়িক বরখাস্ত

0

স্টাফ রিপোর্টার, চৌগাছা (যশোর) ॥ যশোর চৌগাছার বহুল আলোচিত ইউপি মেম্বার ও আওয়ামীলীগ নেতা আখতারুজ্জামান মিলন সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। দুর্নীতির অভিযোগে স্থানীয় সরকার বিভাগ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বরখাস্ত হওয়া আখতারুজ্জামান মিলন চৌগাছা উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার এবং হাকিমপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। গত ২৪ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-সচিব মোহাম্মদ ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক পত্রে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরপর অপর একটি পত্রে কেন তাকে স্থায়ীভাবে বরখস্ত করা হবে না সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। আগামী ১০ কার্য দিবসের মধ্যে যশোর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে তার জবাব স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রেরণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পত্রটি ২৪ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত হলেও তা জানাজানি হয় গত ৬ অক্টোবর। মেম্বারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, চিঠিতে বলা হয়েছে ইউপি সদস্য আখতারুজ্জামান মিলন হাকিমপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, প্রতিবন্ধী ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড, বাড়ি বাড়ি টিউবওয়েল দেয়ার নাম করে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ স্থানীয় তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় জেলা প্রশাসক, যশোরের সুপারিশ মোতাবেক স্থানীয় সরকার বিভাগের ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে ১০০০ নম্বর স্মারকের প্রজ্ঞাপনে (ইউনিয়ন পরিষদ) ২০০৯ অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্ত এবং ১০০১ নম্বর স্মারকের (স্থানীয় সরকার) আইন ২০০৯ এর ৩৪ (৪) (খ) ও (ঘ) ধারার অপরাধে স্বীয় পদ হতে কেন চুড়ান্তভাবে অপসারণ করা হবে না সে মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হলো।
এর আগে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ভুক্তভোগীরা একাধিকবার চৌগাছা উপজেলা পরিষদসহ বাজারে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন। তারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাছে বিভিন্ন ভাতার কার্ড, টিউবওয়েল দেয়ার নাম করে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। বিষয়টি দুদকের নির্দেশে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নারায়ন চন্দ্র পাল তদন্ত করেন এবং সত্যতা পান। উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রকৌশলী মো. এনামুল হক ইউপি মেম্বার ও আওয়ামীলীগ নেতা আখতারুজ্জামন মিলনের সাময়িক বরখাস্ত ও কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।