বিয়েতে জালিয়াতির অভিযোগে কাজীসহ দুই জনের বিরুদ্ধে মামলা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে সুমাইয়া খাতুন নামে এক যুবতীর বিয়ে সম্পাদনে জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়ায় বুধবার ম্যারেজ রেজিস্ট্রার (কাজী) মোহাম্মদ হুসাইনসহ দুজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের ম্যারেজ রেজিস্ট্রার কামাল হোসেন এই মামলা (সিআর নং-১২৯৮/২০) করেন। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. সাইফুদ্দীন হোসাইন তার অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) আদেশ দিয়েছেন। অভিযুক্ত ম্যারেজ রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ হুসাইন যশোর শহরের পশ্চিম বারান্দীপাড়া কদমতলা এলাকার মৃত দুরুদ আলীর ছেলে। অপর অভিযুক্তের নাম আব্দুস সালাম। তিনি শহরের শংকরপুর চোপদারপাড়া পাকার মাথা মসজিদের পাশের মৃত ওয়াজেদ আলী মোল্যার ছেলে। বাদী কামাল হোসেনের অভিযোগ, অভিযুক্ত ম্যারেজ রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ হুসাইন বিয়ে সম্পাদনে নানা ধরনের জাল জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে থাকেন। তার এ কাজের অন্যতম সহযোগী আব্দুস সালাম। তারা দুজনে জাল জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ভুয়া রেজিস্ট্রার বই তৈরি করে তাতে বিয়ে সম্পাদনের কাজ করে থাকেন। এ কারণে এসব বিয়ের বৈধ কোনো কাগজপত্র হয়না। রেজিস্ট্রিও হয়না। ফলে সাধারণ মানুষ এভাবে প্রতারিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। গত ২৮ আগস্ট অনুরূপভাবে মোহাম্মদ হুসাইন তার সহযোগী আব্দুস সালামের মাধ্যমে লুজশিটে রামনগর ইউনিয়রে মোবারককাটি গ্রামের আনোয়ার হোসেনের মেয়ে মোছা. সুমাইয়া খাতুনের বিয়ে সম্পাদনের কাজ করান। তবে লুজশিটের বিভিন্ন কলামে প্রয়োজনীয় তথ্য না লিখে শুধুমাত্র ১৩ কলামে ৭০ হাজার টাকা ও ২৪ নম্বর কলামে বিয়ে সম্পাদনের তারিখ লেখা হয়। আর এতে ম্যারেজ রেজিস্ট্রার হিসেবে মোহাম্মদ হুসাইন স্বাক্ষর করেন। বিয়ে সম্পাদনের পর আব্দুস সালাম কনের পিতাকে ৫ দিনের মধ্যে কাগজপত্র তৈরি করে রেজিস্ট্রি কাবিননামা সরবরাহ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু মোহাম্মদ হুসাইন অথবা আব্দুস সালাম কেউই তাকে আর কাবিননামা সরবরাহ করেননি। ফলে আনোয়ার হোসেন তার ইউনিয়নের ম্যারেজ রেজিস্ট্রার কামাল হোসেনকে বিষয়টি অবগত করেন। ফলে তিনি বিষয়টি বুঝতে পেরে প্রতারণা ও জাল জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে কেন এ ধরনের কাজ করেছেন এমন প্রশ্ন করলে মোহাম্মদ হুসাইন তাকে এ নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য হুমকি প্রদান করেন। পরে তিনি এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ কাজী সমিতির নেতৃবৃন্দকে অবহিত করেন। এরপর তিনি আদালতের আশ্রয় নেন।

ভাগ