খেলার খবর

নতুন কমিটির কাছে পুরোনো প্রত্যাশা ফুটবলারদের
স্পোর্টস ডেস্ক॥ আবারো দেশের ফুটবলের নেতৃত্বের ভার কাজী সালাউদ্দিনের কাঁধে। গত শনিবার বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) নির্বাচনে টানা চতুর্থবারের মতো সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। সাবেক এই ফুটবলার দেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা। অনেকের চোখে সর্বকালের সেরা। তবে প্রশাসক হিসেবে তাকে নিয়ে রয়েছে নানা সমালোচনা। যদিও নির্বাচিত হয়ে কাজী সালাউদ্দিন বলেছেন, ভোটাররাই সব সমালোচনার জবাব দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, ‘আজকে সব খেলোয়াড়রা, কারেন্ট প্লেয়াররা আমাকে উইশ করতে এসেছে…। আজকের খেলোয়াড়রা যখন আমাকে উইশ করতে এসেছে, তখনই আমি বুঝেছি হয়তো আমি কিছু ঠিক কাজ করেছি, এ জন্য এসেছে।’ যে ফুটবলারদের আস্থার কথা বলছেন সালাউদ্দিন, তার নেতৃত্বাধীন নতুন কমিটির কাছে সেই ফুটবলারদের চাওয়া কি? সেটিই জানার চেষ্টা করা হয়েছে। জাতীয় দলের তিন সিনিয়র ফুটবলার ও তিন তরুণ ফুটবলার বলেছেন তাদের চাওয়ার কথা। যে চাওয়াগুলোর সবই অবশ্য পুরোনো।
আশরাফুল ইসলাম রানা
গোলরক, জাতীয় ফুটবল দল
প্রথমে সভাপতি সালাউদ্দিন ভাই (কাজী সালাউদ্দিন) ও নতুন কমিটির সবাইকে অভিনন্দন জানাই। নতুন কমিটির কাছে প্রত্যাশার মাত্রটা আসলে বেশি। একটা সংগঠন চালাতে গেলে সাফল্য-ব্যর্থতা দুই জিনিসই থাকে। নতুন কমিটির কাছে চাওয়া থাকবে যে ইশতেহারগুলো তারা দিয়েছেন, সেগুলো যেন এই চার বছরে তারা ফুলফিল করেন। অবশ্যই তাদের কাছে বাড়তি চাওয়া থাকবে, পাইওনিয়ার থেকে শুরু করে আমাদের পেশাদার স্তর পর্যন্ত যে লিগগুলো আছে, সেগুলো তারা যেন সারা বছর কনটিনিউ করেন। সেটা স্টেপ বাই স্টেপ হতে হবে। যেমন- পাইওনিয়ার, তৃতীয় বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ এভাবে ধারাবাহিকভাবে ওপরের দিকে যেন হয়। তাহলে জুনিয়ার পর্যায়ে যারা পারফর্ম করবে, তাদের ওপরের দিকের লিগগুলোতে অংশ গ্রহণ করার সুযোগ থাকবে। তাদের পারফরম্যান্স আরো উন্নতি করার সুযোগ থাকবে। সারা বছর খেলার সুযোগ তৈরি হবে। আর কিছু অবকাঠামো পরিবর্তন করা উচিত। ফুটবল ফেডারেশনের অবশ্যই আধুনিক মানের জিম করা উচিত। খেলোয়াড়দের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো উচিত। সুযোগ-সুবিধা বেশি থাকলে খেলোয়াড়দের দায়িত্ব বোধের জায়গাটাও বাড়ে। জুনিয়র খেলোয়াড়রা তখন ফুটবলকে স্থায়ী পেশা হিসেবে নিতে উদ্বুদ্ধ হয়। জাতীয় দলের খেলোয়াড় ও পাইপ লাইনে যেসব খেলোয়াড় থাকে, তাদের ফুটবল ফেডারেশনের চুক্তির আওতায় আনা উচিত। বেতন কাঠামো তৈরি করা উচিত।
মামুনুল ইসলাম
সাবেক অধিনায়ক, জাতীয় ফুটবল দল
নতুন কমিটির কাছে প্রথম প্রত্যাশা থাকবে- যেভাবে লিগ চলছে এভাবেই লিগ চালানো উচিত। আর যে জিনিসগুলো নিয়ে সমালোচনা হয়, যেমন- ৬৪ জেলায় ৬৪ লিগ চালানোর দায়িত্ব কিন্তু ৬৪ জেলারই। বাফুফে থেকে চাপ প্রয়োগ করে লিগগুলো যেন চালু করেন তারা। আমাদের জাতীয় দল, আমরা আরো বেশি যেন আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে পারি। বেশি বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেললে র‌্যাঙ্কিংয়ের যে ব্যাপারটা আছে, এটা কিন্তু ওপরে ওঠে আসবে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একজন ক্রীড়াপ্রেমী। ওনার কাছে গিয়ে ভালো জিনিসগুলো আদায় করে নিয়ে আসা। আমার এই অনুরোধগুলোই থাকবে। আরেকটি অনুরোধ থাকবে, যারা সমালোচনা করেন তাদেরকে ডেকে, আলোচনার মাধ্যমে ফুটবলকে কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, এই দিকটা চিন্তা করতে। শুধু সমালোচনা যারা করেন তারা কাজটা মোটেও ঠিক করেন না। তাদেরও উচিত আলোচনার মাধ্যমে ফুটবলকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করা।
তপু বর্মণ
ডিফেন্ডার, জাতীয় ফুটবল দল
জাতীয় দলের ফুটবলার হিসেবে বলব, আমাদের ফুটবলটা যেন সব সময় চালু থাকে। বিশ্ব ফুটবল যেভাবে চলে, ঠিক সেভাবে একটা নির্দিষ্ট সূচিতে, সঠিক পদ্ধতিতে যেন এগোয়। কারণ প্রতি বছর দেখা যায় আমাদের লিগ শেষ বা শুরু হতে দেরি হওয়ার ঘটনা ঘটে। এটা যেন আর না হয় এই চাওয়া থাকবে। আমরা যেন বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে পারি। সেটা হলে দেখা যাবে আমাদের ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস বাড়বে।
আরেকটি ব্যাপার হলো ফুটবল খেলোয়াড় তৈরি করতে হবে। একদম নিচু স্তর থেকে ফুটবল যদি নিয়মিত হয়, তাহলে হয়তো আমাদের ফুটবল অনেক উন্নতি করবে। ফুটবল খেলোয়াড়ও অনেক বাড়বে। যেহেতু আমরা জাতীয় দলের খেলোয়াড়, জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের যে সুযোগ-সুবিধাগুলো থাকে… চাওয়া থাকবে আমাদের যেন আরেকটু ভালোভাবে যতœ নেওয়া হয়। কারণ সামনে আমাদের বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ার ম্যাচ আছে ৪টি। খেলা তো হবেই। হয়তো বা জানুয়ারি মাসের মধ্যেই আমরা জানতে পারব। সেই সময় আমাদের ক্যাম্প যেন দ্রুত চালু করে দেওয়া হয়।
বিশ্বনাথ ঘোষ
ডিফেন্ডার, জাতীয় ফুটবল দল
ফুটবলে যেন উন্নতি হয়, আমাদের দেশ যেন ভালো কিছু করে, ঘরোয়া ফুটবলের পাইপ লাইনটা যেন মজবুত হয়, দেশের লিগটা যেন ক্যালেন্ডার অনুযায়ী চলে। আমাদের আর কিছু চাওয়া নেই। পাইপ লাইন তৈরি করাটা হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেটা হলে আমাদের খেলোয়াড় নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। যদি একটা একাডেমি করে, সে েেত্রও খেলোয়াড় তৈরির জন্য সেটা হবে খুবই ইতিবাচক দিক হবে। যেমন- আমিও বাফুফের একাডেমির খেলোয়াড় ছিলাম, যেটা পরে বন্ধ হয়ে যায়। একাডেমি থেকে বের হয়েই আমি কাবে বা জাতীয় দলে খেলছি। একাডেমি থাকলে খেলোয়াড়রা বেড়ে ওঠার েেত্র প্রপার শিাটা পায়। নতুন কমিটির কাছে তাই প্রথম চাওয়া যেন একটা একাডেমি করে। আর আমাদের যে লিগ, সেটার যেন ক্যালেন্ডার ঠিক থাকে।
রবিউল হাসান
মিডফিল্ডার, জাতীয় ফুটবল দল
একজন ফুটবলার হিসেবে বলব, সেটা জাতীয় দলে খেলি বা তৃণমূলে খেলি না কেন। প্রথম চাওয়াই হচ্ছে ফুটবল উন্নয়নে ভালো কিছু। তৃণমূল পর্যায়ে যেন তারা কাজ করেন। সব জায়গায় যেন একাডেমির ব্যবস্থা করে দিতে পারেন। জেলা লিগগুলো, জেলা ভিত্তিক টুর্নামেন্টগুলো যেন নিয়মিত হয়। সালাউদ্দিন ভাই যেহেতু আবারো দায়িত্ব নিয়েছেন, আমি অবশ্যই আশাবাদী। খবরে দেখালাম, উনি বলেছেন- প্রত্যেক বছর জেলাগুলো লিগ না করলে তাদের কাউন্সিলরশিপ বাতিল হবে। আশাবাদী, আগে যে কাজগুলো নিয়ে সমালোচনা হয়েছে সেগুলো এবার তিনি দূর করবেন। সালাউদ্দিন ভাই, সালাম ভাই (আব্দুস সালাম মুর্শেদী), নাবিল ভাই (কাজী নাবিল আহমেদ), ইমরুল ভাইরা (ইমরুল হাসান) যেহেতু আছেন, আশাবাদী তারা দেশের ফুটবল উন্নয়নে ভালোভাবেই নামবেন। জাতীয় দলের েেত্র বলব আমাদের ভালো মানের জিমের খুব প্রয়োজন। আগের ফুটবলটা কিন্তু এখন আর নেই। এখন স্ট্রেংথ, স্ট্রংনেস… এগুলো বেশি জরুরি ফুটবলারদের জন্য।
আবদুল্লাহ পারভেজ
মিডফিল্ডার, জাতীয় ফুটবল দল
নতুন কমিটির কাছে প্রথম চাওয়া হচ্ছে প্রত্যেক বছর লিগটা যেন হয়। জাতীয় দলের কন্ডিশনিং ক্যাম্প যেমন গেল কয়েক বছর দেশের বাইরে হয়েছে, সেটা যেন অব্যাহত থাকে। বাফুফে একাডেমি করেছিল বলেই কিন্তু আমরা সেখানকার ৮০ শতাংশ খেলোয়াড় এখন জাতীয় দল ও ঘরোয়া ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে খেলছি। তাই একাডেমি করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে বলব। লিগে বিদেশিদের নিয়ে বেশি কথা হয়। বিদেশি থাকবে, কিন্তু মাঝে মধ্যে দেখা যায় ৪ বা ৫টা বিদেশি খেলানো হয়। যা আমরা দেশি খেলোয়াড় যারা আছি, তাদের জন্য সমস্যা হয়। সর্বোচ্চ ৩ খেলোয়াড় থাকলে সমস্যা নেই। আমাদের সবারই ইচ্ছে থাকে ঘরোয়া খেলাগুলোতে পারফর্ম করা বা সুযোগটা পাওয়া। বিদেশি কম থাকলে দেশিরা পারফর্ম করার, নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ পাবে। আর মাঠের কথা বলব, ভালো মাঠে যেন খেলাগুলো হয়। নতুন করে যেহেতু আবার সালাউদ্দিন ভাই দায়িত্ব নিয়েছেন আশা কারি তিনি এই ব্যাপার গুলোতে এবার নজর দেবেন।

আইপিএল শেষ ভুবনেশ্বরের
স্পোর্টস ডেস্ক॥ আইপিএল থেকে ছিটকে গেলেন ভুবনেশ্বর কুমার। চোটের কারণে চলতি আসরে আর খেলা হবে না সানরাইজার্স হায়দরাবাদ পেসারের। সোমবার মাসেল ইনজুরির কারণে এই পেসারের আইপিএল থেকে ছিটকে যাওয়ার খবর জানিয়েছেন ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বিসিসিআইয়ের একজন অফিশিয়াল জানিয়েছেন, গ্রেড ২ বা ৩ ইনজুরিতে ভুগছেন ভুবনেশ্বর। ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ বাইরে থাকতে হতে পারে ৩০ বছর বয়সীকে। এমনকি ভারতীয় দলের অস্ট্রেলিয়া সফরেও অনিশ্চিত ডানহাতি পেসার। চলতি আইপিএল খুব একটা ভালো যাচ্ছে না সাবেক চ্যাম্পিয়ন হায়দরাবাদের। এর মধ্যে একে একে চোটের কারণে ছিটকে যাচ্ছেন তারকা খেলোয়াড়রা। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপে দলটির প্রথম ম্যাচে চোট পাওয়ায় টুর্নামেন্ট শেষ হয়ে যায় মিচেল মার্শের। এ বার টুর্নামেন্ট শেষ হয়ে গেল ভুবনেশ্বরেরও। তাতে আরো অনভিজ্ঞ হয়ে পড়ল দলটির বোলিং বিভাগ। রবিবার মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপে ভুবনেশ্বরকে ছাড়াই নেমেছিল ডেভিড ওয়ার্নারের দল। ম্যাচে তার অভাব অনুভূত হয়েছে ভালোভাবেই। গত শুক্রবার চেন্নাই সুপার কিংসের ইনিংসের ১৯তম ওভারের প্রথম বলের পর বাঁ ঊরুর চোটে মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান ভুবি। সেই সময় খোঁড়াতে দেখা যায় তাকে। ওভারের বাকি ৫ বল করেন খলিল আহমেদ। মাত্র ৪ ম্যাচেই শেষ হয়ে গেল ভুবনেশ্বরের এবারের আইপিএল। প্রথম দুই ম্যাচে তিনি কোনো উইকেট পাননি। তৃতীয় ম্যাচে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপে ২ উইকেট নেন। চেন্নাইয়ের বিপে এক উইকেট পেলেও তার চার ওভার সম্পূর্ণ করতে পারেননি। ধোনিদের বিপে ম্যাচটা হায়দরাবাদ জিতলেও মুম্বাইয়ের বিপে রবিবার হেরে যায় হায়দরাবাদ। ৫ ম্যাচে মাত্র ২ জয়ে টেবিলের সাত নম্বরে আছে দলটি।

মাহমুদউল্লাহ-ইমরুলের ফিফটির সঙ্গে উজ্জ্বল তাসকিন
স্পোর্টস ডেস্ক॥ নিজেদের মধ্যে খেলা অনুশীলন ম্যাচে আবারো আলো ছড়িয়েছেন পেসার তাসকিন আহমেদ। ব্যাট হাতে রান পেয়েছেন টেস্ট দলের বাইরে থাকা দুই ব্যাটার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও ইমরুল কায়েস। দুজনই পেয়েছেন ফিফটি। সোমবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় দুই দিনের অনুশীলন ম্যাচে মাঠ নামে স্কিল ক্যাম্পের স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটাররা। রায়ান কুক একাদশের বিপে প্রথম দিন ৮ উইকেটে ২৪৮ রান তুলে ওটিস গিবসন একাদশ। বৃষ্টিবিঘ্নিত দিনে খেলা হয়েছে ৭২ ওভার। ওটিস গিবসন একাদশের হয়ে সাইফ হাসানকে নিয়ে ওপেন করতে নেমেছিলেন ইমরুল। সাইফ (৭) অবশ্য দ্রুতই ফিরে যান। তিনে নামা নাজমুল হাসান শান্তও (২) থিতু হতে পারেননি। দুজনকেই তুলে নেন তাসকিন। চারে নেমে মাহমুদউল্লাহ ভালো জুটি গড়েন ইমরুলের সঙ্গে। তৃতীয় উইকেটে ৮৬ রানের জুটি গড়েন দুজন। ইমরুলকে ফিরিয়ে এই জুটিও ভাঙেন তাসকিন। ইমরুলের ব্যাট থেকে এসেছে দিনের সর্বোচ্চ ৫৯ রান। মাহমুদউল্লাহ করেছেন ৫৬। লিটন দাস ৪৪, মোসাদ্দেক হোসেন অপরাজিত ২৯, সৌম্য সরকার ২৬ রান করেন। তাসকিন ছাড়া রায়ান কুক একাদশের হয়ে মোহাম্মদ মিঠুন বোলিংয়ে নজর কেড়েছেন। এমনিতে উইকেটরক ব্যাটার হলেও এদিন বল হাতে নিয়েছেন জোড়া উইকেট। ১টি করে উইকেট নেন সাইফউদ্দিন, আল আমিন ও তাইজুল ইসলাম।
সংপ্তি স্কোর:
ওটিস গিবসন একাদশ: ৭২ ওভারে ২৪৮/৮
(সাইফ ৭, ইমরুল ৫৯, শান্ত ২, মাহমুদউল্লাহ ৫৬, লিটন ৪৪, সৌম্য ২৬, মোসাদ্দেক ২৯*, নাঈম ৮, ইবাদত ০, রুবেল ০*; তাসকিন ৩/৪২, সাইফউদ্দন ১/৪২, খালেদ ০/৩১, আল আমিন ১/৩৬, তাইজুল ১/৭৬, মিঠুন ২/১০)।

‘চ্যাম্পিয়ন’ লিভারপুলের জালে অ্যাস্টনের ৭ গোল
স্পোর্টস ডেস্ক॥ প্রিমিয়ার লিগের ‘ডিফেন্ডিং’ চ্যাম্পিয়ন লিভারপুলকে ৭-২ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে অ্যাস্টন ভিলা। রবিবার নিজেদের মাঠে ওলি ওয়াটকিন্স প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিক করেন। অধিনায়ক প্লেমেকার জ্যাক গ্রিলিশ করেন জোড়া গোল। একটি করে গোল করেন রস বার্কলি ও জন ম্যাকগিন। লিভারপুলের গোল দুটি করেন মোহামেদ সালাহ। লিভারপুল ১৯৬৩ সালের পর থেকে এই প্রথম কোন ম্যাচে সাত গোল হজম করলো। গত বছরের ৩ জানুয়ারির পর এটি প্রিমিয়ার লিগে তাদের তৃতীয় পরাজয়। দুই গোল হজম করার পর চ্যাম্পিয়নদের ম্যাচের ফেরার সুযোগ করে দিয়েছিলেন লিভারপুলের মিশরীয় স্ট্রাইকার মোহাম্মদ সালাহ। কিন্তু দুই মিনিটের মধ্যে জন ম্যাকগিন ভিলার পে আরেক গোল করে ৩-১ ব্যবধান করে ফেলেন। প্রথমার্ধের ৩৯তম মিনিটে নিজের হ্যাটট্রিক পূরণ করেন ওয়াটকিন্স, ত্রেজেগুয়েতের ক্রস থেকে হেড করে এবার জালে বল জড়ান তিনি। বিরতির পরও একই ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, বক্সের ঠিক বাইরে থেকে গ্রিলিশের তৃতীয় অ্যাসিস্টে দলের পঞ্চম গোলটি করেন রস বার্কলি। গ্রিলিশ দুই গোল করেন ৬৬ ও ৭৫তম মিনিটে। তিন ম্যাচে তিন জয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে উঠে এসেছে অ্যাস্টন। চার ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে এভারটন। তিন জয় ও এক হারে ৯ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচে লিভারপুল। তিন ও চারে থাকা লেস্টার সিটি এবং আর্সেনালের পয়েন্টও সমান ৯। দিনের আরেক ম্যাচে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ৬-১ গোলে উড়িয়ে দেওয়া টটেনহ্যাম ৭ পয়েন্ট নিয়ে আছে ছয়ে।

অবশেষে চেনা ছন্দে চেন্নাই
স্পোর্টস ডেস্ক॥ প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় সফল দল তারা। অথচ চেন্নাই সুপার কিংসকে এবারের আইপিএলে যেন চেনাই যাচ্ছিল না। জয় দিয়ে আসর শুরু করলেও হেরেছিল টানা তিন ম্যাচে। রবিবার রাতে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবকে হারিয়ে দলটি পেল দ্বিতীয় জয়ের দেখা। জয়ের সঙ্গে নিজেদের চেনা রূপেও যেন দেখা দিল দলটি। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এদিন ১০ উইকেটের দাপুটে জয় তুলে নেয় চেন্নাই। ১৭৯ রানের ল্য তাড়া করতে নেমে শেন ওয়াটসন ও ফ্যাফ ডু প্লেসিস জুটি জয় তুলে নিয়ে মাঠ ছাড়েন। ২.২ ওভার বাকি থাকতেই জয় পায় চেন্নাই। ডু প্লেসিস ৮৭ এবং ওয়াটসন ৮৩ রানে অপরাজিত থাকেন। দুজনেই সমানসংখ্যক বল খেলেন। ৫৩ বলের ইনিংসে ওয়াটসন ১১টি চার ও ৩টি ছক্কা হাঁকান। ডু প্লেসিস মারেন ১১টি চার ও ১টি ছক্কা। রান তাড়া করে জয়ের হিসেবে এটি আইপিএলের ইতিহাসে দ্বিতীয় বৃহত্তম জয়। এর আগে পাঞ্জাব ৪ উইকেটে ১৭৮ রান করে। অধিনায়ক লোকেশ রাহুল সর্বোচ্চ ৬৩ রান করেন। নিকোলাস পুরান দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন। ম্যাচসেরা হয়েছেন ওয়াটসন।

ভাগ