ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল করতে চায় গ্লোব

লোকসমাজ ডেস্ক॥ গ্লোব বায়োটেকের ভ্যাকসিন ‘ব্যানকোভিড’ ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল দেয়ার জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এখন সরকার অনুমতি দিলেই পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করবে প্রতিষ্ঠানটি। গতকাল দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালস গ্রুপ অব কোম্পানিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, ভ্যাকসিন ‘ব্যানকোভিড’-এর সামগ্রিক প্রস্তুতি সম্পন্ন, এখন এটা ফেজ-১ ও ফেজ-২ ট্রায়ালের অপেক্ষায় রয়েছে। সরকারের সার্বিক সহযোগিতা ও অনুমোদন পেলে আগামী ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে জনগণের জন্য এই ভ্যাকসিন সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালস গ্রুপ অব কোম্পানিজ লিমিটেড-এর চেয়ারম্যান মো. হারুনুর রশিদ, পরিচালক আহমেদ হোসেন, শহিদ উদ্দিন আলমগীর, আবদুল্লাহ আল রশিদ, সামির আল রশিদ, গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের সিইও ড. কাকন নাগ, সিএসও ড. নাজনীন সুলতানাসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন, নোয়াখালী-৩ আসনের এমপি মো. মামুনুর রশিদ কিরণ। সংবাদ সম্মেলনে গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালস গ্রুপ অব কোম্পানিজ লিমিটেড-এর চেয়ারম্যান মো. হারুনুর রশিদ বলেন, গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড কর্তৃক আবিষ্কৃত কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন ‘ব্যানকোভিড’-এর অ্যানিমেল মডেলে নিয়ন্ত্রিত ও পূর্ণাঙ্গ প্রি-ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সম্পন্ন হয়েছে। ট্রায়ালের প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ও ভ্যাকসিন প্রকল্পের ভবিষ্যৎ কর্ম পরিকল্পনা আমরা বিস্তারিত সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে উপস্থাপন করেছি।
সরকারের অনুমোদন পেলে এখন ফেজ-১ ও ফেজ-২ ট্রায়াল সম্পন্ন করে আমরা এ বছর ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে জনগণের জন্য এই ভ্যাকসিন সরবরাহ করতে পারবো। তিনি বলেন, বিশ্বে গ্লোব বায়োটেক উদ্ভাবিত এই ভ্যাকসিন ডি ৬১৪জি ভ্যারিয়েনটস এমআরএনএ ভিত্তিক প্রথম ভ্যাকসিন (ব্যানকোভিড), যা করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সক্ষম বলে স্বীকৃতি দিয়েছে মার্কিন মেডিক্যাল জার্নাল বায়োআর্কাইভ। বিশ্বের অন্যান্য স্বীকৃত অনেক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরাও আমাদের ভ্যাকসিনে কোনোরকম ত্রুটি খুঁজে পাননি। তাই আমি বলবো, দেশে প্রথমবারের মতো সার্বিকভাবে সক্ষম কোভিড-১৯ (করোনাভাইরাস) রোগের টিকা (ভ্যাকসিন) আবিষ্কার করেছে গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড। সরকারের অনুমোদন পেলে আমরা এখন দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশে রপ্তানি করে ৫০ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবো। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব বলেন, গ্লোবের ভ্যাকসিন কার্যকর হবে সেটা আমরা প্রত্যাশা করতেই পারি। তবে ভ্যাকসিনটি যদি কাজ নাও করে তাতেও কিছু আসে যায় না। কারণ এটাও মনে রাখতে হবে, সব গবেষণা সফল হবে না। তবে তাদের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ দিতে হবে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মুজিবুর রহমান বলেন, কোভিড প্রতিরোধ করতে হলে ভ্যাকসিন দরকার। আমরা কেন বাংলাদেশের ভ্যাকসিন চাচ্ছি না সে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, সরকার অন্যান্য দেশ থেকে ভ্যাকসিন কেনার জন্য টাকা রেখেছে কিন্তু আমাদের টাকায় আমরা কেন নিজেদের এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি না।

ভাগ