স্কুল কমিটি গঠন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীর হামলায় এক শিক্ষক আহত

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর সদর উপজেলা গোয়ালদাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এক শিক্ষকের ওপর হামলা হয়েছে। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে প্রতিপক্ষ এ হামলা চালায়। এদিকে, সন্ত্রাসীদের হাতে আরো দুজন আহত হয়েছেন। আহত শহিদুল ইসলাম (৫৫) পুলেরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তার বাড়ি সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নের কল্যাণদহ গ্রামে। আহতের আত্মীয় আব্দুর রাজ্জাক রাজু। রাজ্জাক রাজু জানিয়েছেন, গোয়ালদাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন উপজেলা গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় বিদ্যালয়ের মাঠে সভা হয়। ওই সভায় কমিটি গঠনে নামের প্রস্তাব নিয়ে স্থানীয় মেম্বর ইয়াসিন আলীর সাথে মাস্টার শহিদুল ইসলামের কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় মেম্বর ইয়াসিন আলী তার সহযোগী আরিফ, জুয়েলসহ ৬/৭জন শহিদুল ইসলামের ওপর হামলা চালায়। মেহগনি গাছের ডাল দিয়ে বেগম প্রহার করলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তির পর অবস্থা বেগতিক দেখে চিকিৎসকগণ তাকে এক্স-রে ও সিটিস্ক্যান করার পরামর্শ দেন।
আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির আগের মেয়াদে সভাপতি ছিলেন শহীদুল ইসলাম। পরের মেয়াদে সভাপতি নির্বাচিত হন ইয়াছিন আলী। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পুনরায় নতুন কমিটি গঠন করার জন্য সভা বসে। সভায় মেম্বর ইয়াছিন আলী কম শিক্ষিত (৮ম শ্রেণি পাশ) বলে অনেক প্রশ্ন তোলেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এদিকে, গত শনিবার রাতে যশোর শহরের খড়কি দক্ষিণপাড়ায় শামীম হোসেন (১৮) নামে এক রাজমিস্ত্রির ওপর সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে। শামীম খড়কি দক্ষিণপাড়ার আব্দুল জলিলের পুত্র। স্বজনরা জানিয়েছেন, শনিবার রাত ৭টার দিকে বাইসাইকেলে ধর্মতলা বাজারে যাওয়ার পথে ওই এলাকার বর্ষণ, লিপটন, মনি, মানিকসহ ২০/২৫ জন যুবক এসে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। পাশে আমবাগানে নিয়ে রড, হাতুড়ি দিয়ে বেদম প্রহার করলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে পুরাতন কসবা ফাঁড়ির পুলিশ তাকে উদ্ধার করার পর যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ সময় তার কাছে থাকা মোবাইল ফোন নগদ ২ হাজার ৫শ টাকা ওই সন্ত্রাসীরা ছিনিয়ে নেয় বলে প্রতিবেশি কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন। একইদিন রাত ৯টার দিকে শহরের আরএন রোড এলাকার শরিফুল ইসলাম (২৫) নামে এক যুবক ছুরিকাহত হয়েছেন। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে ছুরিকাঘাত করলে তিনি আহত হন। পরে লোকজন তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ সময় তার অবস্থার অবনতি ঘটলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শরিফুল ইসলামকে ঢাকায় রেফার্ড করেন। শরিফুল ইসলাম আরএন রোড এলাকার আব্দুল ওহাবের পুত্র।

ভাগ