মানবপাচার আইনের ধারা বাতিল করতে দেন-দরবার

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ মানবপাচার আইন-২০১২ এর দু’টি ধারা বাতিল করতে দেন-দরবার করছে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো। তাদের দাবি, ‘মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন-২০১২’-এর ২০ (১) ও (২) ধারার আওতায় বিনা পরোয়ানায় পুলিশ বাহিনীকে অবারিত ক্ষমতা প্রদান করায় এই আইনের অপব্যবহার করা হচ্ছে। পুলিশ তাদেরকে হয়রানি করছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা এই ধারা দু’টি সংশোধন ও তাদের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগগুলো যেন অভিবাসন আইনে বিচার করা হয়। এ নিয়ে তারা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন। পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর পক্ষ নিয়ে ধারা দু’টি বাতিল করতে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের কাছে একটি সুপারিশ পাঠিয়েছেন। গত ২১শে সেপ্টেম্বরে করা ওই সুপারিশপত্রে তিনি বলেন, মানবপাচার প্রতিরোধ, দমন ও মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিবর্গের সুরক্ষার জন্য ২০১২ সালে ‘মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন-২০১২’ প্রণীত হয়েছে। তাছাড়া জনশক্তি রপ্তানি খাতের সুষ্ঠু ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণের জন্য ‘বহির্গমন অধ্যাদেশ-১৯৮২’কে যুগোপযোগী করে প্রণীত ২০১৩ সালে ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন’ প্রণয়ন করা হয়।
এই দুটি আইনের মধ্যে একটি ধারায় বৈপরীত্য থাকায় বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানিতে সমস্যা হচ্ছে মর্মে প্রতীয়মান হয়। দ্বিতীয়ত ‘মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন-২০১২’-এর ২০ (১) ও (২) ধারার আওতায় বিনা পরোয়ানায় পুলিশ বাহিনীকে অবারিত ক্ষমতা প্রদান করায় এই আইনের অপব্যবহার করা হচ্ছে মর্মে অভিযোগ রয়েছে। আপনি নিশ্চয়ই অবগত আছেন, সাধারণ বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো মানবপাচার বা এ ধরনের প্রতারণামূলক কাজের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নয়। একাধিকবার এ বিষয়ে রিক্রুটিং এজেন্সিসমূহ পুলিশ কর্তৃক হয়রানির শিকার হয়েছে মর্মে বিভিন্ন সময়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে পুলিশি হয়রানি এখনো বন্ধ হয়নি মর্মে জানা যায়। উল্লেখ্য, মানবপাচার প্রতিরোধের নামে রিক্রুটিং এজেন্সিসমূহকে পুলিশ কর্তৃক অযথা হয়রানি বলে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী ২০১৯ সালের ২৫শে জুন একটি আধা-সরকারি পত্র প্রেরণ করেছিলেন। এ বিষয়ে আমার নিকট রিক্রুটিং এজেন্সি এসোসিয়েশনের সদস্যরা হয়রানি বন্ধে ‘মানবপাচার আইনে বর্ণিত ধারা বাতিল করার জন্য দেন-দরবার করেছে। এই অবস্থায় মানবপাচার প্রতিরোধ নামে রিক্রুটিং এজেন্সিসমূহকে পুলিশ কর্তৃক অযথা হয়রানি বন্ধে ‘মানবপাচার প্রতিরোধ আইন-২০১২ এর ২০১ (১) ও ২ ধারার আংশিক সংশোধনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনাকে বিশেষ ভাবে অনুরোধ করছি। দেন-দরবার ও চিঠি নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তবে চিঠিতে যা আছে, তাই-ই তার বক্তব্য বলে জানান। বিষয়টি নিয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এই প্রতিবেদককে বলেন, আমরা বিষয়টি দেখছি। শিগগিরই বিষয়টি নিয়ে বসে আমরা মতামত দেবো। সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি (বায়রা) সভাপতি বেনজীর আহমেদ বলেন, যে দু’টি ধারা রয়েছে সেখানে পুলিশ নানাভাবে হয়রানি করে আমাদেরকে। আমরা যারা সরকারি লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করছি এবং বৈধভাবে দেশের বাইরে লোক পাঠাচ্ছি তাদের ক্ষেত্রে কোনো অভিযোগ থাকলে ওই বিচার যেন অভিবাসী আইনে হয়। আমরা এটা চাচ্ছি। মানবপাচার আইনের এই দু’টি ধারা এই জন্য সংশোধন চাচ্ছি আমরা।