স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ ॥ ভাই হত্যার মামলা করায় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) প্রভাবশালী এক চেয়ারম্যান ও তার সহকারীদের অত্যাচারে ৬ বছর বাড়িছাড়া শৈলকুপার বগুড়া গ্রামের নাসির উদ্দিন ইদুর পরিবার। ইদু ভাই হত্যা মামলার বাদী। শুধু তিনিই নয়, মামলার সাক্ষীদেরও বাড়িছাড়া করা হয়েছে। মামলার বাদী ও সাক্ষী মিলে ৬টি পবিবার বছরের পর বছর বাড়ি আসতে পারে না। পথে পথে কাটে তাদের দুর্বিষহ জীবন।
অভিযোগে জানা গেছে, ২০১৪ সালে ২৬ নভেম্বর শৈলকুপার রতœাট গ্রামের গোয়ালবাড়ি মাঠ থেকে বাসের চালকের সহকারী বগুড়া গ্রামের জালাল উদ্দিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আগের দিন দুপুরে ৩ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন নিহতের ভাই নাসির উদ্দিন ইদু শৈলকুপা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর স্থানীয় চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা হত্যা মামলার বাদী ও সাীদের বাড়ি ঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে। মামলা তুলে নিতে শুরু হয় হত্যার হুমকি। ভাই হত্যার বিচার চেয়ে মামলা করার অপরাধে ছাড়তে হয় বাড়ি।
সেই থেকেই বাড়ি ছাড়া মামলার বাদী ইদু, সাক্ষী সায়েম শেখ, কাজী গোলাম নবী, কাজী মোহাম্মদ আলী, কাজী বিল্লাল হোসেন, তানিয়া খাতুন ও সাহাবুদ্দিন। ৬ বছর পার হলেও এখনও তারা বাড়ি ফিরতে পারেননি। মামলার বাদী ইদু বলেন, ভাই হত্যার বিচার চেয়ে আজ ৬ বছর বাড়ি ছাড়া আছি। বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করলে চেয়ারম্যান তার লোকজন নিয়ে হামলা চালায়। এমনকী আদালতে সাক্ষী দিতে গেলেও আসামিরা মারধর করতে যায়। বাড়ি যাওয়া তো দূরের কথা এখন আদালতে যাওয়ার সাহসই পাচ্ছি না। সাক্ষী কাজী মোহাম্মদ আলী বলেন, হত্যা মামলার সাক্ষী হওয়ার কারণে পরিবার পরিজন নিয়ে এত বছর বাড়ি ছাড়া। বাড়িতে ফিরতে চাইলে চেয়ারম্যান বলছেন আগে মামলা তুলতে হবে তারপর বাড়িতে ফিরতে হবে। কয়েকদিন আগে বাড়িতে ফিরতে চাইলাম। মামলা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত বাড়িতে উঠতে দিবে না বলে আসামিরা হুমকি দিচ্ছে। অপর সাক্ষী কাজী বিল্লাল হোসেন বলেন, প্রায় ৩০ বিঘা জমি আর বাড়ি পড়ে আছে আমাদের। বাড়িতে যেতে পারছি না। উপরন্তু আমাদের জমিতে চেয়ারম্যান ফুটবল খেলার মাঠ বানিয়েছেন।
সূত্র জানায়, এলাকায় সামাজিক বিরোধের জের ধরে জালালের বাবা আব্দুল মজিদের কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে সন্ত্রাসীরা। এই ঘটনার পর থেকে পরিবারটি দেড় মাস পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। ঘটনার দিন জালাল বাড়ি ফেরার সময় প্রতিপরা তাকে অপহরণ করে এবং পিটিয়ে হত্যার পর লাশ রতনাট গ্রামের নির্জন মাঠে ফেলে রাখে। এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, হত্যা নিজেরা করে আমাদের নামে মামলা দিয়েছে। মানুষ যখন জানতে পেরেছে তারা নিজেরাই হত্যা করেছে জনরোষের ভয়ে তারা নিজেরাই বাড়ি থেকে পালিয়েছে। আমরা কাউকে মারিওনি, তাড়াইওনি। এ ব্যাপারে শৈলকুপা থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ওটা আমাদের কোন বিষয় না। কে বাড়ি উঠবে না উঠবে, কে বাড়ি থাকবে না থাকবে সেটা তাদের ব্যাপার।





