হায়দরাবাদের তিন তরুণ তুর্কির কাছে ধোনিদের হার

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ আইপিএলে প্রায়ই দেখা যায় তরুণ প্রতিভাদীপ্ত খেলোয়াড়েরা আলো কেড়ে নেন। শুক্রবার রাতে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে আলো ছড়ালেন তিন তরুণ-প্রিয়ম গার্গ, অভিষেক শর্মা ও আবদুল সামাদ। গার্গ হায়দরাবাদের হয়ে নিজের দ্বিতীয় ইনিংসেই দুর্দান্ত একটি ফিফটি করলেন, শর্মা তার সর্বোচ্চ স্কোর করলেন, সামাদ আস্থার প্রতিদান দিলেন ব্যাটিং-বোলিংয়ে। দুবাইতে এই হায়দরাবাদের কাছে ৭ রানে হেরে গেল চেন্নাই সুপার কিংস। আইপিএলে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার (১৯৪) রেকর্ড গড়ার দিনে পরাজিত অধিনায়ক এমএস ধোনি। আইপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে চ্যাম্পিয়ন মুম্বাই ইন্ডিয়ানসকে হারানোর পর টানা তিন ম্যাচ হারলো ধোনির চেন্নাই সুপার কিংস। ২০১৪ সালের পর তিনবারের চ্যাম্পিয়ন চেন্নাইয়ের এমন বাজে শুরু আর হয়নি। ব্যাটিং ও বোলিংয়ের দৈন্যদশা ঘোচাতে না পারলে প্রথমবারের মতো আইপিএলের প্লে-অফ খেলাই হয়তো হবে না। এদিকে চতুর্থ ম্যাচে দ্বিতীয় জয়ে ভালো জায়গাতেই চলে গেল হায়দরাবাদ।
টসজয়ী হায়দরাবাদ যে ১৬৪ রানের চ্যালেঞ্জ ছুড়তে পারলো চেন্নাইকে তা অনেকাংশেই গার্গের সৌজন্যে। এবার অনূ্র্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে বাংলাদেশের কাছে পরাজিত ভারতের অধিনায়ক ২৬ বলে করেছেন অপরাজিত ৫১। আলো ঝলমলে ইনিংসটি সাজানো ছয় চার ও এক ছক্কায়। দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩১ করেছেন আগের বছর অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলা অভিষেক শর্মা। পঞ্চম উইকেটে এদের দুজনের ৭৭ রানের জুটি দেড়শো রানের কাছে নিয়ে যায় দলকে। অবিচ্ছিন্ন ষষ্ঠ উইকেটে গার্গ ও সামাদের ১৮ রান ১৬৪ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর এনে দেয়। শেষ পর্যন্ত যাতে জয় নিশ্চিত হয়েছে সহজেই। হ্যাঁ, সহজেই। ৭ রানের জয় বোঝাবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। কিন্তু সত্যিটা হলো রান তাড়ায় অর্ধেক পথে পৌঁছেই হার মেনেছে চেন্নাই। ১০ ওভারে ৪ উইকেটে ৪৪ অবস্থায় শেষ ১০ ওভারে ১২১ রান তুলে ম্যাচ জেতা যায় না, জয়ের কাছাকাছি পৌঁছানো যায়। সেটাই হয়েছে। তাও সম্ভব হয়েছে সামাদ শেষ ওভারে ২০ রান দিয়ে ফেলায়। জম্মু ও কাশ্মীরের ১৮ বছর বয়সী সামাদ মূলত ব্যাটসম্যান, মাঝে মাঝে লেগ স্পিন করেন। গত রঞ্জি ট্রফির অন্যতম আলোড়ন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও খুব বেশি বোলিং করেন না। আইপিএলে এ ম্যাচেই তার প্রথম বোলিং। এবং প্রথম ৩ ওভারে ২১ রান ব্যয়ে কেদার যাদবের উইকেটটি তুলে নিয়ে আগেই হায়দরাবাদ অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নারকে খুশি করেছেন।
শেষ চার ওভারে ৭৮ রানের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ৭১ রান করেছে চেন্নাই প্রত্যাশাতীভাবে। তাও ধোনির ব্যাটিং অনেকদিন পর খুলেছে বলে, ৩৬ বলে ৪৭ রান করে অপরাজিত থাকেন। তবে শেষ বলটিতে স্যাম কারেন যেমন লংঅনের ওপর ছক্কা হাঁকিয়েছেন ধোনি-জাদেজার করা উচিত ছিল আগেই। মাঝের ওভারগুলোতে ভীষণ মন্থরগতিতে রান ‍তুলে ওরা দুজনই বিষম চাপে ফেলে দেন দলকে। পুরোনো চিত্রনাট্য অনুসরণে ডট বল দিতে দিতে রানের চাপ বাড়িয়ে শেষ তিন-চার ওভারে গিয়ে ধুন্দুমার হাঁকানো যায় না। জাদেজাই অবশ্য পেসার নটরাজনের বলে সামাদের হাতে ক্যাচ হওয়ার আগে ৫০ করেছেন পাঁচ চার ও দুই ছক্কায়। এতদিন বিদেশি ক্রিকেটারদের ওপর নির্ভরশীল ছিল হায়দরাবাদ। বিদেশিরা নিষ্প্রভ থাকা সত্ত্বেও স্বদেশি তিন তরুণ তুর্কি এ ম্যাচ জিতিয়ে হায়দরাবাদের জন্য ভবিষ্যতের এক উজ্জ্বল ছবিই যেন আঁকলেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
হায়দরাবাদ: ২০ ওভারে ১৬৪/৫(গার্গ ৫১*, শর্মা ৩১ পান্ডে ২৯, ওয়ার্নার ২৮, চাহার ২/৩১, চাওলা ১/২০, ঠাকুর ১/৩২) ও চেন্নাই: ২০ ওভারে ১৫৭/৫(জাদেজা ৫০, ধোনি ৪৭*, ডু প্লেসি ২২, কারেন ১৫*, নটরাজন ২/৪৩, ভুবনেশ্বর ১/২০, সামাদ ১/৪৩)