নাভারণ ফজিলাতুননেছা মহিলা ডিগ্রী কলেজ: বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহারের পরও বেতন পাচ্ছেন না প্রদর্শক আব্দুল ওয়াহিদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর শার্শার নাভারণ ফজিলাতুননেছা মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ উচ্চ আদালতের আদেশ মানছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি আদালতের আদেশের ভিত্তিতে কলেজের পদার্থ বিজ্ঞানের প্রদর্শক আব্দুল ওয়াহিদ মেহেদীর সাময়িক বহিস্কার আদেশ প্রত্যাহার করলেও তার সরকারি-বেসরকারি যাবতীয় পাওনা পরিশোধের কোন ব্যবস্থা নেননি। এদিকে আব্দুল ওয়াহিদ মেহেদী দীর্ঘদিন বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আব্দুল ওয়াহিদ মেহেদী অভিযোগ করেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ টাইম স্কেলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে ৬ বছর ধরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। এ ঘটনায় বার বার কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে ধর্ণা দিয়ে কোন ফল না পাওয়ায় তিনি উচ্চ আদালতে পিটিশন দাখিল করেন। আদালত তার বহিস্কার আদেশ প্রত্যাহারসহ সরকারি-বেসরকারি যাবতীয় পাওনা পরিশোধের আদেশ দেন। কলেজ কর্তৃপক্ষ আব্দুল ওয়াহিদ মেহেদীর সাময়িক বহিস্কার আদেশ প্রত্যাহার করলেও তার যাবতীয় পাওনা পরিশোধের কোন ব্যবস্থা নেয়নি। বিষয়টি নিয়ে আপস রফা করার জন্য অধ্যক্ষের প্রতিনিধি কলেজের মার্কেটিং বিভাগের প্রভাষক আব্দুল শুকুর ওয়াহিদ মেহেদীর সাথে কয়েকদফা বৈঠক করেও কোন নিস্পত্তি হয়নি। এ সময় প্রভাষক আব্দুল শুকুর প্রদর্শক ওয়াহিদ মেহেদীকে সাফ জানিয়ে দেন সরকারি-বেসরকারি কোন পাওনা পরিশোধ করা হবে না। এদিকে চাকুরি ফেরত পাওয়ার সংবাদে তার বাসায় ভিড় করছেন পাওনাদাররা। অনেক পাওনাদার টাকা না পেয়ে ওয়াহিদ মেহেদীর সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণও করেন। ফলে তিনি অসহায় হয়ে পড়েন। ওয়াহিদ মেহেদী আরও জানান, কলেজের শর্ত ও পাওনাদারদের চাপসহ নানা কারণে নির্ধারিত তারিখে কলেজে যোগদান করতে পারেননি। পরে তিনি যোগদানপত্র দিলেও তা নিয়ে কলেজ অধ্যক্ষ তালবাহানা শুরু করছেন। তিনি একেক সময় একেক আইন করছেন। ওয়াহিদ মেহেদীর এমপিও বাতিল করার জন্য অধ্যক্ষ তার অনুগত শিক্ষকদের দিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় উচ্চ আদালতের আদেশের কারণে কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি। ওয়াহিদ মেহেদী এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ ব্যাপারে নাভারণ ফজিলাতুননেছা মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ লায়লা আফরোজ বানু বলেন, উচ্চ আদালতের আদেশ পাওয়ার পর ওয়াহিদ মেহেদীর সাময়িক বহিস্কার আদেশ প্রত্যাহার করে তাকে তিনবার পত্র দেয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি নির্ধারিত সময়ে যোগদান করেননি। যোগদান না করে তিনি কীভাবে বেতন দাবি করেন।

ভাগ